ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 April 2018, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মেয়র প্রার্থী তালুকদার খালেকের ৩১ দফা ইশতেহার ঘোষণা

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশন ( কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহারে জলাবদ্ধতামুক্ত আধুনিক পরিচ্ছন্ন নগর গড়া এবং সর্বাধিক নাগরিক সুবিধা ও সেবাকে প্রধান্য দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহার ঘোষণার পর সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তালুকদার আব্দুল খালেক জানান, কেসিসির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হলেও নির্বাচিত হয়ে তিনি সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চান। তা হলে কেসিসি ও ওয়াসাসহ নগরীর উন্নয়নে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন,‘ইজিবাইকে চাঁদাবাজী অব্যাহত রয়েছে। সব ধরণের চাঁদাবাজী বন্ধসহ মাদক নির্মূলে তিনি ভূমিকা পালন করবেন। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সহযোগিতা পেলে এ শহর থেকে ৬ মাসের মধ্যে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।’
তালুকদার আব্দুল খালেক ঘোষিত ইশতেহারের ৩১ দফা হচ্ছে-সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ, পরিকল্পনা গ্রহণে পরামর্শক কমিটি গঠন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়ে সেবা বৃদ্ধি, কবরস্থান ও শ্মশান ঘাটের উন্নয়ন, মাদকমুক্ত নগর গড়ে তোলা, নতুন আয়ের উৎস সৃষ্টি, সিটি সেন্টার গড়ে তোলা, বিনামূল্যে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি, গুরুত্ব বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়ন, পার্ক-উদ্যান নির্মাণ ও বনায়ণ সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানো, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে রাস্তার নামকরণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্রীড়া উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ, সোলার পার্ক আধুনিকায়ন, বধ্যভূমিগুলোর স্মৃতি সংরক্ষণ, কেসিসিকে দুর্নীতিমুক্ত করা, যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদান, সুইমিং পুল স্থাপন, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তা প্রদান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ, নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে আরও উদ্যোগ গ্রহণ, তিনটি নতুন থানা পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা, আধুনিক কশাইখানা নির্মাণ, খালিশপুর ও রূপসা শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন, ওয়াসা, কেডিএ, রেলওয়ে, টেলিকমিউনিকেশন ও বিদ্যুৎ পরিসেবার উন্নয়ন এবং খুলনা মহানগরী সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ।
সম্মেলনে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘২০০৮ সালে সিটি মেয়র হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই সময়ের মহাজোট সরকারের আমলে কেসিসির সর্বাধিক এক হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পাওয়া গিয়ে ছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন খাতে প্রায় দুইশ’ ৭৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছিল। অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা পেয়েছিল। ২০১৬ সালের মধ্যে সব উন্নয়ন কাজ পর্যায়ক্রমে শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সঙ্গত কারণে তা সম্ভব হয়নি। পুনরায় নির্বাচিত হলে আমার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে শেষ করা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ নগরবাসীকে অধিক সেবা দিতে ও নিজেকে সম্পৃক্ত করতে তিনি আগ্রহী।
এ সময় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শেখ হারুনুর রশীদ, সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কাজি আমিনুল হক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শেখ সোহেল, মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মকবুল হোসেন মিন্টু, সাবেক এমপি সোহরাব আলী সানাসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আবারও আচরণবিধি লংঘন : আবারও আচরণবিধি লংঘন করেছেন খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। নিজস্ব প্রাইভেট গাড়িতে নৌকা প্রতীকের পোস্টার লাগিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন তিনি। তার এই আচরণ কেসিসি নির্বাচন বিধিমালার ৮ (৮) ধারার সুষ্পষ্ট লংঘন। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ঢাকা মেট্রো- গ-১৭-১৩৩৫ নম্বর প্রাইভেট গাড়িতে নৌকা মার্কার পোষ্টার লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করে চলেছেন। তার এই কাজ আইনের লংঘন এবং বিধিমালার ৩১ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ জন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ