ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হাইওয়ে পুলিশের সাথে সিএনজি চালকদের সংঘর্ষে পুলিশসহ ১০ জন আহত

চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির মোড় এলাকায় সিএনজি অটোরিক্সা আটকের জের ধরে হাইওয়ে পুলিশের সাথে সিএনজি চালকদের সংঘর্ষে পুলিশ সহ ১০ জন আহত হয়েছে।
প্রতক্ষ্যদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের খবর, সাতকানিয়ায় দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়ক থেকে দু’টি সিএনজি অটোরিকশা আটক করাকে কেন্দ্র করে সিএনজি শ্রমিকদের একটি দল দোহাজারী হাইওয়ে থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে দুইজন অটোরিকশা চালক গুলিবিদ্ধসহ ৫জন আহত হয়। এসময় চালকদের হামলায় ৫পুলিশ সদস্যও আহত হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক অটোরিকশা চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।
 সিএনজি চালকেরা জানান, সম্পূর্ণ বিনা কারনে হাইওয়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে দুইজন চালক গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ চালকদ্বয় হচ্ছেন সাতকানিয়ার ঢেমশার নুরুল আমিনের পুত্র মোহাম্মদ ফরিদ (৩০) ও পৌর এলাকার আবদুস শুক্কুরের পুত্র শফিকুল ইসলাম (২৮)। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত ট্যাক্সি চালক ফরিদুল আলমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে একটি বেসরকারি হাসাপাতালে পরে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশ বলছে,আহত হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা হলেন-এএসআই মো. শাহ আলম (৪২), কনস্টেবল মো. রুবেল (২৬), মো. মোবারক (২৮), নারায়ণ চন্দ্র (৪৬) ও ছালেহ নুর (৩৬)।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল কেরানীহাট এলাকায় মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচল করার অভিযোগে দুইটি সিএনজি অটোরিকশা আটক করে। এ সময় অটোরিকশাগুলো পুলিশের কাছ থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় চালক শ্রমিকরা। পুলিশ অটোরিকশা দু’টি থানায় নিয়ে আসে। এর ঘন্টাখানেক পর শতাধিক অটোরিকশা চালক ও শ্রমিক একত্রিত হয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানা ঘেরাও করতে আসে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ চালক শ্রমিকরা থানার সামনে বিক্ষোভ করে থানায় হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসময় পুলিশ দুই রাউন্ড গুলি বর্ষণ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যায়।
সাতকানিয়া রাস্তারমাথা অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন , হাইওয়ে পুলিশের দল প্রতিদিন মহাসড়কের বাহির থেকে সিএনজি অটোরিকশা আটক করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করে আসছিল। বৃহস্পতিবারও চাঁদা আদায়ের জন্য তারা জোরপুর্বক দু’টি অটোরিকশা আটক করে। অটোরিকশাগুলো আটকের প্রতিবাদ জানাতে চালক শ্রমিকের একটি দল হাইওয়ে থানার সামনে যায়। কোন ধরনের উসকানী ছাড়াই পুলিশ তাদের উপর গুলিবর্ষণ করে। এতে দুইজন চালক গুলিবিদ্ধ হয় এবং আরো কয়েকজন আহত হয়। এসময় তিনি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের নিত্য হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানান।
ঘটনার পরপর হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ