ঢাকা, শুক্রবার 27 April 2018, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫, ১০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তৈরি পোশাক ও শিল্পখাতের মামলার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুপারিশ টিআইবির

গতকাল শনিবার নিজস্ব কার্যালয়ে টিআইবি আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার :  তৈরি পোশাকসহ দেশের শিল্প খাতে বিভিন্ন সময় সংঘটিত দুর্ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা নিষ্পত্তিতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুপারিশ করেছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন : অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ সুপারিশ করে সংস্থাটি।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পোশাক খাতে বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর অনেক সময় পার হয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় বিষয়টিকে এখন দ্রুত বিচার আইনের আওতায় প্রয়োজন। যেন ভুক্তভোগীদের বিচার পেতে বিড়ম্বনা কিংবা হয়রানিতে পড়তে না হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও বিচার শেষ হয়নি। তাই এসব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দোষীদের দ্রুত বিচার আইনে বিচার করা প্রয়োজন। এতে দুর্ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অল্প সময়ে নিষ্পত্তি করা যাবে বলেও মনে করেন তিনি। 

তিনি জানান, অবৈধ অর্থ রাখার দায়ে দুদকের একটি মামলায় ২০১৮ এর মার্চে রানা প্লাজার মালিকের তিন বছর ও মাকে ছয় বছর কারাদ- দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মূল অভিযোগে এখনও কোনও শাস্তি হয়নি।

টিআইবি বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা প্রকাশ্যে দিবালোকে হয়েছে। দুর্ঘটনা কেন হয়েছে, কেন ভাঙল ভবনটি, তা সবার কাছে পরিষ্কার। আহত ব্যক্তি ও নিহতদের আত্মীয় স্বজন অনেকেই এ মামলার সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তারপরও সাক্ষ্যগ্রহণের অভাবে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে আসামীরা মামলাটি আটকে রেখেছে।

তিনি বলেন, এর মানেও পরিষ্কার, যাদের প্রভাব আছে তারা সবকিছু করতে পারে। একটি বিচার নিষ্পত্তির জন্য মেডিকেল রিপোর্ট, পুলিশ রিপোর্টসহ নানান দিক থাকে। যার সব ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ হয়। অর্থাৎ যারা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী তারা সব সময় বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যা সামগ্রিক সুশাসন নিশ্চিতকরণকে প্রভাবিত করছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থার সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা।

রানা প্লাজার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, রানা প্লাজার মালিক ও কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি এবং শ্রম আদালতে একধিক মামলা দযের করা হয়েছে। সিআইডি দায়েরকৃত মামলায় ২০১৫ সালে দন্ডবিধিআইনে ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু আসামীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে এখন। আর ইমারত আইনের মামলায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এর চ্যালেঞ্জ হলো আসামীরা ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করেছে এ মামলা নিষ্পত্তি এখনও হয় নি।

টিআইবি প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানা নিরাপত্তাজনিত গৃহীত ১০২টি পদক্ষেপের মধ্যে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৯ শতাংশ (৪০টি), চলমান অগ্রগতি হয়েছে ৪১ শতাংশ (৪২টি) এবং স্থবির রয়েছে ২০ শতাংশ (২০টি)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ