ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 April 2018, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি টাকা ॥ দুই ব্যক্তিকে দুদকে তলব

স্টাফ রিপোর্টার : ফারমার্স ব্যাংক  থেকে ঋণ নিয়ে পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের এক ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টির অনুসন্ধানে দুই ব্যক্তিকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। যাদের তলব করা হয়েছে, তারা হলেন মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা। তারা ব্যবসায়ী বলে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঢাকার উত্তরায় তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং টাঙ্গাইলের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিস গেছে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।
দুদকের নথিপত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ নেই, তবে তিনি পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলে নাম উল্লেখ না করে সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে খবর এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হলে দুদকের কোনো কর্মকর্তা মুখ খোলেননি।
অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল জিজ্ঞাসায় বলেন, “অস্বাভাবিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। “যাদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তর হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা রয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। অভিযোগের অনুসন্ধান শেষে কারা জড়িত এর বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।”নথিপত্রে উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিচারপতি সিনহা কি না- জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপে পড়ার পর গত বছরের অক্টোবরে ছুটি নিয়ে বিদেশ গিয়ে সেখান থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বিচারপতি সিনহা। তিনি বিদেশ যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে ১১টি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’ কথা বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর এই অভিযোগ তদন্তে তখন দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধের রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুদকের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ তখন বলেছিলেন, “যদি পাই, যারই হোক না কেন, আমরা দুর্নীতির অনুসন্ধান করব।”
শাহজাহান ও নিরঞ্জনকে জিজ্ঞাসাবাদে গতকাল বুধবার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর আগামী ৬ মে সেগুন বাগিচায় কমিশন কার্যালয়ে হাজির হতে বলেছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল।
দুদক কর্মকর্তারা বলেন, ২০১৬ সালে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা শাহজাহান ও নিরঞ্জন ঋণ নেন। এরপর একই বছরের ১৬ নভেম্বর সেই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।
প্রনব ভট্টাচার্য্য বলেন, “ওই বিষয়ে সম্প্রতি দুদকে আসা এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তা যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।”
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ফারমার্স ব্যাংক যাত্রা শুরুর চার বছর না যেতেই নানা অনিয়মের ধুঁকছে। চাপের মুখে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও ছাড়তে হয়েছে মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ