ঢাকা, শুক্রবার 27 April 2018, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫, ১০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

মেঘের গুড় গুড়

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

 

মেঘের গর্জন মেঘের গুড় গুড়

সকাল থেকে হইতাছে,

বিজলী পরী দেখে খুকি 

মাকে গিয়ে কইতাছে ।

আনুর মায়ের ছাগল গুলা

দড়ি ছিড়ে পালাইছে,

ঝড় বাতাসে টিনের চালা

অনেক খানি হালাইছে।

মিন্টুর মায়ের চিল্লাচিল্লি

মুরগী নাকি হারাইছে,

ঝড় বৃষ্টিতে খানকা ঘরে

পথচারী দাঁড়াইছে।

বৃষ্টি শুরুর সাথে সাথে

শিলা বৃষ্টি ঝড়তাছে,

আবুল দাদা জোরে জোরে

আল্লাহ আল্লাহ পড়তাছে ।

 

 

ওদের কথা 

রমজান আলী রনি

 

জোয়াল কাঁধে মনে স্বপ্ন

হাজার ব্যথা নিয়ে

সোনার বাংলা সবুজ ফসল

দুই হাতে যায় দিয়ে।

 

নতুন বিশ্ব শীতল ছায়া

গড়ছে অবিরত

এই দুনিয়ার যে দিকে যাই

কেউ নেই ওদের মতো।

 

শ্রমিকেরা শ্রমের জোরে

সাজায় সোনার দেশ

ওদের কথা যতই বলি

হবে না তো শেষ।

 

 

মায়ের ভালোবাসা 

শাহীন রায়হান

 

মিয়ানমারের ছোট্ট শিশু

এক রাতুলের গল্প

দুঃখের কলম দিয়ে লেখা

হিংস্র তার রূপকল্প।

 

রাতুল ছিল ছোট্ট তবু

মায়ের কথা শুনতো

মায়ের কথা শুনে বুকে

নানান স্বপ্ন বুনতো।

 

মা ছিল তার স্বপ্ন জুড়ে

মা ছিল তার আশা

মা ছিল তার জীবন মরণ

মা ছিল তার ভাষা।

 

মিয়ানমারের রাখাইনে

হিংস্র সেনার থাবায়

হারিয়ে গেছে ভাই বোন আর

মায়ের সাথে বাবায়।

 

তাইতো রাতুল নির্বাক আজ

নেই মুখে তার ভাষা

সব হারিয়ে তবুও খোঁজে

মায়ের ভালোবাসা।

 

 

স্নেহময়ী মা

মুখলেছুর রহমান আকন্দ

 

মা কথাটি এই ভুবনে

যতই ছোট্ট থাকে

তবু জানি সবার  বড়

এই ভুবনে মাকে।

হয় না কেহ এই জগতে

মায়ের মতো আপন

সকল বাঁধন যায় পালিয়ে

দেখে মায়ের বাঁধন।

মায়ের স্নেহ যায় না ভোলা

থাকতে জীবন খাঁচায়

মায়ের দোয়া থাকলে পরে

আল্লাহ তায়ালা বাঁচায়।

 

ভাল্লাগে না

ইদ্রিস মণ্ডল

ভাল্লাগেনা ঘরে আমার

ভাল্লাগেনা ঘরে 

বিকাল বেলা হলে পরে

মন আনচান করে।

ঘরের ভিতর দাঁড়াই না মন

করতে খেলা চাই

দুরে কাছে যে দিক তাকাই

মাঠ খুঁজে না পাই।

দেখি শুধু উঁচু দালান

রাস্তা দোকান বাড়ি 

কালো ধোয়া হই হুল্লোড় 

লোকের  ভিড় আর গাড়ি।

কোথাও  জমিন নেইতো ফাকা

ঘাস মাটি সব ইটে ঢাকা

ইট পাথরে ভর্ত্তি শহর

নেই খেলার মাঠ আর

খেলবো কোথায় মাঠ দেখি না

বুকটা হাহাকার।

ভাল্লাগে না মাগো আমার

ভাল্লাগে না তাই

নেই খেলার মাঠ এই শহরে 

কষ্টো বড়ো পাই। 

 

শিল্পী মশা

জালাল উদ্দীন ইমন

মায়ের কাছে ঝাড়ি খেয়ে

বইটা যখন নিলাম হাতে

গুণগুণীয়ে গান শোনাতে।

মশা মামা আসছে চেয়ে

ইচ্ছে করে মারবো যেয়ে।

রাগে মাথায় আগুন জ্বলে

শানায় বাজায় কানের পাশে

আমি ভাবি ফিরবে লাশে।

আসতে দেখি দলেদলে

কানটা ধরে যাচ্ছে মলে।

শিল্পী মশার গানের সুরে

ইচ্ছে করে এখন মারি

উঠে গেলো কেমনে পারি।

সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে

পাখির মত থাকে উড়ে।

কয়েল জ্বালায় সারা বাড়ি

উচিৎ মানের শিক্ষা দিলাম

প্রাণটা যে তার কেড়ে নিলাম।

শিল্পী মশা গেলো ছাড়ি

পরকালে দিলো পাড়ি।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ