ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গুলীতে যুবলীগ নেতা খুন

সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মো. ফরিদুল ইসলামের স্বজনদের আহাজারি

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে ক্যাবল ব্যবসার বিরোধের জেরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গুলীতে যুবলীগ নেতা ফরিদুল ইসলাম (৪০) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে নগরীর চকবাজার থানার ডিসি রোড কালাম কলোনির মুখে গুলীবিদ্ধ হন ফরিদুল। বিকাল ৪টা ২৭ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী রিয়াজ চৌধুরী রাসেল ফরিদকে গুলী করে বলে প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান।
নিহত ফরিদুল ইসলাম নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া চাঁন মিয়া মুন্সী রোডের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরীর চকবাজার ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
নগরীর চকবাজার থানার ওসি নুরুল হুদা বলেন, ক্যাবল ব্যবসার বিরোধে দুই পক্ষের বিরোধে গুলীবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে চমেক হাসপাতালে ছুটে যান নিহত ফরিদুল ইসলামের পরিবাররে সদস্যরা। সেখানে ফরিদুলের মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী জারা বলেন, বাবা দুপুরে ভাত খেতে বাসায় এসেছিল। এসময় একটা ফোন আসলে তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরই আরেকটা ফোন আসে। কেউ একজন আমাদের মেডিকেলে আসতে বলে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাবল ব্যবসার বিরোধ নিয়ে এমদাদুল হক বাদশার অনুসারী এবং স্থানীয় ফয়সাল ও রাসেলের নেতৃত্বে এম এ মুসার অনুসারী পক্ষ শুক্রবার সকাল থেকেই মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। বেলা আড়াইটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলী শুরু হয়।
এমদাদুল হক বাদশাসহ তিনজনের মালিকানাধীন কেসিটিএন নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকার ক্যাবল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কেসিটিএনের তিন মালিক হলেন- এমদাদুল হক বাদশা, প্রসুন কান্তি নাগ ও শ্যামল কুমার পালিত। নিহত ফরিদুল এমদাদুলের বন্ধু।
 কেসিটিএনর কর্মচারী কুতুব উদ্দিন বলেন, স্থানীয় একটি পক্ষ ডিশ ব্যবসা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। আজ (শুক্রবার) তারা কামাল কলোনির মুখে গুলী চালিয়ে ব্যবসার দখল নিতে গেলে ফরিদুল ইসলাম বাধা দেন। এসময় তার গায়ে গুলী লাগে।
অভিযোগ উঠেছে, নগর আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ নামধারী রিয়াজ চৌধুরী রাসেল, মুরাদ, সারোয়ার, মজনু ও মাসুদের নেতৃত্বে অর্ধশত সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে কেসিটিএন ক্যাবল টিভি নেটওর্য়াক এর লাইন দখল করে নেয়। সন্ত্রাসীরা নগরীর ডিসি রোড় কবরস্থান থেকে মিয়ার বাপের মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ৫শ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
 কেসিটিএন ক্যাবল টিভি নেটওর্য়াক এর পার্টনার ও সিসিএল’এর পরিচালক শ্যামল পালিত ও পসূন কান্তি নাগ এ ব্যাপারে চকবাজার থানার ওসিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বার বার অভিযোগ দিয়ে পুলিশের কোন সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে ১৫ বছর ধরে বৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসেছি। অথচ গত কয়েকমাহ ধরে এলাকার সন্ত্রাসী গ্রুপ আমাদের কর্মচারীদের মারধর সংযোগ বিচ্ছিন্ন, হুমকি ধমকি দিয়ে আমাদের সাইট দখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসাছিল। তারা সন্ত্রাসী ভাড়া করে দলীয় নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে ৫শ বেশী সংযোগ দখল করে নিয়েছে।
শ্যামল পালিত বলেন, কে কোন দল বা কোন রাজনীতি করে সেটা বিবেচ্য নয়। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেন তারা এ অপকর্ম করবে? আমরা এব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাচ্ছি না। চকবাজার থানার ওসি আমাকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, এরা মেয়রের লোক, আমি যেন মেয়রের সাথে কথা বলি। তিনি বলেন, এর আগেও সন্ত্রাসীরা দিদার মার্কেট এলাকায় আমাদের দুটি সাইটের প্রায় ১২ শত লাইন দখল করে নিয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশের কোন সহযোগিতা পায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ