ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মস্তকবিহীন মহিলার লাশের পরিচয় মিলেছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করুলিয়া খাল থেকে উদ্ধারকৃত মস্তকবিহীন মহিলার লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহত মহিলা হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার অটোরিকসা চালক ইব্রাহিম আলী বাবুর স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার-(২২)।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃত নিহতের স্বামী ইব্রাহীম আলী লাশ উদ্ধারের ৫ দিন পর গতকাল শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আয়েশা বেগমের আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে। এর মধ্য দিয়ে ক্লুলেস এই হত্যাকান্ড ঘটনার রহস্য উম্মোচিত হয়েছে।
হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ জিয়াউল হক জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আয়েশা বেগমের আদালতে নিহতের স্বামী ইব্রাহিম আলী বাবু হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। জবানবন্দীতে ইব্রাহিম আলী জানান, দাম্পত্য কলহ ও পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস থেকে  দেনমোহরের টাকা বাড়ানোর জন্য প্রায়ই তাকে চাপ প্রয়োগ করতো ইয়াসমিন। এনিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। ইয়াসমিনের দাবি ছিল  দেনমোহর তিন লাখ টাকার পরিবর্তে ১০ লাখ টাকা করে দিতে। স্ত্রীর চাপাচাপিতে ইব্রাহিম এক পর্যায়ে রাজি হলেও ১০ লাখ টাকার দেনমোহরের রেজিষ্ট্রি ‘ফি’ ১৬ হাজার টাকা তার  দেয়ার সামর্থ ছিলনা। কিন্তু ইয়াসমিন এই দাবিতে অনড় ছিলো।
গত ১৬ এপ্রিল রাতে ঘুমানোর সময় ইয়াসমিন আবারো  দেনমোহরের বিষয়ে তাকে বললে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ইব্রাহিম ঘরে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে ইয়াসমিনের গলায় আঘাত করে। পরে শ্বাসরোধ করে ইয়াসমিনকে হত্যা করে ও শরীর  থেকে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
পরদিন ১৭ এপ্রিল  ভোরে ইয়াসমিনের লাশ বস্তায় ভরে অটোরিকশায় করে নিয়ে তিতাস নদীতে ফেলে দেয় ইব্রাহিম। পরে পৌর এলাকার কাউতলি ব্রীজের উপর  থেকে ইয়াসমিনের মাথা কুরুলিয়া খালে  ফেলে দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিয়াউল হক জিয়া আরো বলেন, আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার-(২২) এর সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার রমজান আলীর ছেলে ইব্রাহিম মিয়ার গত পাঁচ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে মাইশা নামে তাদের চার বছরের এক কন্যা শিশু রয়েছে। ইব্রাহিমের বাবা-মা তাদের বিয়ে মেনে না নেয়ায় ইয়াসমিনকে নিয়ে পৌর এলাকার কাউতলি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো তারা।
গত ২২ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার নয়নপুর গ্রামের কুরুলিয়া খালে একটি বস্তা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বস্তার উদ্ধার করে এর মুখ খুলে দেখে মাথাবিহীন এক মহিলার লাশ। মাথা না থাকায় লাশটি কার তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন তিনি (জিয়াউল হক)।
পরবর্তীতে ইয়াসমিনের মা মনোয়ারা বেগম জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে এসে লাশটি তার মেয়ের বলে সনাক্ত করেন। এ সময় ইব্রাহিম আলী শ্বাশুরীকে বলেন, এটি তার মেয়ের লাশ নয়। ইয়াসমিন বাসা থেকে পালিয়ে গেছে। ইব্রাহিম আলী তার শ্বাশুরীকে একজন খনকারের কাছে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ইয়াসমিনের লাশকে অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিজুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করলে তারা ইয়াসমিনের লাশ দাফন করে।
পরে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ২২ এপ্রিল রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইয়াসমিনের স্বামী অটোরিকশা চালক ইব্রাহিমকে আটক করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ