ঢাকা, শুক্রবার 27 April 2018, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫, ১০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তামাক পণ্য বন্ধে বৈষম্যমূলক প্রস্তাবের প্রতিবাদে সমাবেশ

 

স্টাফ রিপোর্টার: সম্প্রতি আগামী দুই বছরের মধ্যে বিড়ি শিল্প, অন্যদিকে ২০৩৮ সালে সিগারেট শিল্প বন্ধের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিড়ি ও সিগারেট দুই-ই তামাক পণ্য হলেও এ দু’টি পণ্য বন্ধে একই সময়সীমা বেঁধে না দেয়া বৈষম্যমূলকÑ এমন দাবি করে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন বিড়ি শিল্পের শ্রমিকরা। এর অংশ হিসাবে ঢাকাসহ সারাদেশে সমাবেশ, গণস্বাক্ষর অনুষ্ঠান করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা। এসব প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বিড়ি শ্রমিক ও ভোক্তারা বলছেন, সিগারেট চালু রেখে কোনোভাবেই বিড়ি শিল্প বন্ধ করতে দেয়া হবে না। কারণ, বিড়ি শিল্পের সঙ্গে হতদরিদ্র ও নি¤œ শ্রেণীর মানুষ জড়িত। নদী ভাঙা, স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা শ্রমিকরা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এটি বন্ধ করে দেয়া হলে এসব ভাগ্যাহত মানুষের জীবনে চরম দুর্দশা নেমে আসবে। 

প্রতিবাদকারীরা বলছেন, ভারতে বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে তার সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিড়ি শিল্প বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। সিগারেটকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। এ নীতি বৈষম্যমূলক। 

গত ৭ এপ্রিল ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করে বিড়ি শ্রমিকরা। সেখানে অর্থমন্ত্রীর প্র্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তা প্রত্যাহরের দাবি জানানো হয়। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে। ২৩ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে মহাসমাবেশ করেন তামাকচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এ সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, অর্থমন্ত্রী একতরফাভাবে বৃটিশ আমেরিকান কোম্পানির পক্ষ নিয়ে বিড়ি শিল্প বন্ধের পায়তারা করছেন। তিনি বিড়ি বন্ধ করে বিদেশী কোম্পানিকে একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন। তার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আমরা বৃহত্তর রংপুরের তামাক  চাষি ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বিপদে পড়ে যাবো। কারণ এই অঞ্চলে তামাক হচ্ছে এক মাত্র ফসল। তারা বলেন, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে লাখ লাখ তামাক চাষি বিপাকে পড়বেন। বিড়ি ও সিগারেট একই সময়ে  বন্ধ করার দাবি জানান তামাক চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও ঢাকার বাইরে রংপুর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেটে একই দাবি প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ