ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লিংকনের দাড়ি

আখতার হামিদ খান : আব্রাহম লিংকন। তিনি ছিলেন আমেরিকার ষষ্টদশ প্রেসিডেন্ট। তোমরা অনেকেই এই প্রেসিডেন্টের ছবি দেখেছে। হাসি হাসি মুখ। মুখে হাল্কা দাড়ি। দু:খের কথা হলো- এই ভালো মানুষটিকে আঁততায়ী হত্যা করেছিল। অপরাধ কালো চামড়াওয়ালা লোকগুলোকে মানুষের অধিকার দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাদা চামড়াওয়ালারা সহ্য করতে পারলো না। তাই তাঁকে খুন করলো। তার মুখের দাড়ি রাখার একটি সুন্দর গল্প আছে। তাই তোমাদের আজ বলবো।
আব্রাহাম ছোট বড় সবার প্রিয় ছিলেন। তার বক্তৃতা এবং কথা বলা সকলকে মুগ্ধ করতো। আরেকটি বিশেষ গুণ ছিল, তাঁকে যদি কেউ ব্যক্তিগত চিঠি লিখতো তবে তিনি নিজ হাতে তার জবাব দিতেন।
একবার একটি সাত-আট বছরের মেয়ে আব্রাহাম লিংকনের একটি ফটো হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিল। হঠাৎ জানালার আলো এসে পড়লো। সাথে ছায়া। আলো ছায়া দাড়িহীন লিংকনের মুখে দাড়ির মতো দেখাচ্ছিল। মেয়েটির চোখে খুব সুন্দর লাগছিল। সে তৎক্ষণাৎ কাগজ কলম নিয়ে বসল। একটা চিঠি লিখল লিংকনকে।
প্রিয় প্রসিডেন্ট,
সুপ্রভাত। আমার বয়স আট। আমি আপনার মায়ের মতো, আপনার একটা ছবি নিয়ে জানালার পাশে বসে দেখছিলাম। হঠাৎ আলো ছায়ায় আপনার মুখে দাড়ির মতো দেখাচ্ছিল। আমার চোখে ভালো লাগছিল। আমার অনুরোধ আপনি দাড়ি রাখুন। আমি খুব খুশী হব।
আব্রাহাম লিংকন তার চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে ছোট্ট জবাব দিয়েছিলেন।
প্রিয় ছোট্ট মা,
তোমার অনুরোধ রাখবো বলে জানাচ্ছি। আগামী মাসে তোমার এলাকায় একটি সভায় আমি ভাষণ দেব। সেখানে আমাকে দাড়িওয়ালা দেখতে পাবে। খুশী তো?
আব্রাহাম লিংকন পরের মাস। ঐ এলাকায় জনসভা হলো। লিংকন ভাষণ দিলেন। ভাষণ শেষে বললেন, এই এলাকার আমার একটি ছোট্ট মা আমাকে দাড়ি রাখার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছিল। আজকের সভায় যদি সে এসে থাকে, তবে তাকে হাত উঁচু করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। নিরাপত্তা প্রহরীদের তাকে আমার কাছে নিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।
সভার এক কোণায় ছোট্ট দুটি হাত উঁচু করতে দেখা গেল। কিছুক্ষণের মধ্যে রাস্তা হয়ে গেল। মেয়ে তার বাবার হাত ধরে আব্রাহাম লিংকনের কাছে এল। তিনি তাকে সাদরে কোলে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন। মেয়েটি তার মুখের দাড়িতে হাত বুলিয়ে দিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ