ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 April 2018, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নন্দীগ্রামে কালবৈশাখী ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ফসলহানি

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রামে কালবৈশাখী ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ফসলহানি ঘটেছে। ফলে কৃষকরা চরম হতাশায় পড়েছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকরা ইরি-বোরো ধানের চাষাবাদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। তাই প্রতিবছর যথারীতিভাবে এই উপজেলার কৃষকরা ইরি-বোরো ধানের চাষাবাদ করে আসছে। ইরি-বোরো ধানের চাষাবাদ অনেকটা ব্যয়বহুল হলেও কৃষকদের চাষাবাদে কোন পিছুটান নেই। ইরি-বোরো ধানের চাষাবাদে কৃষকরা আলোরমুখ দেখে থাকে। এবারো তাই দেখেছিল। এমতাবস্থায় ৩দফা কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ইরি-বোরো ধানের ফসলি জমি। সম্প্রতি ২দফা কালবৈশাখী ঝড়ে ইরি-বোরো ধানের ফসলি জমি অনেকটা ক্ষতিসাধন হয়। এরপরেও কৃষকরা আশাহত হয়নি। ২৫শে এপ্রিল বিকেল সোয়া ৪টা হতে ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৪৫ মিনিট ব্যাপী প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে ইরি-বোরো ফসলি জমির ধান পড়ে যায়। এতে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৬ মণহারে ধানের ফলন কম হবে। আবার এর চেয়ে কম-বেশি হতে পারে এমনটাই আশঙ্কাও করা হচ্ছে। যে ক্ষতি অপূরণীয়। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ২০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন ধান। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড় ও শীলাবৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ওই বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মশিদুল হকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে ১ ভাগ পরিমাণ ধানের ক্ষতিসাধণ হয়েছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতা মাঝগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে এলাকার ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। ভাদুম গ্রামের কৃষক আজিজার রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি ১৬ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষাবাদ করেছি। তারমধ্যে প্রায় সব জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৬ মণহারে ধানের ফলন কম হবে। এই কালবৈশাখী ঝড়ে নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘর-বাড়ি ও গাছপালা ভেঙ্গে ক্ষতিসাধন হয়েছে। অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ