ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 April 2018, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিদেশীরা সবচেয়ে বেশি বিক্রি করেছেন ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার

সংগ্রাম রিপোর্ট : দেশের ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ বন্ধের খবর নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার মতো। যার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। গত মাসে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি বিক্রি করেছে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার। এক মাসের ব্যবধানে এ ব্যাংকের বিদেশী বিনিয়োগকারীরা তাদের মোট শেয়ারের এক শতাংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। আর এক মাসের ব্যবধানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ব্যাংকের তিন কোটি ৭১ লাখ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে এতে বিনিয়োগকারীদের ভীত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকসহ ছয়টি ব্যাংকের বেশ কিছু শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। ফলে এসব ব্যাংকের বিদেশীদের শেয়ার ধারণ কমেছে। তবে চার ব্যাংকে তাদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। মার্চ শেষে বিদেশিদের বিনিয়োগ নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকে বিদেশিদের বিনিয়োগ নেই। বাকি ২৫টি ব্যাংকের শেয়ারে বিদেশিদের বিনিয়োগ রয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিদেশিদের কাছে ব্যাংকের শেয়ারের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ। মার্চ মাসে এসে তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪২ কোটি ৭৯ লাখে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ব্যাংকের তিন কোটি ৭১ লাখ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা।
ফেব্রুয়ারিতে তালিকাভুক্ত ২৫টি ব্যাংকের শেয়ারে বিদেশিদের বিনিয়োগ ছিল পাঁচ হাজার ৭৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বর্তমানে সে বিনিয়োগের পরিমাণ নেমে এসেছে পাঁচ হাজার ৭২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকায়। সে হিসাবে মোট বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ২৪ কোটি টাকা।
বিদেশিরা সবচেয়ে বেশি বিক্রি করেছেন ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার। এক মাসের ব্যবধানে তারা ব্যাংকটির এক শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দিয়েছেন। বিদেশিদের বিক্রি করে দেয়া এ শেয়ারের সংখ্যা প্রায় ৪৩ কোটি ১৫ লাখ। ফেব্রুয়ারিতে বিদেশিদের কাছে ইসলামি ব্যাংকের শেয়ারের পরিমাণ ছিল ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। মার্চে এসে তা কমে ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্য পাঁচটির মধ্যে রয়েছে- ওয়ান ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। এছাড়া সিটি ব্যাংকের দশমিক ৫৫ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকের দশমিক ৩৮ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দশমিক ২১ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকের দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং আইএফআইসি ব্যাংকের দশমিক শূন্য ১ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন বিদেশীরা।
বিনিয়োগ বাড়ানো চার ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে দশমিক ৯১ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংকে দশমিক ৪৯ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকে দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকে দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শেয়ার নতুন করে কিনেছেন বিদেশিরা।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিদেশিদের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারে। ব্যাংকটিতে বিদেশিদের প্রায় তিন হাজার ১৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটিতে বিদেশিদের প্রায় এক হাজার ১৩৭ কোটি ৮১ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোতে বিদেশিদের যে বিনিয়োগ আছে তার ৭৫ শতাংশই আছে এই দুই ব্যাংকে। বাকি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিদেশিদের ১০০ কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগ রয়েছে সিটি ব্যাংকে প্রায় ৪১৯ কোটি, সাউথ ইস্ট ব্যাংকে ১১৪ কোটি, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১০৯ কোটি এবং ওয়ান ব্যাংকে ১০৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া চারটি ব্যাংকে রয়েছে ৫০ কোটি টাকার উপরে। সেগুলো হলো এক্সিম ব্যাংকে ৮৯ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকে ৮৭ কোটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ৮৬ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংকে ৮৩ কোটি টাক। এ ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগ রয়েছে ৫০ কোটি টাকার নিচে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। এর অন্যতম কারণ হলো সরকারের নির্দেশনায় ব্যাংকের সিআরআর কমানো। গত মাসে বিদেশীরা কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে এটা সত্য কিন্তু তার পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়। এতে বিনিয়োগকারীদের খুব একটা ভয়ের কিছু আছে বলে মনে হয় না। 
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে পত্র-পত্রিকায় একটু বেশি লেখা-লেখির কারণে এ ব্যাংকের শেয়ার বিদেশীরা বেশি বিক্রি করে থাকতে পারে। এছাড়া ব্যাংটির শেয়ার বিক্রির পরিমাণ বাড়ার আরেকটি কারণ হতে পারে ব্যাংকটির পারফরমেন্স কমে যাওয়া। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের নিয়মই হলো দাম বাড়লে বিক্রেতা বেড়ে যাবে। শেয়ারের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতা কমে গেছে এ কারণেই বাজারে দরপতন হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ