ঢাকা, বুধবার 25 April 2018, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুমারখালীতে গম চাষে ভালো ফলনে চাষীদের মুখে হাসি

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অনুকূল আবহাওয়া আর রোগ-বালাইমুক্ত পরিবেশ বিরাজ করায় চলতি মওসুমে এবার গম আবাদে ভালো ফলন হওয়ায় বেশ খুশি চাষীরা।
উপজেলা কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোটা উপজেলাতে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রবি-মৌসুমী ফসল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১হাজার ১শত হেক্টর নির্ধারণ করলেও তা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১শত ১২হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী আবাদ হয়েছে যৌথভাবে উপজেলার চরসাদিপুর ও চাঁদপুর ইউনিয়নে ১৪৫ হেক্টর করে। এছাড়া শিলাইদহে ৭৬, কয়া ইউনিয়নে ৫৫, জগন্নাথপুরে ১১০, সদকী ইউনিয়নে ৯০, নন্দলালপুরে ৭০, চাপড়া ইউনিয়নে ৫৫, যদুবয়রায় ১৩০, বাগুলাট ইউনিয়নে ১০০, চরসাদিপুরে ১৪৫, পান্টি ইউনিয়নে ১৩০, চাঁদপুরে ১৪৫ এবং পৌরসভা এলাকায় ৬ হেক্টর জমিতে গম আবাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ২/৩ এলাকায় দেখা দিয়েছে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। এবারে উপজেলার কৃষকেরা বপন করেছে প্রদীপ, শতাব্দী, বিজয়, বারিগম-২৬, বারিগম-২৭ তাপ-সহনশীল জাতের গম। এগুলোর মধ্যে এবারে সবচেয়ে বেশী আবাদ হয়েছে প্রদীপ জাতের গম।
কুমারখালী উপজেলা কৃষি-কর্মকর্তা বলেন, গম উৎপাদনে উপজেলার কৃষকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দিপনা লক্ষণীয় ছিল। গত ২ বছর আগে হঠাৎ ব্ল¬াষ্ট (ভাইরাস) রোগের কারণে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়ায় চাষাবাদ এবারেও তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। তবে এবারে রোগ-বালাইমুক্ত পরিবেশ আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। ফসল ঘরে ওঠা পর্যন্ত তেমন কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা না দেয়ায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বর্তমানে গম কাটা ও মাড়াই কাজে বেশ ব্যাস্ত চাষীরা। অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে পিয়াজও তুলতে তাদের একদম সময় নেই। গম কেনার জন্য ব্যাপারীরা চাষীর বাড়ী ঘুরছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতি মণ গম ৮শত থেকে ৯শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষীরা বেশ খুশি।
উপজেলা কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল হক বলছেন, রবি মৌসুমে বিভিন্ন শষ্যাদি আবাদ হলেও গম আবাদে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনা ছিল লক্ষ্যণীয়। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় ফসলের মান ভালো হয়েছে। ফসল ঘরে ওঠা পর্যন্ত তেমন কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হওয়ায় ২/৩ ইউনিয়নে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি উপকরণের ক্রয়মূল্য কম থাকলে এবং উৎপাদিত ফসলের বাজার মূল্য কাঙ্খিতভাবে পেলে আগামীতে আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে।
কৃষকেরা বলছেন, ভালো জাত আবাদ এবং আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় আবাদ ভালো হয়েছে। মৌসুম শুরুর আগে থেকেই বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করলে আশানূরুপ আরো বেশি দাম পাওয়া যেত বলে কয়েকজন চাষী জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ