ঢাকা, শুক্রবার 27 April 2018, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫, ১০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সৃজনধারার ভাষা সংখ্যা

তাজ ইসলাম : ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা  অনেকদিন ধরেই  হয়, সবসময় হয় কিন্তু অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ জিনিসটা,পুরানো ইতিহাসটা আমরা জানতেও চেষ্টা করি না, জানিও না। ভাষা আন্দোলন শুরু হয় কিন্ত বায়ান্ন সালেও নয়, আটচল্লিশ সালেও নয়, ১৯৪৭ সালে।.........সে জন্য আমরা আজকে স্বাধীন বাংলাদেশকে যদি উন্নত করতে চাই ভাষা আন্দোলনকে ভালভাবে জানতে হবে মুল্যায়ন করতে হবে “। এমন প্রত্যয়দিপ্ত উচ্চারণ করেছেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উৎযাপনের অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের জীবন্ত কিংবদন্তি,শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, অধ্যাপক আব্দুল গফুর। এ বক্তব্যটি অনুলিখন করেছেন মাহিন। অধ্যাপক আব্দুল গফুরের বক্তব্য দিয়েই সৃজনধারা ভাষা সংখ্যার যাত্রা শুরু। 

একুশ আমাদের ইতিহাস,একুশ আমাদের অহংকার,একুশকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সৃজন সত্তার বিকাশ।

কথাশিল্পী ফরিদা হোসেনের একুশের দিনরাত্রি গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কবিতার বিকাশের প্রেক্ষাপট বর্ণনায় তাই তিনি বলেন “ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাস ওর হাতে কলম তুলে দিয়েছে।” মুস্তাগিছুর রহমান মুস্তাকের “রক্তে কেনা বর্ণমালা “ র পরের লেখাটি মুনমুন নাহার ‘র “ আওয়াজ “ গল্প।   সৃজন ধারার এসংখ্যায় আরো আছে আবু সাইদ খানের “ আমার ভাষা আমার মান “ শীর্ষক শর্টফিল্ম। আবু সাইদ খান দেখাতে চেষ্টা করেছেন অনিক তথা তরুণ সমাজ কিভাবে বিজাতীয় সংস্কৃতির কবলে পড়ে হারাতে বসেছে আমাদের সব কিছু। সৃজন ধারায় এরপর মেলে ধরেছে কবিতার ঢালি। বেশ কতক কবির কবিতাই  স্থান পেয়েছে সংখ্যাটিতে। “বাংলা ভাষা লাল মশালের শিখা/ তোমার আমার আগুন ঝরা লিখা/ (সাজজাদ হোসাইন খান।)। ভাষা দিবস সংখ্যাটিতে এমন আরো আগুন ঝরা পঙক্তি রচনা করেছেন  কবি আতিক হেলাল,আমিনুল ইসলাম, আবু তাহের বেলাল,নাসির হেলাল,সুবাতা সানিয়া।

“ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ/ ইতিহাসের পাতায়/ অমর হয়ে নাম লিখেছে / সোনার রঙিন খাতায় “ (ওয়াহিদ আল হাসান)। সোনার রঙিন খাতায় আরো যাদের নামের তালিকা আছে তারা হলেন

শাহজাহান মোহাম্মদ, কাজী তাবাসসুম, মোহছেনা পারভীন, আমিনুল কাদের মির্জা, দেলোয়ার হোসেন, ফজলুল হক তুহিন, আসলাম প্রধান, নূর মোহাম্মদ, রুহুল আমিন রিয়াজী, নাসির বিন ইব্রাহিম, অপু চৌধুরী, ফারুক মোহাম্মদ ওমর। একুশ যেমন আমাদের আবেগের জায়গা দখল করেছে ঠিক তেমনি একুশে অনেকেই লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতায় মজে থাকে। তাদের মুখোশ খুলে দিতেই লিখেছেন কবি রেদওয়ানুল হক”একুশ এলে বেহুঁশ নেতা/ গায়ে দিয়ে রঙিন খেতা/ দেখান কত দরদ যে/ বাংলাভাষার মরদ যে/। অথচ এই একুশ গেলে/ এই নেতারা পাখনা মেলে/ যায় উড়ে যায় বহুদূর/ আর দেখি না লহুসুর। (একুশ)। সারা বিশ্বে ভাষার নামে একটি দেশ, দেশের নামেই ভাষা এটি সম্ভবত আমাদের এই মাতৃভূমি ছাড়া বিকল্প আরেকটি আর নেই। তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল ছড়াকার আতিফ আবু বকরের ছড়াতে সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লিখেছেন কবি রবিউল খন্দকার, মোহাম্মদ সফিউল হক, এ কে আজাদ, সুবাইতা নাসিহা, সুমি আক্তার,ইসলাম তরিক।

 “এসো সমবেত হই রক্তচূড়ার নীচে/ এসো জেগে উঠি সময়ের চেতনায়/ এসো এগিয়ে চলি ফাগুনের রাঙানো পথে/ এসো সমবেত কণ্ঠে গাই ভাষার কোরাস/ “(হাসান রুহুল) । 

ভাষার কোরাস গাইতে গাইতেই সৃজন ধারার ভাষা দিবস সংখ্যার মিছিলের শেষ প্রান্তে এসে হাজির হলেন কবি আফসার নিজাম। আফসার নিজাম ভেবেছিলেন রাজপথে একটা বিশাল মিছিল হবে, সে মিছিলে গলা ছেড়ে শ্লোগান দিয়ে কাঁপিয়ে দিবেন আকাশ মাটি, কিন্তু সে মিছিল আর হয়নি, কেন হয় নি তা জানতে হলে পাঠ করতে হবে কবির মিছিল কবিতাটি।

আমাদের একুশ আজ বিশ্ব দরবারে বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় অধিষ্টিত। আর তা এসেছে সংগ্রামের বিনিময়ে,এসেছে আত্মত্যাগের বিনিময়ে, যার ঋণ কখনো পরিশোধযোগ্য নয়। 

“একুশ হল ভাষার জন্য আশার জন্য/ রক্ত দানের দিন/ 

শোধ হবে না শোধ হবে না / কক্ষনো এ ঋণ/(তাজ ইসলাম) । একুশের ঋণ শোধ হবে না, তবে জাতির সেই সব মহান পূরুষদের স্মরণ করতে, ইতিহাসকে উজ্জীবিত করতেই সৃজনধারার ভাষা দিবস সংখ্যার আয়োজন। এটির সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। প্রচ্ছদ এঁকেছেন সাইফ আলি। প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারী ২০১৮। প্রকাশনায় বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমি। পৃষ্ঠা ৪০। মূল্য রাখা হয়েছে ২০ টাকা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ