ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাঝি যত ভাল হোক না কেন নৌকার তলা ঠিক না থাকলে পার হওয়া বড় কষ্ট

খুলনা : বিএনপির স্থায়ীকমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন

খুলনা অফিস : কেসিসি নির্বাচনে কেন্দ্র গঠিত ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে আমি শক্তিশালী মনে করি না। কারণ দশ বছরের সরকার সম্পর্কে পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ অবগত। সুতরাং মার্কাটা নৌকা; নৌকার মার্কার সরকার। এই সরকারের কর্মের গায়ে যে দোষ; তা তো নৌকার উপরেই বর্তায়। সুতরাং নৌকার মাঝি যতোই ভাল হোক না কেন, নৌকার তলা যেখানে ঠিক নাই সে নৌকা পার করা বড় কষ্ট। আমি শতভাগ নিশ্চিত খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ফলাফলে যে আমরা জয়ী হবো সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু নির্বাচনটা কেমন হবে? সাংবাদিকদের মাধ্যমে যে খবর পাই; তাতে এই বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়া খুব কঠিন কাজ না। তাতে এই নির্বাচনটা অনেকটাই তারাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। মাহবুব উল আলমদের মতো লোকদের যে ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকী স্বরূপ। বহুদলীয় গণতন্ত্র হয়; একদলীয় গণতন্ত্র হয় না। তাদের ভাষাটি কিন্তু সব সময় একদলীয়।’ গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন।
আওয়ামী লীগের একজন নেতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মাহবুব উল আলম হানিফ যদি বলেন যতক্ষণ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন ততোদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই থাকবেন, তাহলে আমি বলবো প্রধানমন্ত্রী সুস্থ নাই। যদি তিনি বলতেন যতদিন তিনি অসুস্থ আছেন, ততোদিন ক্ষমতায় থাকবেন; তাহলে কথাটার অর্থ থাকে। কারণ রাজনীতিতে অসুস্থ না হলে এধরণের বক্তব্য আসে না। ক্ষমতায় থাকা- না থাকার বিষয়টা যেহেতু জনগণের ইচ্ছার একটা বিষয় আছে, সেখানে এইধরণের দাম্ভিকতা থাকাটা ভাল না। আর যতোদিন জীবিত আছেন ততোদিন ক্ষমতায় থাকবেন এটা যদি হয় তাহলে বলবো, এই শব্দটা কিন্তু গণতান্ত্রিক শব্দের সাথে সাংঘর্ষিক। কথাটা যদি হতো জনগণ যতোদিন চায় ততোদিন ক্ষমতায় থাকবেন, তাহলে ঠিক ছিল। দেশটার মালিক যদি জনগণ হয়, তাহলে আমার ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা যদি জনগণের ইচ্ছার বাইরে হয় তাহলে আমি করবো তারা সুস্থ্য নয়। তারা রাজনীতিকভাবে অসুস্থ। অসুস্থ ভাবনাকে সফল করে এবং অসুস্থ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী ও চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করতে পারে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তাদের এই আকাঙ্খা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণ কি করবে। আর ওবায়দুল কাদেরে বক্তব্য সম্পর্কে মন্তব্য করতেও আমার রুচিতে বাঁধে।’
অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকেই স্থানীয় সরকার দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকার অনেকটাই সংসদ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই সংসদ সদস্য যারা হন অত্র এলাকার স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিরা সামার্থ্যরে বাইরে তেমন কিছুই পারেন না। এটাই বাস্তবতা। উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে তাদের সাথে সমন্বয় করতে হয়। স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি যারা নির্বাচিত হন; তাদেরও কাজ করার অধিকার আছে। কিন্তু সরকার অন্যায়ভাবে মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে তাদেরকে বরখাস্ত করেন, কাজ থেকে বিরত রাখেন। এটা একটা খারাপ অভ্যাস। ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি যদি শক্তিশালী না হন; তাহলে কিন্তু সামাজিক অস্থিরতা অনেক বাড়ে। সমাজের অনেক ছোট-খাটো অনেক কিছু বিষয় আছে যেগুলো স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে নিজস্ব উদ্যোগে সেগুলো সমাধান করতে পারেন। উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের বাইরেও নির্বাচিত প্রতিনিধির বাইরেও কিছু কাজ থাকে। আবার এই নির্বাচনগুলোও রাজনৈতিক। কে কোন দলের প্রার্থী, সেই দলের দোষ-গুণের কথাও কিন্তু আসবে। অর্থ্যাৎ এই ভোটের প্রশ্নে স্থানীয় জনগণের কাছে জাতীয় রাজনীতির প্রভাবটাও বেশি পড়বে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ। তিনি স্বাভাবিক জীবন-যাপনের অধিকার থেকেও বঞ্চিত। দেশনেত্রীকে জেলেই রেখেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি- নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনটির অংশ হিসেবে। ব্যাপক জনগোষ্ঠির কাছে যেমন ভোট চাচ্ছি, তেমনি নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনের বার্তাও কিন্তু ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যূর থেকেও জাতীয় ইস্যু স্থান পাবে। সে কারণেই বিএনপি’র প্রার্থী ধানের শীষ’র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনাবাসী ভোট দেবে। যারা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আস্তাশীল তারা স্থানীয় ইস্যুগুলো বা বিষয়গুলো গুরুত্ব না দিয়ে জাতীয় বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্ব দেবে।
বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশ গণতান্ত্রিক সংকটাবস্থা চলছে। পারিপারশ্বিক অবস্থা সবকিছু মিলেই খুলনা সিটি নির্বাচনের গুরুত্বটা খুলনাবাসী তথা দেশবাসী আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। এ নির্বাচনের ফলাফলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচনটি কেমন হয়। ফলাফল তো একটা হবেই জয়, পরাজয়। সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় কি না? কারণ সামনে জাতীয় নির্বাচন। ছোটখাটো স্থানীয় নির্বাচনগুলোর মধ্যদিয়েই কিন্তু সাধারণ মানুষ পর্যবেক্ষণ করে যে আমাদের জাতীয় নির্বাচনটা কেমন হতে পারে। সে কারণেই এ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দেশবাসী। বক্তব্যের শুরুতেই এ কথা বলে খুলনাবাসীর মনোভাব জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রশ্নোত্তর ওই জাতীয় নেতা বললেন, ‘আমরা নির্বাচনী মাঠে থাকতে চেষ্টা করবো। তারপরে মাঠে থাকতে চাইলেও অনেক সময় থাকা যায় না, থাকতে দেয়া হয় না। সরকার এবং তার প্রশাসন উভয় শক্তি যদি আমাদের মাঠ থেকে না তাড়ায়, নি¤œতম রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজমান থাকে তাহলে আমরা শেষ পরিস্থিতি দেখবো। আর স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়, থাকা-না থাকাটা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই না একারণেই যে এই নির্বাচন সরকার নির্ধারণ করে না। বাংলাদেশের সবকয়টা স্থানীয় সরকার যদি বিরোধী দল পায়, তবুও তারপরও তাদের সরকারের নির্দেশ নেমেই চলতে হবে।’
কেসিসি নির্বাচন পরিচালনায় খুলনা ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবীব, রবিউল ইসলাম খান রবি, মো. মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক, মনিরুজ্জামান মন্টু, বিজেপি নেতা সিরাজুল ইসলাম সেন্টু, বিএনপি নেতা আশরাফুল আলম নান্নু ও শফিকুল আলম তুহিন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ