ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 April 2018, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন একমাত্র লক্ষ্য

বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল বুধবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির একাংশ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। মাবনবন্ধন থেকে অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বলা হয়, সরকার যদি খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে তালবাহানা বন্ধ না করে তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীতে কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পূর্বঘোষিত এক ঘন্টার মানবন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন একমাত্র লক্ষ্য বলে ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা জানি এই সরকার কেনো দেশনেত্রীকে আটকিয়ে রেখেছে। এর একটি মাত্র কারণ হচ্ছে যে, তারা (সরকার) খুব আতঙ্কিত যদি খালেদা জিয়া বাইরে থাকেন তাহলে গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনকে কোনোমতেই প্রতিরোধ করতে সফল হবে না এবং তারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকতে পারবে না। আজ এই অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ থাকা। আমরা বলতে চাই, আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন করতে হবে এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। আমরা মুক্তি চাই, অবশ্যই তাকে মুক্ত করে আনতে হবে। তার মুক্তি আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রীকে মুক্ত করবার জন্যে, দেশের মানুষের অধিকার ফিরে পাবার জন্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। এই মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে আমরা গোটা দেশের মানুষ ও সরকারকে জানাতে চাই, যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। আমরা আবারো সকল রাজনৈতিক দল ও দলমতনির্বিশেষে সকলকে গণতন্ত্রকে মুক্তি করবার জন্য ঐক্যদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি।
একাদশ নির্বাচন সম্পর্কে ফখরুল বলেন, আজকে সরকার নির্বাচনের বলছে। আমরা বলতে চাই নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে, নির্বাচন করতে হলে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে, নির্বাচন নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচন করতে হলে আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তাহলেই লেভেল প্লেয়িং ফিন্ডের অবস্থা তৈরি হবে।
তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে। আমরা গতকালও (মঙ্গলবার) বলেছি, আজকে বলছি, এই বির্তক সৃষ্টি করে তারা নিজেরাই নিজেদের গহবরে পড়েছেন। কারণ কোনো মতেই ব্রিটিশ আইনের মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেয়ার সাথে নাগরিকত্ব বর্জন দেয়ার কোনো কারণ নেই এবং নাগরিকত্ব কখনো কেউ বর্জন দেয় না। সবসময় এটা রেখেই যে কেউ রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে। অথচ এটাকে তারা(সরকার) মিথ্যা কথা বলে আবারো মিথ্যা প্রচার করছে। তারেক রহমান কোনো মতেই নাগরিকত্ব বর্জন করেননি। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, তিনি এই দেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
কারাগারে প্রতিদিনই খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বাড়ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে। মঙ্গলবার তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন। তখন আমরা জানতে পেরেছি খালেদা জিয়া এতোই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন যে দ্বিতীয়তলা থেকে নিচতলায় নামতে পারেননি। আমরা বারবার বলছি, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে বিশেষায়ীত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হোক। বিশেষ করে ইউনাইটেড হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, তার যে ধরনের পরীক্ষা বা এমআরআই করা দরকার তা অন্য হাসপাতালে করা সম্ভব নয়। একমাত্র ইউনাইটেড হাসপাতালে এর ব্যবস্থা আছে। তার দুই হাঁটুতে মেটাল প্রতিস্থাপন করা আছে। সে কারণ অন্য কোথাও তার এমআরআই করানো সম্ভব না।
তিনি বলেন, এতবার বলার পরও খালেদা জিয়াকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তার পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপর তার কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সরকার।
স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য আগামী সংসদ নির্বাচনে দেশনেত্রীকে বাইরে রেখে, বিএনপিকে বাইরে রেখে ২০১৪ সালের মতো একটি পাতানো খেলা করতে চায়। আমরা বলতে চাই, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে জনগণকে প্রতারণা করা হয়েছে। এরকম প্রতারণা আর করা যাবে না। আগামী নির্বাচন অবশ্যই নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করে সংসদ ভেঙে দিয়ে করতে হবে। এর আগে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। দেশনেত্রীকে ছাড়া আগামী কোনো নির্বাচন এদেশে হতে দেয়া হবে না।
মির্জা আব্বাস বলেন, এই সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণ, ফ্যাসিবাদী আচরণ করে যাচ্ছে। সকলকে এই সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যার যার এলাকাতে আপনারা নিজেরা সংগঠিত হোন। একটা সময় আসবে যখন গণজোয়ারে এই সরকার ইনশাল্লাহ ভেসে যাবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা তারেক রহমানের নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলছে, যারা তারেক রহমান পরিচয়পত্রের প্রশ্ন তুলছে তাদের পরিষ্কার করে বলতে চাই, তারেক রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বড় দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমান ও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে। আজকে যারা ভোটবিহীন অবৈধ সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন, ভোটারবিহীন সংসদের সংসদ সদস্য হয়েছেন তাদের পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন আছে, তারেক রহমানের পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন নেই।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকাল ১১টা থেকে ১১ টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত এই মানববন্ধন কর্মসূচি হয়। রাজধানী ছাড়াও সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে এই কর্মসূচি হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের সাজায় খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হওয়ার পর ১২ ফেব্রয়ারি ও ৮ মার্চও বিএনপি এরকম মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলো।
নয়া পল্টন সড়কের অতিশ দীপঙ্কর গলি থেকে পল্টন মসজিদ পর্যন্ত কার্যালয়ের পাশের সড়কে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ফুটপাত ও সড়কের সামনে দাঁড়িয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। নেতা-কর্মীরা ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই, ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ ইত্যাদি শ্লোগান দেয়।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত ২২ এপ্রিল বিএনপি ৭দিনের যে কর্মসূচি শুরু করেছে এটি তার তৃতীয় দিনের কর্মসূচি। মানববন্ধনের এই কর্মসূচি উপলক্ষে সকাল থেকে বিএনপি কার্যালয়ের আশে-পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
মানববন্ধনে কর্মসূচিতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল নোমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জয়নুল আবদিন ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এই মানববন্ধনে বিএনপির মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল মান্নান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শিরিন সুলতানা, কামরুজ্জামান রতন, মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নাজিমউদ্দিন আলম, আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, আমিরুজ্জামান শিমুল, বজলুল করীম চৌধুরী আবেদসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছিলেন।
অঙ্গসংগঠনের মধ্যে নেতাদের মধ্যে মহানগর দক্ষিণের হাবিবুর রশীদ হাবিব, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসীন আলী, জাসাসে শাহিনুল ইসলাম শায়লা, ছাত্র দলের মামুনুর রশীদ, আকরামুল হাসান, উলামা দলের এম এ মালেক, শাহ নেসারুল হক প্রমুখ নেতবৃন্দ ছিলেন।
মানববন্ধনের এই কর্মসূচি উপলক্ষে সকাল থেকে নয়া পল্টনের অফিসের দুই পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের সাজায় খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী হওয়ার পর ১২ ফেব্রয়ারি ও ৮ মার্চ দুই দফায় ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি করে। এটি তৃতীয় দফার মানববন্ধন কর্মসূচি যা ঢাকাসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরেও হচ্ছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি ৭দিনের ঘোষিত কর্মসূচির এটি তৃতীয়। শুক্রবার ঢাকাসহ সারাদেশে মসজিদে মসজিদে বাদ জুম্মা দোয়া মাহফিল হবে।
রাজশাহী অফিস : বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক সাজা বাতিল এবং খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় মহানগর বিএনপি’র, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
নগরীর মালোপাড়াস্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি’র মহানগর সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বাগমারার সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর ও জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী। সভাপতি বক্তব্যে বুলবুল বলেন, গণতন্ত্রের মানসকন্যা দেশনেত্রী বেমগ খালেদা জিয়া জেলে থাকলেও বিএনপি’র মধ্যে কোন বিভেদ নাই। বিএনপি এখন পূর্বের তুলনায় আরো শক্তিশালী ও একতাবদ্ধ। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে সরকারের ভিত নড়ে উঠেছে। জন¯্রােতের তোড়ে ভেসে যাওয়ার ভয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জাল পার্সপোর্ট প্রদর্শন করে তার নাগরিকত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করে দেন।
জেলা বিএনপি : এদিকে বিএনপির চেয়্যারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজশাহী জেলা বিএনপির উদ্যোগে গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর ভেড়িপাড়া এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু। উপস্থিত ছিলেন, বি.এন.পি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সদ্য কারামুক্ত নেতা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মন্টু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তয়াল, শামীমুল ইসলাম মুন, আলাউদ্দিন আলো, যুগ্ম সম্পাদক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ।
চট্টগ্রাম ব্যুরো : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল বুধবার সকাল ১০টায়  নুর আহমদ সড়কে মানববন্ধন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইসহাক কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এম.এ হালিম, অধ্যাপক ইউনুচ চৌধুরী, চাকসু ভিপি মোঃ নাজিম উদ্দিন। সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এড. আবু তাহেরের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, মোঃ আজম খান,আলহাজ্ব সেকান্দর চৌধুরী, ড্যাব নেতা ডা. খুরশিদ জামিল, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, কাজী সালাহ উদ্দিন, সোলায়মান মঞ্জু, তোফাজ্জল হোসেন, মো. মাহবুব ছাফা, সালাহ উদ্দিন চেয়ারম্যান, জাকির হোসেন, আতিকুল ইসলাম লতিফী, নবাব মিয়া চেয়ারম্যান, মো. আবু সিদ্দিক, মুসলিম উদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ মোস্তফা আলম মাসুম, মো. ফজলুল হক, মো. আলমগীর, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. রহমতউল্লাহ, সৈয়দ মো. মহসিন, ডা. কমল কদর, মো. আজিজ উল্লাহ, মো. ওসমান গনি, সরোয়ার জাহান পুতুল, মির্জা মোঃ রাশেদ, মো. সালাউদ্দিন সহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, বাক-স্বাধীনতা পূর্বে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটার বিহীন নির্বাচন করে বাংলাদেশের জনগণকে ধোকা দিয়ে বর্তমানে ডিজিটাল বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে একদলীয় এবং গৃহপালিত বিরোধী দলের সংসদ গঠন করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগণের মৌলিক ভোটাধিকারকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে বর্তমান অবৈধ সরকার ক্ষমতা দখল করে আছে, এবং আবারো ক্ষমতা দরে রাখার জন্য নীল নক্শা করে যাচ্ছে।
সিলেট ব্যুরো : সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন- একটি নির্জন কারাগারে আটকে রাখার ফলে বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সরকার তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত করছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ায় কারণেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ, অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার দুপুরে কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ কথা বলেন।
সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলা ও মহানগর বিএনপি ছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, জাসাস ও ওলামা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, জেলা সহ-সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার, মহানগর সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন, সহ-সভাপতি ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের আহবায়ক সালেহ আহমদ খসরু, মহানগর সহ-সভাপতি সিসিক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা সহ-সভাপতি শাহজামাল নুরুল হুদা, সহ-সভাপতি একেএম তারেক কালাম, মহানগর সহ-সভাপতি আমির হোসেন, জেলা সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত্ চৌধুরী সাদেক, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহমদ মাসুক, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী ও মো: ময়নুল হক প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা : বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের নেতৃত্বদেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চুয়াডাঙ্গা জেলা আহবায়ক কমিটির এডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা ও সদস্য শরীফুজ্জামান শরীফ। বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা রেজাউল করিম মুকুট ও শহিদুল ইসলাম রতন।
মেহেরপুর সংবাদদাতা : মেহেরপুরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বিএনপি। গকাল সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে শহরের সাহাজিপাড়স্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। নেতৃত্ব জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ। বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, আব্দুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ দলীয় নেতারা। মাসুদ অরুণ বলেন, গুম খুনের মাধ্যমে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে সরকার। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার  করছেন তারা।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের সাজা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও আলোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখা। বুধবার বিকেলে শহরের শহীদ ডা. জিকরুল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
পরে দলীয় কার্যালয়ে এসএম ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রামানিক, জেলা বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক আব্দুল খালেক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম জনি, জেলা বিএনপি’র যুব বিষয়ক সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত হায়াত শাহ, বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ আলম গুড্ডু, ছাত্রদলের সভাপতি আর এ পাপ্পু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন. দেশনেত্রী বেগম খালেদা অসুস্থ, সরকারকে এর দায়ভার নিতে হবে। অবিলম্বে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং তারুণ্যদিপ্ত নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অবৈধ সাজা অবিলম্বে প্রত্যাহারের করতে হবে।
নওগাঁ সংবাদদাতা : বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শর্তহীন মুক্তির দাবীতে নওগাঁয় জেলা বিএনপির মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শহরের নওজোয়ান মাঠের সামনের সড়কে ঘন্টাকাল ব্যাপী এ মানব বন্ধন কর্মসুচী পালিত হয়। মানব বন্ধন চলাকালে অন্যান্যের মধ্যে  জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, যুগ্ম সম্পাদক ও স্বৈবাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক আমিনুল হক বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন ও শফিউল আজম ওরফে ভিপি রানা,শহর বিএনপির আহবায়ক নাছির উদ্দীন আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মাষ্টার হাফিজুর রহমান, জেলা মৎসজীবি দলের সভাপতি আমিনুর রহমান বিন্টু, জেলা যুবদলের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন পলাশ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রমুখ নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অবিলম্বে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলায় শর্তহীন মুক্তির দাবী জানান।
বগুড়া অফিস : বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত  মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বগুড়া জেলা বিএনপি। কর্মসূচীতে দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। বিএনপির দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১১টায় বগুড়া শহরের নবাববাড়ী রোডে জেলা বিএনপির উদোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য দেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী আজগর হেনা, লাভলী রহমান, কেএম মাহবুবর রহমান হারেজ, মাহবুবর রহমান বকুল, রেজাউল করিম বাদশা, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, মেহেদী হাসান হিমু, আব্দুল ওয়াদুদ, অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা পপন, পরিমল চন্দ্র দাস, তাহা উদ্দিন নাহিন, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা : কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মিরা। বুধবার জাহাজমোড়ে ঘন্টাব্যাপি এ কর্মসূচি পালিত হয়।
 জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আমজাদ হোসেন এর সভাপতিত্বে  বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহি কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব,সাংগঠনিক সম্পাদক নুর ইসলাম নুরু, দফতর সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল সহ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা অবিলম্বে বেগম জিয়াকে  মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ