ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অস্তিত্ব সংকটে শাহজাদপুরের সহস্রাধিক পোল্ট্রি খামার

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ ) ব্রয়লার মুরগীর একটি গ্রামীণ খামার

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : শাহজাদপুরে পোল্ট্রি শিল্পের চরম দুর্দিন চলছে। বয়লার মুরগীর ফিড, ভ্যাকসিন, ভিটামিন, এ্যান্টিবায়োটিক, ক্যালসিয়াম সহ অন্যান্য ঔষধের অব্যাহত দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়  পোল্ট্রি শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। গত ২ মাসে বেশ কয়েকটি ব্রয়লার মুরগীর খামার বন্ধ হয়ে  গেছে বলে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়। পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চরম আর্থিক দৈন্যতায় কাটাতে হচ্ছে। বয়লার মুরগীর পোল্ট্রি খামারীরা লাখ-লাখ টাকা পুঁজি দিয়ে শেড নির্মাণ করে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু খরচের তুলনায় বাজারে বয়লার মুরগীর চাহিদা এবং দাম কম হওয়ায় অব্যাহতভাবে লোকসান দিয়ে তাদেরকে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কোনভাবে সম্ভব হচ্ছেনা বলে অনেক খামারী জানান। যার ফলে অনেক খামারী তাদের পোল্ট্রি খামার ব্যবসা গুটিয়ে নিতে একরকম বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া, ব্যাংক, এনজিও ঋণ এবং পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারায় অনেক খামারী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন পোল্ট্রি খামারে গিয়ে দেখা যায়, লাখ-লাখ টাকা খরচ করে খামারের জন্য তৈরী করা শেডগুলো শূণ্য পড়ে আছে। বর্তমানে এ শিল্পের সাথে জড়িত মালিক, ফিড ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকরা বেকার হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এদিকে, শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, অতীতে নিবন্ধন এবং নবায়ন ফি ছাড়া খামার রেজিস্ট্রেশনভুক্ত করা হলেও সম্প্রতি প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে খামার নিবন্ধন ও নবায়নের ফি ধার্য করায় খামারীদের নিকট নিবন্ধন ও নবায়ন ফি ‘ মরার উপর খড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ৫বছরের জন্য লেয়ার মুরগীর খামারের নিবন্ধন ফি ধার্য করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা, নবায়ন ফি ধার্য করা হয়েছে ৩ হাজার ৫শ টাকা। বয়লার মুরগীর খামারের নিবন্ধন ফি ধার্য করা হয়েছে ২হাজার ৫শ টাকা এবং নবায়ন ফি ধার্য করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। জানা যায়, বয়লার মুরগীর বিভিন্ন কোম্পানির পোল্ট্রি ফিডের দাম ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ২হাজার ১শ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২হাজার ৩শ ৩০টাকা হয়েছে। আবার কোন কোম্পানীর ফিড ২হাজার ৪শ ৩০টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বয়লার মুরগীর প্রতিটি বাচ্চা ২৫টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৫৫টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। ফিড ব্যবসায়ীরা ভুট্টার, খৈল, তৈলের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে প্রতিনিয়ত খাদ্যের দাম বৃদ্ধি করছেন। ঔষধ কোম্পানি নোভারটিস, স্কয়ার, রেনেটা, অপসোনিন, এফ. এন. এফ, পল্টাটিনা, নিউটেক সহ বিভিন্ন কোম্পানির ঔষধের দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাণীক্ষেত রোগের ভ্যাকসিন গত ২মাসের ব্যবধানে ২শ ৫০টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫শ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গামব্রোরো রোগের ভ্যাকসিন ৬শ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১হাজার টাকা হয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য এ্যান্টিবায়োটিক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি সহ বিভিন্ন ঔষধের দাম ৪০টাকা থেকে ১শ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। খামারীরা প্রতি কেজি বয়লার মুরগী পাইকারী হারে ১শ ২৫ টাকা থেকে ১শ ৩০টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা ১শ ৫০টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ জানান, বেশ কয়েকটি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের কর্মীরা জরিপ কাজ করছেন। এনিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। মুরগীর খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে আমাদের কোন হাত থাকে না। আমাদের নিকট স্বল্প মূল্যের রাণী ক্ষেত এবং গামব্রোরো রোগের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। কিন্তু খামারীরা আমাদের নিকট আসেনা। তারা ফিড ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের নিকট জিম্মি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সেখান থেকে তাদেরকে মুক্ত করতে পারলে খামারীরা লাভবান হবে বলে আমি মনে করি। খামারীরা আমাদের নিকট আসলে আমরা তাদেরকে টেকনিক্যাল সহযোগিতা সহ সব ধরণের সহযোগিতা করবো। তিনি আরো জানান, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে খামারীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা থাকলে আমরা তাদেরকে আরো বেশি সহযোগিতা করতে পারতাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ