ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত ॥ নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর চারঘাটে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কথিত ডাকাত নিহত হয়েছে। এছাড়া গোদাগাড়ীতে নিখোঁজের একদিন পর এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে বাঘা-চারঘাট সড়কের হাজির ঢালান এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রায়হান সরদার নামে এক ডাকাত নিহত হয়। এসময় আহত হন চার র‌্যাব সদস্য। রায়হান বাঘা উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙা জোতরাঘব গ্রামের মতলেব সরদারের ছেলে। র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর এএম আশরাফুল ইসলাম জানান, আহত চার র‌্যাব সদস্যকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশী পিস্তল, ম্যাগজিন, চার রাউন্ড গুলী, দু’টি ধারালো রামদা’, দু’টি ছুরি, রেঞ্জ ও লোহার রড জব্দ করা হয়। তিনি আরো জানান, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে র‌্যাবের একটি দল চারঘাটে টহল দিচ্ছিল। এসময় হাজির ঢালান এলাকার লোকজন তাদের জানান যে কয়েকজন ডাকাত এলাকার একটি মাঠে জড়ো হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে র‌্যাব সেখানে অভিযানে যায়। এসময় ডাকাতরা তাদের লক্ষ্য করে গুলী ছুড়লে তারাও পাল্টা গুলী ছোড়ে। একপর্যায়ে রায়হান নামে এক ডাকাত গুলীবিদ্ধ হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে গুলীবিদ্ধ রায়হানকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রায়হান সরদারের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ধর্ষণ এবং অপহরণসহ অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। তার লাশ চারঘাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিশুর লাশ উদ্ধার : গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নিখোঁজ তামিম হোসেন নামে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুর লাশ একদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। সে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি রাসেল হোসেনের ছেলে। গতকাল শুক্রবার ভোরে কে বা কারা শিশুটির লাশ বাড়ির সামনে ফেলে যায়। শিশুটির বাবা রাসেল জানান, কারো সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। তবে জমিজমা নিয়ে মাঝে-মধ্যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার ছোটখাটো ঝামেলা হতো। এখন কে বা কারা তার অবুঝ শিশুকে হত্যা করেছে তা বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী সবখানে খোঁজ করা হয়। শুক্রবার ভোর রাতে তামিমের নিথর দেহ বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে শব্দ পেয়ে বাইরে এসে তার লাশ পাওয়া যায়। গোদাগাড়ী থানার পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ওই গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শিশুটি মাথার মাঝখানে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

পুঠিয়ায় কিশোরী ধর্ষণ
চার জনকে আসামী করে মামলা দায়ের
রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর পুঠিয়ায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ঘটনার প্রায় ৯ দিন পর নির্যাতিত কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গত বুধবার রাতে ৪ জনকে আসামী করে পুঠিয়া থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উপজেলার তারাপুর গ্রামের এক ব্যক্তির মেয়ে (১৪) ও তারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। মেয়েটির পরিবার জানায়, গত ১৮ এপ্রিল সকালে মেয়েটি স্কুলে যাবার জন্য বের হয়। কিন্তু স্কুল ছুটির সময় পার হয়ে সন্ধ্যা নেমে এলেও মেয়েটি বাড়ি না ফেরায় স্কুলে খোঁজ নেয়া হয়। কিন্তু স্কুলে গিয়ে জানা যায় সে সেদিন স্কুলেই যায়নি। বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করেও মেয়েটির কোন সন্ধান মেলেনি। পরদিন ১৯ এপ্রিল সকালে মেয়েটির সৎ ভাই আবদুর রহিম উপজেলার পৌর এলাকার পালোপাড়া গ্রামে তার খালার বাড়িতে মেয়েটির সন্ধান দিলে পরিবারের লোকজন তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তার সঙ্গে পাশবিক নির্যাতনের কথা স্বীকার করে। এদের মধ্যে একজনকে ছাড়া বাকিদের সে চিনতে পারেনি। পরে মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এর রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে বৃহস্পতিবার থানায় এসে তার মা ৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুঠিয়া থানার পুলিশ জানায়, এব্যপারে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ আইনে মামলা নেয়া হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষাতেও ধর্ষণের আলামত মিলেছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ