ঢাকা, শুক্রবার 27 April 2018, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫, ১০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লক্ষ্মীপুরে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

 

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলেন ভূমি কর্মকর্তা শম্ভুলাল মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাদী ও স্বাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেন তিনি। তাছাড়া ওই ভূমি কর্মকর্তা সরেজমিনে না গিয়ে বিবাদীর সাথে আঁতাত করে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে আদালতে দাখিল করেন বলেও জানা গেছে। এদিকে আদালতে চলমান এ মামলার প্রতিবেদন জালিয়াতি করায় বাদীপক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩১ শে জানুয়ারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত লক্ষ্মীপুর, সদর উপজেলা ভূমি অফিসকে মিস মামলা নং-৯৭/১৮ইং এর সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। উপজেলা ভূমি অফিস বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শম্ভুলাল মজুমদারকে দায়িত্ব প্রদান করেন। কিন্তু তিনি বাদী পক্ষকে কোনো প্রকার পূর্ব নির্দেশনা ও নোটিশ জারি করা ব্যতীত ২২ মার্চ একটি বানোয়াট প্রতিবেদন দাখিল করেন। ১১ এপ্রিল প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হলে বাদী আলী আজগর এ বিষয়ে অবগত হন। 

হাসনাবাদ গ্রামের আইউব আলীর ছেলে বাদী আলী আজগর অভিযোগ করে বলেন, বিবাদী পক্ষের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পক্ষপাতিত্বমূলক এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সরেজমিনে না গিয়ে আমার অনুপস্থিতিতে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বিবাদী আবু তালেব গংদের পক্ষে এ প্রতিবেদন দেন ভূমি কর্মকর্তা। এরপর আমাকে একাধিকবার মোবাইলে নিজের অনিয়মের কথা স্বীকার করে পুনরায় প্রতিবেদন তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে অফিসে ডাকেন তিনি। এদিকে স্বাক্ষর জালিয়াতি করায় ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও স্বাক্ষীগণ।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত নামের স্বাক্ষীদের নিকট তাদের স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা ঐদিন তদন্তকালীন সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। এগুলো আমাদের স্বাক্ষর নয়। স্বাক্ষীদের মধ্যে মোহাম্মদ উল্যাহ (৬৫) এবং আনোয়ার হোসেন (৫৫) বলেন, আমরা তো স্বাক্ষর করতেই জানি না! এগুলো ভূমি কর্মকর্তার কারসাজি। শম্ভুলাল মজুমদার এই অফিসে আসার পর থেকেই বিভিন্ন কাজে মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তিনি কিভাবে এসব কাজ করতে পারে তা আমাদের বুজে আসে না। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা শম্ভুলাল মজুমদার বলেন, সরেজমিন তদন্তের পূর্বেই আমি উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করি তবে বাদীপক্ষ নোটিশ পেয়েছে কিনা তা আমি জানি না। তদন্তকালে বিবাদী উপস্থিত ছিলো না কিন্তু তার স্বাক্ষরের স্থলে কে স্বাক্ষর দিয়েছে তা আমি দেখিনি। স্বাক্ষীগণ আমার উপস্থিতিতেই স্বাক্ষর দিয়েছে তবে স্বাক্ষরের স্থলে কে কার নাম লিখেছে এতোটা খেয়াল করি নি। এটা নিয়ে এতো মাতা-মাতির কি আছে? এই প্রতিবেদনে কারো জমি আসবেও না, যাবেও না। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। প্রয়োজনে আবার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরীন ফেরদৌসির সাথে সাথে যোগাযোগের জন্য অফিসে গিয়ে এবং মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ