ঢাকা, বুধবার 25 April 2018, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কলাপাড়ায় খালে বাঁধ দিয়ে দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন

কলাপাড়া (পটুয়াখালী): বালিয়াতলী ইউনিয়নের সেখাউ খাল বাঁধ নিয়ে দখল করার প্রতিবাদে শত শত কৃষক পরিবার শুক্রবার সকালে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছে

কালাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের সেখাউ খাল বাঁধ দিয়ে দখল করার প্রতিবাদে খালের দুই পাড়ের শত শত কৃষক পরিবার শুক্রবার সকালে প্রায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন  করেছে। কৃষক পরিবারের অভিযোগ প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটিতে অন্তত পাঁচটি বাঁধ দেয়ায় খালের দুই পাড়ের কৃষকের বোরো ক্ষেতে সেচ দিতে পারেনি। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের ফসলসহ রবিশস্য।
খালের পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কোন গরিব মানুষ পর্যন্ত খালে ঝাকি জাল দিয়েও মাছ ধরতে পারছেনা। স্থানীয় ইউসুফ আলী ও আলতাফ হোসেন সরকারি এই খালে একাধিক বাঁধ দিয়ে দখল করে রেখেছে। এমনকি ওই বাঁধ কেটে দেয়ার জন্য চাপ দিলে খালকে নিজেদের মাছের ঘের দেখিয়ে মাছ চুরির মিথ্যা মামলা পর্যন্ত করা হচ্ছে। এসব নিয়ে এখন সোনাপাড়া, পক্ষিয়াপাড়া, নলবুনিয়া, তুলাতলী, পুর্ব সোনাপাড়ার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালটির দুই পাড়ে হাজারো কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের বসবাস। খালটির পানির ওপর নির্ভর করে অন্তত অর্ধশত চাষী বোরো চাষসহ শত শত একর জমিতে রবিশস্যের আবাদ করেছেন অনেক কৃষক। খালটিতে সরকারিভাবে অর্ধকোটি টাকার বেশি ব্যয় করে দু’টি ব্রিজ ও দুইটি কালভার্ট করা হয়েছে। ইউপি মেম্বার বাদল চাকলাদার জানান, খালটিতে অন্তত পাঁচটি বাঁধ দিয়ে ইউসুফসহ কয়েকজনে বাঁধ দিয়ে জবরদখল করে রেখেছে। কৃষক সালাম হাওলাদারের জানান, খালের পানি কাউকে ওই প্রভাবশালী মহল ব্যবহার করতে দেয়না। একাধিক কৃষক জানান, এই খালটি দুই বছর আগে সরকারিভাবে পুনঃখনন করার পরে ১২ মাস মিঠাপানি থাকছে। আমতলীর বড় খালের সঙ্গে সংযোগ থাকলেও  বাঁধ দেয়ার কারণে পানি প্রবেশ করানো যায়না। ফলে এবছর বোরোর আবাদ করলেও কৃষক রাখাইন অংসে মাদবর, সফেজ সিকদার, বামোসে মং, শামসুল হক, বাবুল হাওলাদার, সুন্দর আলী, জাকির হোসেন, হাতেম আলী হাওলাদার, রাজ্জেক তালুকদার, নিজাম তালুকদার, জলিল হাওলাদার, সত্তার হাওলাদারসহ অনেকের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এলাকার কৃষকরা খালটি দখলমুক্ত করার দাবি জানান। দরিদ্র চল্লিশোর্ধ গৃহবধু শামসুন্নাহার জানান, খালে ঝাকি জাল দিয়ে মাছ ধরে সাতজনের সংসারের যোগান দিচ্ছিলেন তার স্বামী। এখন তাও পারেন না। দখলদাররা মাছ ধরতে দেয় না। আমরা নাইতে পর্যন্ত পারিনা। খালে কাডা দিয়া রাখছে। এসব মানুষ এখন চরম সঙ্কটে পড়েছেন। ব্যবহারের পানিও মিলছেনা। মানুষ  দখলদারদের কবল থেকে মুক্তি চেয়েছেন। এছাড়া এই খাল দখলে বাধা দেয়া এবং প্রতিবাদ করায় দায়েরকৃত মামলাও প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবির জানান, সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে তিনি উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, খাল দখলদার যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ