ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 April 2018, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিটি নির্বাচনে ধানের শিষের বিজয় সরকারকে সতর্ক বার্তা দেবে

খুলনা অফিস : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন কারাগারে তখন সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। খুলনা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিদ্যমান ইস্পাত কঠিন ঐক্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, জনগণের চেতনাকে জাগ্রত করে ভোটের ফলাফলকে ঘরে তুলতে হবে। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হবেনা। কিন্তু এর মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে ম্যাসেজ পৌঁছে যাবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত ২০ দলীয় জোটের নির্বাচন পরিচালনা কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মঙ্গলবার রাতে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোট নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জোটের সমন্বয়ক এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। এতে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইমরান হোসাইন, বিজেপির নগর সভাপতি এডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, পিপলস লীগের সভাপতি ডা.  সৈয়দ আফতাব হোসেন, জেপির সভাপতি মোস্তফা কামাল, মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আক্তার জাহান রুকু, বিজেপির সিরাজউদ্দিন সেন্টু, জামায়াতের এডভোকেট শাহ আলম ও খান গোলাম রসুল, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আব্দুল্লাহ জোবায়ের, বিজেপির খান মনিরুজ্জামান। বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখ মুজিবর রহমান, রবিউল ইসলাম রবি, অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক, মনিরুজ্জামান মন্টু প্রমুখ।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খুলনা বিএনপিকে নিয়ে আমরা আশাবাদী। এখানে রানিং মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং জেলা বিএনপি সভাপতি শফিকুল আলম মনা দু’জনেই মেয়র পদের দাবিদার হয়েও এখন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করছেন। এই শহরের বিশাল কর্মী বাহিনীকে কাজ দেয়া ও কাজ বুঝে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বহু জেলার বহু মতের মানুষের বসবাস এই কসমোপলিটন শহরে সবার কাছে ধানের শিষে ভোট দেয়ার আহবান পৌঁছে দিতে হবে। মেয়র পদে জয়লাভকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এই ভোটে সরকারের পরিবর্তন হবেনা, কিন্তু ভোটের ফলাফল সারা দেশে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে সরকার প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযোগ করেন বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির এই সদস্য। তাকে ডিভিশন দেয়া হবে কিনা এই সিদ্ধান্ত নিতে পাঁচ দিন সময় নষ্ট করা হয়েছে। প্রসিকিউশন বলছে তিনি অসুস্থ। দলের মহাসচিব গেলেন, পরিবারের সদস্যরা গেলেন, কারো সাথে দেখা হলোনা। তাকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। বিনা চিকিৎসায় রাখা হচ্ছে। যাতে এক সময় তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু সরকারের মনে রাখা উচিত, গণতন্ত্রের জন্য জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে মানুষটি জীবনের ৩৭ বছর রাজপথে সংগ্রাম করেছেন, সারা জীবন যিনি কখনো মাথা নত করেননি, শেষ জীবনেও তিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না।
তারেক রহমানের পাসপোর্ট নিয়ে সরকার নোংরা রাজনীতি করছে দাবি করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের মাত্র ৫ ভাগ মানুষের পাসপোর্ট আছে। বাকি ৯৫ ভাগ মানুষের পাসপোর্ট নেই। তাহলে তারা কি দেশের নাগরিক না?
নাম উল্লেখ না করেই গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা এই সরকারকে অবৈধভাবে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় রেখেছে তাদেরকে বলতে চাই, অন্যায়ভাবে কোন কিছুকে এ দেশের জনগণের মাথার ওপর চাপিয়ে রাখবেন না। আমরা আপনাদের বন্ধুত্ব প্রত্যাশা করি, প্রভুত্ব মানিনা। খুলনা সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে ওই বিদেশি মদদদাতাদের বুঝিয়ে দিতে হবে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর আগে কেসিসি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তুজার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ২০ দলীয় জোট নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও জেলা বিএনপি সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সাবেক এমপি শেখ মুজিবর রহমান, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, খান রবিউল ইসলাম রবি ও অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক। সভায় কেসিসি নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত ১৩টি উপ-কমিটির আহবায়ক সদস্য সচিব, বিভিন্ন ইউনিট বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে মঞ্জুর পক্ষে ধানের শীষে ভোট চাইলেন গয়েশ্বর
কেসিসি নির্বাচনে খুলনাবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট চাইলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এই ভোটে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে না। কিন্ত দেশমাতাকে কারামুক্ত করতে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে এবং মানুষের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে দেশের দুই সিটিতে বিজয়ের কোন বিকল্প নেই। গতকাল বুধবার বেলা ১১ টার দিকে নগরীর সিটি কলেজ মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ সময় তার সাথে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
তারা সিটি কলেজ, রয়্যাল মোড়, সাত রাস্তার মোড়, ২১ নং ওয়ার্ডের গ্রিনল্যান্ড বস্তি এবং পরে আইনজীবী সমিতিতে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন।
কর্মসূচিতে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ২০ দলীয় জোট নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, সাবেক এমপি শেখ মুজিবর রহমান, বিজেপি সভাপতি এডভোকেট লতিফুল রহমান লাবু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম রবি, শফিকুল আলম তুহিন, মাহববু হাসান পিয়ারু, আকতার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, কাউন্সিলর প্রার্থী মোল্লা ফরিদ আহমেদ, একরামুল হক হেলাল, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আজিজা খানম এলিজা,  হেলাল আহমেদ সুমন, আব্দুর রাজ্জাক, আল জামাল ভূইয়া প্রমুখ।
বিকেলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ২৪ ও ২৭ নং ওয়ার্ড এলাকার তিনটি মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। এ সময় তার সাথে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ২৪ নংওয়ার্ডের শমসের আলী মিন্টু (ঘুড়ি) এবং ২৭ নং ওয়ার্ডের হাসান মেহেদী রিজভী (ঝুড়ি) উপস্থিত ছিলেন।

উন্নয়নের নামে লুটেরাতন্ত্র হঠাতে ধানের
শীষে ভোট চাইলেন বিএনপির প্রার্থী মঞ্জু
মুখে উন্নয়নের গালগল্প শোনালেও দেশে কার্যত লুটেরাতন্ত্র কায়েম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হচ্ছে। সরকার পরিবর্তন হলে আর্থিক সেক্টরের এই বিশাল লুটপাটের দায় সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে। লুটেরা আওয়ামী মন্ত্রী-এমপি-নেতারা বিপদ বুঝে আগেই বিদেশে পালিয়ে যাবে। আসন্ন সিটি নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে এই লুটপাটকারীদেরকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
কেসিসি নির্বাচনে প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে বুধবার নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা, আদালত প্রাঙ্গণ, বার সমিতিতে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরনকালে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে ৮টায় ৩১ নং ওয়ার্ডের পাকার মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। এরপর ওয়ার্ডের বিভিন্ন প্রান্তে যান। গণসংযোগকালে জনতার ঢল নামে। তারা দুঃশাসন হঠাতে নীরব ভোট বিপ্লবে ধানের শীষকে বিজয়ী করবে বলে অঙ্গীকার করেন।
গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, বিজেপির নগর সভাপতি এ্যাড. লতিফুর রহমান লাবু, বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল জলিল খান কালাম, শাহজালাল বাবলু, শেখ আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, হাসানুর রশিদ মিরাজ, এস এম কামাল হোসেন, শরিফুল ইসলাম বাবু, হেলাল আহমেদ সুমন, ময়েজউদ্দিন চুন্নু, শেখ আনিসুর রহমান, মোঃ সাইফুল ইসলাম, আলমগীর কবির আলম, আব্দুল্লা আল মামুন, মোঃ মামুনর রহমান, জি এম রাজিবুল ইসলাম বাপ্পী, শেখ আল মামুন, আরিফুর রহমান, রাজিব তালুকদার, ইফতেখান জামান নবীন, খায়রুল আলম রাজু, মুসফিকুর হাসান অভি প্রমুখ।
এরপর তিনি আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে যান এবং আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এছাড়া আদালত চত্বর ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট গাজী আব্দুল বারী, এডভোকেট বজলুর রহমান, এডভোকেট আকরাম হোসেন, এডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, এডভোকেট এস আর ফারুক, এডভোকেট মাসুদ হোসেন রনি, এডভোকেট গোলাম মাওলা, এডভোকেট নুরুল হাসান রুবা, এডভোকেট আবুল হোসেন হাওলাদার, এডভোকেট মুজিবর রহমান, এডভোকেট মশিউর রহমান নান্নু, এডভোকেট বি এম ওমর ফারুক, এডভোকেট জি এ  বরু, এডভোকেট মাহফুজুর রহমান মফিজ, এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, এডভোকেট তৌহিদুর রহমান চৌধুরী তুষার, এডভোকেট শামীম হাসান, এডভোকেট মাকসুদুল হাসান, এডভোকেট হাসিবুর রহমান, এডভোকেট ফরহাদ  আব্বাস, এডভোকেট তেীহিদুল ইসলাম, এডভোকেট মোল্লা মহসিন, এডভোকেট ওমর ফারুক বনি প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ