ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 April 2018, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তদন্ত কমিটি গঠন প্রক্রিয়া যথাযথ না হওয়ায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হচ্ছে না

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিকে শিশু অদল বদল ঘটনায় তদন্ত কমিটি দায়সার প্রতিবেদন দাখিল করে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। এই মর্মে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও মিডিয়াতে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় এক বিবৃতিতে প্রচলিত তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ ও যথাযথ নয় মর্মে অভিমত প্রকাশ করে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছে দশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি চট্টগ্রামে চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিকে শিশু অদল বদল বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান।
বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসহ যে কোন অপরাধের ঘটনা ঘটলেই প্রথমে নিজেদের স্বগোত্রিয় লোকজন দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে থাকেন। প্রাথমিক ভাবে জনরোশের আক্রমন প্রশমন করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও প্রকৃতপক্ষে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ঘটনাটিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয় অধিকাংশ সময়। স্বগোত্রিয় লোকজন দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘটনাগুলো অনেকটা “বিড়ালকে মাছ পাহারা দেবার মতো”। কারন স্বগোত্রিয় লোকজন কোন ভাবেই তাদের নিজেদের লোকজনের ত্রুটি প্রকাশ ও তুলে ধরতে পারবে না। আর বিশেষ করে যদি এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা চিকিৎসকের বেলায় ঘটে তাহলে সেটা একেবারেই সম্ভব নয়। ফলে শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চিকিৎসা খাতে গঠিত কোন তদন্ত কমিটি আজ পর্যন্ত সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। আর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সে অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহনের নজির দেশে তেমন একটা নাই। তাই যে কোন তদন্ত কমিটি গঠনের বেলায় স্বগোত্রিয় লোকজনের প্রতিনিধিত্ব রাখা, এখাতের বিশেষজ্ঞ, ভোক্তাদের প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অর্ন্তভুক্ত করা হলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
 বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ যে কোন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে সংস্লিষ্ঠ প্রশাসনের অনীহা ও ধীরগতির কারনে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে জনগনের তেমন আগ্রহ থাকে না। ফলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও সম্ভব হয়ে উঠে না। যা অনেকটা অপরাধীকে পার পেয়ে যাবার সুযোগ করে দেবার মতো আরো একটি বড় অপরাধ। আর এ ধরনের প্রক্রিয়া ঠিকিয়ে রেখে অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন ও সত্যিকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন।
 বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

কৃষি ও পল্লীঋণ সহজিকরণ উদ্ভাবন বিষয়ক কর্মশালা
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কৃষকের উন্নয়ন, কৃষির  উন্নয়ন শীর্ষক কৃষি ও পল্লীঋণ সহজীকরণ উদ্ভাবন বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, ব্যাংকিং ও কৃষকদের সমন্বয়ে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি তথা রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করুন।  গত ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তারা একথা বলেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উপ সচিব হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপ¯ি'ত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ¯ি'ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের প্রজেক্ট কো অর্ডিনেটর শাকিলা রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট তাসলিমা ইয়াসমিন।
প্রেজেন্টেশন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের অনলাইন কৃষি ও পল্লীঋণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব শাখার ব্যব¯'াপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল হক চৌধুরী, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোরশেদ আলম প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপ¯ি'ত ছিলেন কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, মহিলা বিষয়ক, সমাজসেবা, লিড ব্যাংকের ব্যব¯'াপক, চট্টগ্রামের সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলার ৫৮টি ব্যাংকের নির্বাহীবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।বক্তারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাংকিং ও কৃষকদের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য কৃষক, কৃষি সংশ্লিষ্ট জনগণ ও ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তদন্তে এবার পিবিআই
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ধুম ইউনিয়নের দিন মজুর পরিবারের সন্তান পারভেজ হেসেন হত্যার ৮ মাস পার হলেও এখনো এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামীরা। অথচ পুলিশ তাদের গেস্খপ্তার করছেনা বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। এবার মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের তদন্তকাজে বিশেষজ্ঞ ইউনিট ‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রকাশ্য ঘোরাফেরা আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় পিবিআই হেড় কোয়ার্টারের নির্দেশে মামলাটি জোরারগঞ্জ থানা থেকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানার আব্দুর রহিম ড্রাইভারের পুত্র পারভেজ হোসেনকে গত বছরের ১ আগষ্ট বিকেল সাড়ে ৪টায় আসামীরা প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়ির পাশে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন ২ আগষ্ট নিহতের মা জাহেদা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি (নং-০৩/২২৮) দায়ের করেন। তিনিও সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ডান হাতের কব্জিতে কিরিচের কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন।
মামলার আসামীরা হলেন, ওই এলাকার আবুল কালামের পুত্র রুমন (২৫), বাংলা বাজারের মৃত মীর হোসেনের পুত্র রানা (২৮), নাহেরপুরের ইউছুপের পুত্র বেলাল (২৬), জসিমের উদ্দিনের পুত্র ফারুক (২৫), রাকিব (২৭), মো. ডিপটির পুত্র আরিফ, নাহেরপুরের নুরুচ্ছফার পুত্র আরিফ(২৬), মৃত নাজিম উদ্দিনের পুত্র নাজমুল (২৭), বাংলাবাজারের রাসেল (২৪), নাহেরপুরের মো.সেলিমের পুত্র নোমান (৩২),মো. কেরানীর পুত্র মো. মাসুক (২৬) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জন। 
‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর চট্টগ্রামের পরিদর্শক ওমর ফারুক বলেন, মামলাটি তদন্তকাজ চলছে। মামলার আসামীদের ধরতে চট্টগ্রাম থেকে ৫ বার গিয়েছি। নিহতের বাড়িতেও তিনবার গিয়েছি।
 মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত পারভেজের সাথে আসামীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। গত বছরের ৩১ জুলাই  নিহতের ভাই রিয়াদকে আসামীরা মারধর করে। ওই বছরের ১ আগষ্ট বিকেল চারটায় জোরারগঞ্জ মরগাং গ্রামের হামিদ আলী মাঝি বাড়ির ঘাটার সামনে (নিজের বাড়ির)  দিদার মেম্বারের ভাই রুমনের কাছ থেকে ভাইকে মারার বিষয়টি জানতে চায় পারভেজ। এর আধঘন্টা আগে মৌলভী বাজারেও আসামীদের সাথে ভাইকে পিটানোর বিষয়ে পারভেজের সাথে তর্ক বাঁধে আসামীদের। পারভেজ বিষয়টি জিজ্ঞাসা করিলে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা পারভেজকে লোহার রড, কিরিচ দিয়ে কোপাতে থাকে। পারভেজের আত্মচিৎতারে তার মা বাড়ি থেকে বের হয়ে ছেলেকে বাঁচাতে আসলে মায়ের ডান হাতের কব্জিতে কোপ লাগে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ