ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গণপরিবহনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: গণপরিবহন খাতকে সবপ্রকার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। তারা বলেন, শক্ত হাতে সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরতে হবে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সড়ক দুর্ঘটনাবিরোধী মানববন্ধন ও সমাবেশে’ রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক নেতা ও আইনজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকেরা এসব কথা বলেন। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি এই মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউয়ের সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সম্পাদক হাসান তারিক চৌধুরী সোহেল, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাজন ভট্টাচার্য, নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মো. গণি মিয়া বাবুল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মশিউর রহমান, ডিআরইউয়ের সহ-সভাপতি গ্যালমান শফি, সাবেক অর্থ-সম্পাদক রেজাউল করিম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) কার্যনির্বাহী সদস্য সাকিলা পারভীন রুমা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া প্রমুখ।
অব্যাহত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির জন্য গণপরিবহন খাতের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে দায়ী করে বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতাই মন্ত্রী। ফলে বাস-ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। সাধারণ মানুষের সেবা ও নিরাপত্তা নয়, তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য শুধুই মুনাফা অর্জন।
বাংলাদেশের পরিবহন শ্রমিকরা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্ছৃঙ্খল উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালিকদের বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গী আর শ্রমিকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যাচ্ছে না।
সব ধরনের গণপরিবহনে চাঁদাবাজি রোধ এবং বাসের মধ্যে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়াবাবদ নগদ টাকা নেয়া বন্ধ করে স্টপেজভিত্তিক কাউন্টার থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রির পদ্ধতি চালুর দাবি জানান তিনি।
গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য নুরুর রহমান সেলিম বলেন, গণপরিবহন খাতকে সর্বপ্রকার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শক্ত হাতে সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরে জাতিকে দুর্ঘটনার অভিশাপ মুক্ত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ মিয়া বলেন, সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্য বন্ধ করতে হলে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে, যাতে তারা চাপমুক্ত হয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে পারেন।
মানববন্ধনে জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। সাধারণ মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধে দেশের সব বাস ও ট্রাক টার্মিনাল চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। শ্রমিকসহ সব ধরনের পরিবহনকর্মীদের বেতন-ভাতা, সাপ্তাহিক ছুটি, দৈনিক কর্মঘণ্টা নির্ধারণসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা দেয়ার দাবি জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ