ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চীনের অংশ হয়ে থাকতে পারে তিব্বত: দালাই লামা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:বিশেষ কিছু শর্তের বিনিময়ে তিব্বত অঞ্চলটি চীনের অংশ হয়ে থাকতে পারে বলে মত দিয়েছেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক গুরু দালাই লামা।আর সেই শর্তগুলো হচ্ছে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সুবিধার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বায়ত্ব শাসন।

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক বক্তৃতায় দালাই লামা এই মত প্রকাশ করলেন।তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে তিব্বত সবসময় স্বাধীন ছিলো। ১৯৫০ সালে চীন এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়, যাকে তারা বলছে শান্তিপূর্ণভাবে স্বাধীন করা। চীনের সংবিধান যতদিন আমাদের সংস্কৃতি এবং তিব্বত স্বশাসিত অঞ্চলের বিশেষ ইতিহাসকে স্বীকৃতি দেবে ততদিন অঞ্চলটি চীনের সঙ্গে থাকতে পারে।’

১৯৫৯ সালে চীনের সেনাবাহিনী তিব্বতের বিচ্ছিন্নতাবাদি নেতাদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান শুরু করার পর দালাই লামা ভারতে এসে আশ্রয় নেন এবং তারপর থেকে গত ছয় দশক ধরে ভারতেই অবস্থান করছেন।

তিব্বতের স্বাধীনতার ইস্যুতে দীর্ঘ ৬ দশক নির্বাসিত থাকার পর এখন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে কার্যত চীনের সমর্থনেই সুর বাঁধলেন বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাই লামা। 

দালাই লামা জানিয়েছেন, ‘যা ঘটে গিয়েছে তা পুরোনো, আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে চলতে হবে। ’ তিব্বতীরা চীনের সঙ্গে থাকতে চান বলেই এদিন নিজের বক্তব্যে তিনি জোর দেন। একধাপ এগিয়ে দালাই লামা জানান, ‘আমরা স্বাধীনতা চাই না ... আমরা চীনের সঙ্গে থাকতে চাই। আমরা আরও উন্নয়ন চাই। ’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে চীন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বদলে গিয়েছে। ’ এছাড়াও তিনি ইন্দো-চীন সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন ভারতের দরকার চীনকে, চীনেরও দরকার ভারতকে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তিব্বতের স্বাধীনতার লড়াইতে যাঁকে মূলস্তম্ভ মানা হয়, সেই দালাই লামা চীনের সেনা হামলা এড়িয়ে ১৯৫৯ সালে ভারতে চলে আসেন তিব্বত থেকে। চীনের তুমুল হুঙ্কার হুমকি সত্ত্বেও যাবতীয় নিরাপত্তা দিয়ে দালাই লামাকে সেই সময় থেকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। এ যাবৎকাল দালাই লামা ইস্যুতে ভারতকে কূটনৈতিকভাবে কটাক্ষও করেছে চীন। কিছুদিন আগে দালাই লামার উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতে সফর নিয়েও দিল্লিকে হুমকির সুর শুনিয়েছে বেইজিং। কিন্তু এত ঘটনার পর, তাঁর ভারতে আশ্রয় নেওয়ার এতদিন বাদে দালাই লামার এই ধরনের ইউটার্ন-এর নেপথ্যের কারণ খোঁজার চেষ্টা করছেন রাজনীতি বিশেশজ্ঞরা।

চীন বিশেষজ্ঞ কোনদাপালি এই পত্রিকাকে বলেন, ‘আসলে দালাই লামা অনেকদিন ধরেই এ কথা বলছেন। তবে, এখন অনেকটা সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্টভাবে। এ মাসেই চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই দালাই লামার বক্তব্য বেশ সহায়ক হবে। সম্প্রতি আমরা দেখতে পাচ্ছি যে চীনের ব্যাপারে ভারত তার আগ্রাসী সুর নরম করেছে। সে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।’

‘বৈশ্বিক শান্তি ও সংহতি জোরদারে নৈতিকতা ও সংস্কৃতির ভূমিকা’ শীর্ষক ওই লেকচারে দালাই লামা প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেন।

তিনি বলেন, কীভাবে প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু করা উচিত। বিশ্বের সমস্যাগুলো নিরসনে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রাচীন ঐতিহ্যকে সমন্বয়ের ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। এটা ভারতকে সন্ত্রাসবাদ ও বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করবে।

তিব্বতের এই নেতাকে রাজনৈতিক আশ্রয়দানের জন্য বেইজিং প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অরুনাচল প্রদেশে দালাই লামার সফর দুই দেশের বিরোধের অন্যতম বিষয় হিসেবে বিরাজ করছে। তবে, ভারত বলছে যে দালাই লামা হলেন একজন আধ্যাত্মিক নেতা। তাই তার ভারতের যে কোন অংশে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ