ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাংগুনিয়ায় চাঞ্চল্যকর মামলায় আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

রাংগুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: ২৭ বছর আগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দুই ব্যক্তির চোখ উৎপাটন ও এসিড দিয়ে মুখমন্ডল ঝলসে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর মামলায় আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৫ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ স্বজন কুমার সরকার এ রায় দেন। রায়ে দুইজনকে ১০ বছর, ছয়জনকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
১৯৯১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সোবহানের দুই ছেলে কবির আহমদ ও সবুর আহমদের চোখে খেজুর কাঁটা দিয়ে খুঁচিয়ে এবং মুখে এসিড নিক্ষেপ করে নৃশংসতা চালায় আইয়ুব বাহিনীর প্রধান আইয়ুব ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় মামলা করায় ওই বছরের ৩০ অক্টোবর দুই সহোদরের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সোবহানকে ধরে নিয়ে যায় আইয়ুব বাহিনী। ১২ দিন পর সোবহানের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মুক্তিযোদ্ধা সোবহানের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম নিশিন্তাপুর।
আদালত সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধা সোবহানের সঙ্গে জমি-জমার বিরোধ নিয়ে মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। ১৯৯১ সালের ১৭ মার্চ আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে সোবহানের দুই ছেলে কবির ও সবুরকে তুলে নিয়ে যায় আইয়ুব ও তার সহযোগীরা। এরপর তাদের হাত-পা বেঁধে খেজুর কাঁটা দিয়ে খুঁচিয়ে চোখ উপড়ে ফেলে এবং এসিডে তাদের মুখম-ল ঝলসে দেয় তারা। ভুক্তভোগী দুই ভাইয়ের মধ্যে কবির পরে মারা যান।এ ঘটনায় সোবহানের আরেক ছেলে ফরিদুল আলম তিনজনের নাম উল্লেখ করে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করেন। ১৯৯২ সালে ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। একইবছর ২১ মার্চ আসামিদের বিচার শুরু করেন আদালত। ১৮ জন সাক্ষী আদালতে উপস’াপন করা হয়।
জানা গেছে, চলতি বছর ১২ এপ্রিল দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস’াপন শেষ হয়। ১৩ আসামির মধ্যে আইয়ুব ও ইব্রাহিমকে দশ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে।আসামি সোলায়মান, ইউসুফ, আবদুল হক, জাফর, গোলাম কাদের ও দুলাহ মিয়াকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদ- ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আবদুস সালাম, আবুল হাশেম, জাহাঙ্গীর ও হাশেমসহ ৫জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। খালাস পাওয়া আসামির মধ্যে রফিক নামের একজন ইতোপূর্বে মারা গেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, দুই সহোদরকে তুলে নিয়ে চোখ উৎপাটন ও এসিড দিয়ে মুখম-ল ঝলসে দেয়ার ঘটনার পর ১৯৯১ সালের ১ নভেম্বর আইয়ুব বাহিনীর লোকজন মুক্তিযোদ্ধা সোবহানকেও হত্যা করে। ওই ঘটনায় করা মামলায় ২১জন আসামির মধ্যে আইয়ুবসহ ১৭জনের যাবজ্জীবন সাজা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ