ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 April 2018, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিলেটে দুদকের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে

সিলেট ব্যুরো : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত মামলায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মফিজুর রহমান ভূঁইয়া তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
কর ফাঁকির অভিযোগে পংকি খানের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুদক মামলা দায়ের করে। দুদকের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুর রহমান মামলাটি দায়ের করেন। পংকি খান ছাড়াও এ মামলায় সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার তিলক শাহারপাড়ার ইংল্যান্ড প্রবাসী রূপা মিয়া,  সুনামগঞ্জ সদরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মোরশেদ আলম বেলাল, সুনামগঞ্জ সদরের হাছন নগরের রোমান রায়হান, বিআরটিএ সিলেট সার্কেলের সহকারী পরিচালক বরিশালের মুলাদী উপজেলার চর নাজিরপুরের বাসিন্দা মো. এনায়েত হোসেনকে আসামী করা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা  গেছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজসে আমদানীকৃত বিলাসবহুল দামি গাড়ি চোরাইভাবে বিক্রয় ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে রেজিস্ট্রেশনপূর্বক সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অপরাধ করেছেন। সরকারের রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ প্রায় এক কোটি পঁচাত্তর লক্ষ টাকা।

চাঁদাবাজির মামলায় ৬ জনের কারাদণ্ড
যুক্তরাজ্য প্রবাসী মহিলার দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় ৬ আসামীর ৫ বছর করে কারাদন্ড হয়েছে। সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরো গত মঙ্গলবার এ রায় দেন। মামলার আসামীরা হচ্ছেন নগরীর কালিবাড়ি এলাকার আফতাব আলীর ছেলে এমরান, নগরীর পনিটুলা এলাকার কবির আহমদ ওরফে কাজী কবির, নেহারীপাড়ার হানিফ আহমদ ও হাওলদারপাড়ার হরমুজ আলীর ছেলে সোহেল আহমদ। আসামীদের মধ্যে সোহেল ও হানিফ বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। বাকি চার আসামী পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, নগরীর মদীনা মার্কেট এলাকার নিবাস বি/২৭ এর বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলতাব আলীর স্ত্রী রঙ্গুল বেগম পরিবারসহ প্রবাসে অবস্থান করেন। দেশের বাইরে অবস্থান করায় বাসা ও মদীনা মার্কেটের আফতাব ম্যানশন সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দেখাশুনা করেন তার ভাগনা সৈয়দ কাউসার হোসেন। গত কয়েক মাস ধরে এমরান তার সহযোগীদের নিয়ে কাউসারের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলো। এজন্য প্রায়ই তাকে প্রাণনাশসহ বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের হুমকিও দিচ্ছিল। পরবর্তীতে কাউসার নিরূপায় হয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা প্রদান করেন। চাঁদা পাওয়ার পরও এমরান মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে প্রায়ই কাউসারকে হুমকি-ধামকি দিতো। প্রবাসী ওই মহিলা দেশে ফিরে বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এমরান অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার সহযোগীদের নিয়ে রঙ্গুল বেগমের বাসায় হামলা করে এবং মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মাসিক ১৫ হাজার টাকা অন্যথায় এককালীন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রাণ রক্ষার্থে মহিলা ও তার ভাগনা দু’তিনদিনের মধ্যে টাকা দেয়ার কথা জানালে এমরান ও তার সহযোগীরা চলে যায়। তবে, পুরো ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করেন মামলার বাদী রঙ্গুল বেগম। প্রমাণ হিসেবে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল এসএমপির কোতয়ালি থানা পুলিশ অভিযোগটি দ্রুত বিচার আইনে রেকর্ড করে। সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ৬ আসামীর প্রত্যেককে ৫ বছরের কারাদন্ড প্রদানের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ