ঢাকা, শুক্রবার 27 April 2018, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫, ১০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মেয়রের ভাগ্নের শ্যালক বলে কথা!

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স শাখার আয়কর ভ্যাট এর প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে, শ্রীপুর পৌরসভার মাষ্টাররোল কর্মচারী মহসীন রানার বিরুদ্ধে। তার বাড়ি পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের শ্রীপুর উত্তরপাড়া এলাকায়। তিনি আবার শ্রীপুর পৌর মেয়র মোঃ আনিছুর রহমানের ভাগ্নে মো. আব্দুল মোমেনের শ্যালক। মেয়রের শ্যালক আব্দুল মোমেন পৌর সভায় টিকাদানকারী হিসেবে কর্মরত। মেয়রের ভাগ্নের শ্যালক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীপুর পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স শাখার আয়কর ও ভ্যাট এর প্রতিদিনের আদায়কৃত প্রায় ৯ মাসের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে মাষ্টার রোলের কর্মচারী মহসীন রানা নিজেই আতœসাত করে। আয়কৃত ভ্যাট ও আয়করের টাকা শ্রীপুর শাখা সোনালী ব্যাংকে জমা না দিয়ে জমা রশিদে সোনালী ব্যাংকের সীল ও স্বাক্ষর জাল করে পৌরসভায় টাকা জমার রশিদ এবং ব্যাংক স্টেটম্যান্ট বুঝিয়ে দেয়। 

টাকা আতœসাতের ঘটনা গত ১২ এপ্রিল অফিস চালাকালীন সময়ে প্রকাশ পায়। ঘটনা জানাজানি হলে মেয়রের ভাগ্নের শ্যালক মহসীন রানার সম্মানে লাগে এবং ১৫ এপ্রিল সকালে তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করতে যান। পরে তার আতœীয়-স্বজন তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে বাড়ীতে নিয়ে যায়।

পৌর লাইসেন্স পরিদর্শক কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাবুল হোসাইন ও কঞ্জারভেন্সি ইন্সপেক্টর জহির রায়হান জানান, মাষ্টাররোল কর্মচারী মাহসিন রানা পৌরসভার মেয়র ও সকল কর্মকর্তার সামনে টাকা আতœসাতের ঘটনা স্বীকার করেন এবং টাকা ফেরৎ দেওয়ার শর্তে সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। সব শেষ গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি জানান, আত্মসাতের কিছু টাকা ফেরত দিয়েছেন মহসীন রানা। কিন্তু কত টাকা ফেরত দিয়েছেন সে বিষয়ে জানাতে পারেননি। এ বিষয়ে পৌর সচিবের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন তিনি। 

শ্রীপুর উপজেলা সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার মো. নূরুল আলম আজাদ জানান, পৌরসভার নামে ৮/১০ টি একাউন্ট রয়েছে, কোন একাউন্টটিতে টাকা জমা দেয় নাই তা জানা নাই। পৌরসভা থেকে কোনো অভিযোগ পেলে ব্যাংকের সীল ও স্বাক্ষর জাল করার অপরাধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। শ্রীপুর পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আ. কুদ্দুস হাওলাদার এবিষয়ে, পৌর সচিবের সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। 

তবে বার বার চেষ্টা করেও পৌর সচিব মোহাম্মদ বদরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। পৌর মেয়র মো. আনিছুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ