ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তারেক রহমানকে দেশে আনার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেই -খন্দকার মোশাররফ

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ৭ দিনও অবস্থান করেন, তবু তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনতে পারবেন না। কারও কোনও ক্ষমতা নেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরানো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি যেদিন বলবেন আমি বাংলাদেশে যাব, সেদিনই কেবল তাকে আনা যাবে। তার আগে নয়।
তারেক রহমান ব্রিটিশ আইন মেনেই সে দেশে অবস্থান করছেন দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “বাংলাদেশ সরকার তার লন্ডনে অবস্থান নিয়ে জনগণকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেছে। সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। রাজনৈতিক আশ্রয় পেলে ওই ব্যক্তি যতদিন না বলবে আমার নিজের দেশে যাওয়ার পরিবেশ হয়েছে, তার আগে কারও কোনও ক্ষমতা নেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যেকোনও মূল্যে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’ তিনি যেভাবে তারেক রহমানকে আনতে চান সেভাবে আনা যাবে না।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে অভিযোগ করে মোশাররফ আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি তার সুচিকিৎসার সুবিধার্থে মুক্তি দেওয়া হোক, যেন তিনি মুক্ত হয়ে পছন্দমতো চিকিৎসা করতে পারেন।’
খালেদো জিয়া ও বিএনপিকে বাইরে রেখে সরকার আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে চায় বলে মনে করেন সাবেক এ মন্ত্রী। তিনি বলেন, তবে এটা হতে দেওয়া হবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও একাদশ নির্বাচন একই সূত্রে গাঁথা। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশে কোনও নির্বাচন হবে না। সরকার খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাইরে রেখে আবার একটি পাতানো নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশে এটি আর কখনো হবে না। এবারের নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জানে দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারা পরাজিত হবে। তাই তারা সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ ভোট দিতে ভয় পায়। তাই খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে একটি পাতানো নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু দেশের জনগণ তাদের সেই স্বপ্ন কখনো পূরণ হতে দেবে না।
মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নূরে আরা সাফা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. মালেক প্রমুখ। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মানবন্ধন করার কথা থাকলেও বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা এম শামসুল ইসলামের মৃত্যুতে তা বাদ দিয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ