ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন জোট গঠনে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

অস্ট্রেলিয়া সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার সিডনির আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘গ্লোবাল উইমেন সামিট’-এর প্রেসিডেন্ট Irene Natividad এর কাছ থেকে গ্লোবাল ইউমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করছেন -পিআইডি

সংগ্রাম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতা কাজে লাগাতে এবং তাদের সহযোগিতা ও অধিকার তুুলে ধরতে একটি নতুন বৈশ্বিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য গ্লোবাল সামিট অব উইমেন্স লিডারশিপ এ্যাওয়ার্ড গ্রহণকালে তিনি গতকাল শুক্রবার এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘নারীদের সহযোগিতা ও তাদের অধিকার তুলে ধরতে আমাদের একটি নতুন জোট গঠন করতে হবে। লাখ লাখ নারীর স্বার্থে আমরা অবশ্যই আমাদের অভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ নিয়ে একত্রে কাজ করতে হবে।’
শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ায় ‘গ্লোবাল উইমেন্স সামিট’-এর প্রেসিডেন্ট আইরিন নাতিভিদাদ-এর কাছ থেকে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে মর্যাদাপূর্ণ এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসি) অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল সামিট অব উইমেন্স-এর প্রেসিডেন্ট আইরিন নাতিভিদাদ। এ সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় দেড় হাজার নারী নেতৃত্ব যোগদান করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরুস্কার গ্রহণকালে নারী নেতৃবৃন্দ বেশকিছু সময় দাঁড়িয়ে মুহুর্মুমুহু করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল সামিট অব উইমেন্স বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দানের জন্য শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে।
এর আগে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী উপস্থিত ছিলেন।
 শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন্স লিডারশিপ এ্যাওয়ার্ড-২০১৮ গ্রহণ করে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গভীর সম্মানিত বোধ করছি এবং এই উইমেন্স লিডারশিপ এ্যাওয়ার্ড বিশ্বের নারীদের উৎসর্গ করছিÑ যারা নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারী চেঞ্জ মেকারদের দেখতে পাওয়া আমার জন্য বিশাল আনন্দের বিষয়।’ মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কারের জন্য তাঁকে মনোনীত করায় তিনি গ্লোবাল সামিট উইমেন্স কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি সবাইকে প্রান্তিক, দুস্থ, যারা অনাহারী এবং স্কুলে যেতে অনাগ্রহী ও নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়াতে গতানুগতিক লিঙ্গ বৈষম্য থেকে ফিরে এসে নারীর সক্ষমতা বাড়াতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে নারীদের সমান সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, কোনো মেয়ে ও নারী পিছিয়ে পড়ে থাকবে না।
তিনি বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যা দূরীকরণসহ উৎপাদনশীলতা জোরদার করার আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিডনীতে অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন্স’ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সরকারি সফরে গত বৃহস্পতিবার সকালে এসে পৌঁছেছেন।
প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান ব্যাংকক থেকে অস্ট্রেলীয় সময় সকাল ৭টা ৫ মিনিটে সিডনীর কিংসফোর্ড স্মিথ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে বাংলাদেশের সহযোগিতা চায় ভিয়েতনাম : ভিয়েতনাম ২০২০-২০২১ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) সদস্য পদে প্রার্থীতার পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন প্রত্যাশা করেছে ।
গতকাল শুক্রবার ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যাং থাই নাগক থিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর হোটেল কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাকালে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
 বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান থাই নগক থিন- দু’জনেই ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন্স’ সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।
ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ এওয়ার্ড-২০১৮তে ভূষিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে নারী মুক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়ন এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।
ড্যান থাই নগক থিন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দেশের কর্মকা- এবং ব্যবসা-বাণিজ্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় তিনি ঢাকা এবং নমপেনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনেও আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা এবং পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানকালে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য প্রদানের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ তাঁর হোটেল কক্ষে এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
 বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অস্ট্রেলীয় সরকারের কী ভূমিকা হতে পারে সে সম্পর্কে জানতে জুলি বিশপ বৈঠকে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার সরকারের প্রতি চাপ অব্যাহত রাখার এবং বিপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সহযোগিতার হস্ত প্রসারিত করার আহ্বান জানান।
 শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তি স্বাক্ষরির হয়েছে। যদিও তারা (মিয়ানমার) এটাকে অস্বীকার করছে না কিন্তু তারা চুক্তির বাস্তবায়নও করছে না।
অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায় ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদানে শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেন। অস্ট্রেলিয়া এ বিষয়টিতে সর্বান্তকরনেই বাংলাদেশের পাশে থাকেছে, বলেন তিনি।
 বৈঠকে জুলি বিশপ শেখ হাসিনাকে নারী মুক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্ব নারীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক এবং সাহসী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
 দেশের রাজনীতিতে এবং জাতীয় সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সেই সাথে সাথে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে নারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর বিভিন্ন সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ