ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 April 2018, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাইকগাছায় ৪১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ

খুলনা অফিস : খুলনার পাইকগাছায় চলতি মওসুমে ৪১০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুইশ’ হেক্টর বেশি। তরমুজ চাষ লাভ জনক হওয়ায় তিলচাষ থেকে মুুখ ফিরিয়ে নিয়ে কৃষক তরমুজ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।
এদিকে পানির অভাবে তরমুজ চাষ কিছুটা বিঘিœত হলেও ভাল ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন এবং এবছর ৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তরমুজ চাষিরা।
সূত্র মতে, উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডার ও গড়ইখালী ইউনিয়নের বাইনবাড়ীয়া কুমখালীতে দীর্ঘদিন তরমুজ চাষ হয়ে আসছে। এ এলাকা তরমুজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ। এখানকার তরমুজের স্বাদেও রয়েছে ভিন্নতা। অন্যান্য স্থানের চেয়ে এখানকার তরমুজ সুস্বাদু হওয়ায় উৎপাদিত তরমুজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে। এলাকার শত শত কৃষক তরমুজ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তরমুজ মওসুমে সেচ ও পরিচর্যায় শ্রমের কাজ করে শত শত নারী ও পুরুষ বাড়তি আয় করে থাকেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্র মতে, চলতি মওসুমে উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ৪১০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড জাতের পাকিজা ও ড্রাগন তরমুজের আবাদ হয়েছে। উন্নত জাতের মধ্যে পাকিজা ৭০ শতাংশ ও ড্রাগন ৩০ শতাংশ। দেলুটি ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডারে ৩৮০ হেক্টর এবং গড়ইখালী ইউনিয়নের বাইনবাড়ীয়া কুমখালী এলাকায় ৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। মওসুমের শুরুতেই সেচের জন্য পানির কোন সমস্যা ছিল না। তবে এবছর তেমন কোন বৃষ্টি না হওয়ায় শেষ দিকে এসে পানির চরম সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে দেলুটি ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডারের তরমুজ চাষিরা চরম বিপাকে পড়েন। খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়।
কালিনগর গ্রামের মিন্টু বালা জানান, চলতি মওসুমে আমি ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মওসুমের শেষের দিকে এসে পানি নিয়ে মহা বিপাকে রয়েছি। পাইপ দিয়ে কয়েকশ’ মিটার দূর থেকে পানি এনে সেচ দিতে হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তরমুজ বিক্রির উপযোগী হবে বলে মিন্টু বালা জানান। তিনি বলেন, এবছর বিঘা প্রতি ৬০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
পার্বতী সানা জানান, তরমুজ চাষের অপার সম্ভাবনা থাকলেও সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থাপনা না থাকায় তরমুজ চাষ বিঘিœত হচ্ছে। বসতবাড়ির পুকুর থেকে পাইপের মাধ্যমে ক্ষেতের সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ভাবে পানি দেয়া অনেক কঠিন কাজ।
লতিকা ও কামনা বালা জানান, তরমুজ চাষ মওসুমে সেচ ও পরিচর্যায় শ্রমিকের কাজ করে ঘন্টা প্রতি ৫০ টাকা হারে বাড়তি আয় করে থাকি।
চাষী মেঘনা বালা জানান, উৎপাদিত তরমুজ পর্যায় ক্রমে ২ থেকে ৩ বার উত্তোলন করা হয় এবং তা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারী বিক্রি করা হয়ে থাকে।
দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, ২২ নং পোল্ডার তরমুজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ। গত বছর ২০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছিল। এ বছর আশা করছি চাষ বেশি হওয়ায় ২২ নং পোল্ডার থেকে ৪০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে।
স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি বলেন, ২২ নং পোল্ডারের ৫টি ওয়ার্ডের ভিতর দিয়ে ডিহিবুড়া নামে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি সরকারি খাল রয়েছে। এই খালের পানি দিয়ে এলাকার চাষিরা তরমুজসহ কৃষি ফসল উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু খালটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। এজন্য মওসুমের শেষের দিকে এসে খালটি শুকিয়ে যায়। ফলে পানির অভাবে তরমুজ চাষ বিঘিœত হয়। খালটি খনন করা গেলে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে তরমুজসহ এ এলাকার কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান।
এ ব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, তরমুজ চাষ লাভ জনক হওয়ায় তিলচাষ বাদ দিয়ে চাষীরা এখন তরমুজ চাষে ঝুকছে। ফলে এ বছর লক্ষমাত্রার চেয়ে দুইশ’ হেক্টর বেশি জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের এ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণসহ সকল উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আশা করছি বিগত বছরের চেয়ে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ