ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঢাকা মেডিকেল কলেজের বর্তমান এবং অতীত

আখতার হামিদ খান : সেবা পরমধর্ম। কথায় আছে যেজন সেবিছে জীবে সেজন সেবিছে ঈশ্বর। (কিন্তু বর্তমানে কি দেখি)।
“সেবা পরমধর্ম” এই ব্রত নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের শুরু আজ থেকে কয়েক বছর আগে অর্থাৎ ১৯৪৬ সালে। কয়দিন আগে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যুদ্ধের পর অনেকে আহত, অনেকে বারুদের প্রভাবে অসুস্থ, বায়ু পানি দূষিত। অতএব রোগ-বালাই হতে লাগলো। তখন বাংলাদেশে (পূর্ব বাংলা) ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ। কয়েকজন ছাত্র নিয়ে শুরু হলো কলেজ। প্রথম প্রিন্সিপাল ছিলেন মেজর ডব্লিউ জে ভার্জিন। তিনি ১/৭/১৯৪৬ থেকে ১৪/৮/১৯৪৭ পর্যন্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। তার পর ধীরে ধীরে এ কলেজ আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। বর্ধিত কলেবরে আজ এ হাসপাতাল ও কলেজ এক পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। এখনও বাংলাদেশের যে কোন লোক অসুস্থ হলে তার আত্মীয়-স্বজন প্রথমেই যে মেডিকেল কলেজের কথা মনে আনে তার নাম ঢাকা মেডিকেল। যদিও বাংলাদেশের বর্তমান চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য সেবার ধরণ-ধারণ তথৈবচ। তবুও নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল। আজকাল পয়সা ছাড়া চিকিৎসা হয় না। তেমনি ঢাকা মেডিকেলে ৫ টাকার টিকিট করে চিকিৎসা নিতে হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা, আশ্রয় মূল্য তিনটি মৌলিক অধিকার যদিও সংবিধানে আছে তবুও জনগণ এখনও এই তিনটি মৌলিক অধিকার এভেইল করতে পারে না। যদিও এসব খাতে প্রচুর বরাদ্দ আছে। এ সব টাকা কোথায় যায় কে জানে। বার ভূতে লুটে খায় বলে মনে হয়। নচেৎ আজ পর্যন্ত এর কোন সঠিক তথ্যবহুল প্রমাণাদি পাওয়া যায়নি। শুধু দেখা গেছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা এবং বিরাট সাইনবোর্ড। ভিতরে যে কি তা ভিতরের লোকজন ও ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ জানে না। এই যখন অবস্থা তখন টিম টিম বাতির মত জ্বলছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। সেই ১৯৪৬ সালে জন্ম নিয়ে আজ ২০০৭ এ সে এক পূর্ণাঙ্গ নারীর মত যৌবনবর্তী। অথচ পুরোপুরি রোগাক্রান্ত। বুঝুন এবার। ছাত্র-ছাত্রীদের ও ডাক্তারে বিচরণক্ষেত্র। কিন্তু তারপরেও কথা থাকে, আলোর নিচে অন্ধকারের মত। সময়মত অনেককেই না কি পাওয়া যায় না। বাজার অর্থনীতির যুগে সবাই বাণিজ্যিক। অতএব ডাক্তার সাহেবরাও বাণিজ্যিক হয়ে গেছেন। প্রচুর ক্লিনিক ও বেসরকারী হাসপাতাল এর জন্য দায়ী। সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে রোগী এবং তার আত্মীয়-স্বজনদের অনীহাই এর মূল কারণ। কেননা লাইন দিয়ে টিকিট কেটে আবার লাইনে থাকার এই সিস্টেমে রোগীরা এবং তার সাথীরা অপছন্দই করেন বেশী। তার উপর আছে ডাক্তার এবং কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার।
কথায় আছে ডাক্তার সাহেবদের মিষ্টি হাসি রোগীর অর্ধেক রোগ ভাল করে দেয়। তাছাড়া একজন রোগী তার সব কথাই ডাক্তার সাহেবের কাছে বলতে চায় অথচ ডাক্তার সাহেব শুনতে নারাজ। এমতাবস্থায় সবাই প্রাইভেটলি দেখানোটাই পছন্দ করে বেশী। তবুও ঢাকা মেডিকেলে রোগীদের ভিড় থাকে। আউট পেশেন্ট অনেক। কেননা আগেই বলেছি নাই মামার চেয়ে কানা নামা ভাল। এ কলেজে বর্তমানে প্রতি বছর ১৭৫ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়, তাও মেধার ভিত্তিতে সেরা ছাত্র। এ হাসপাতালে বর্তমানে ১৭৫০ জন রোগী ভর্তির ব্যবস্থা আছে। এছাড়া ১৪০টি পেইং বেড আছে। যা দৈনিক ভাড়া ৭২.৫০ টাকা। ১৬৪টি ক্যাবিন আছে। যথাক্রমে ভাড়া রোগী প্রতি ১৪৫/-, ১৫৫/-, ২৬৫/-, ৫১৫/-, ৬১৫/- প্রতিদিন। কেবিনের রোগীরা বেশ আরামেই আছে দেখলাম। তিনবেলা হরদম পয়পরিষ্কার করা হচ্ছে, খাবারও উন্নত। সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহায় সাধারণ অর্থাৎ ফ্রি বেডের রোগীরা। তাদের দেখার যেন কেউই নেই। বর্তমানে কোন দেশে ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই একমাত্র এই গরীব দেশ ছাড়া। এ খাতে বাজেটে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ শিক্ষার যান তবে দেখবেন ৫০টি ওয়ার্ড আছে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ড ফিলআপ। সিট নেই। কেউ ফ্লোরিং করছে কেহবা বারান্দায় এরকম অবস্থায় রোগীর সাথে এটেনডেন্স থাকে ৪/৫ জন। অথচ কোন উন্নত হাসপাতালে রোগীর সাথে এটেনডেন্ট থাকার নিয়ম নেই। কিন্তু অনিয়মের এই দেশে আছে। তারা রোগীর বিছানা দখল করে থাকে। খুব ছোট বেলায় চিৎ কাৎ বোর্ডিং দেখেছিলাম। চিৎ হয়ে শুলে আট আনা পার নাইট আর কাত হয়ে শুলে চার আনা। হাসপাতালে ঢুকে তাই মনে হলো। কোনজন রোগী আর কোনজন বহিরাগত রোগীর আত্মীয়-স্বজন তা বোঝার উপায় নেই। এতে যে হাসপাতালের হাইজিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা এরা রোগী হয়ে যাচ্ছে তা এরা বুঝতে রাজি নন। কেননা তারা মনে করে এরা না থাকলে রোগীরা অসহায়।
কারণও আছে। হাসপাতালের নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত কেউই বিনা পয়সায় বা বকশিশে সেবা দিতে নারাজ। তাই এক একটি রোগীর পিছে অন্তত: ৪/৫ জন করে সাহায্যকারী। এতে রোগীর রোগতো সারেই না উল্টা সে মানসিক ভারসাম্য হারাতে পারে, তা এরা বুঝেই না। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ আছে, মাথাভারী প্রশাসন আছে, আছে নার্স, ডাক্তার, আছে পরিচালক সবই আছে। নেই শুধু কন্ট্রোলিং প্যানেল। তবুও মানানসই কেউ টা-টু শব্দ করে না। একেকটা ওয়ার্ড যেন সিনেমার হল অথবা বাস বা লঞ্চ টার্মিনাল। ঢোকার মুখে ডিউটিরত ডাক্তারদের চেয়ার, নার্সদের টেবিল। অথচ তাদের টিকিটিও দেখা যায় না। কিছু কিছু ডাক্তার বা নার্স আছে তাদের মধ্যে সেবার মনোবৃত্তি আছে। আর সবাই লারে লাপ্পা। কেউ কলিগদের সঙ্গে ক্লাস করে, কেউ পলিটিক্সে ব্যস্ত, কেউ ব্যস্ত আউট ইনকামে। তবে আউট ইনকামে সবাই ব্যস্ত থাকে। নার্সরাও বিরক্ত বোধ করে। যথা সময়ে তাদের পাওয়া যায় না। কি এক দুরূহ অবস্থা। একজন নার্স তিনজন রোগীর জন বরাদ্দ থাকলেও তারা ২০ জনকে সেবা দেয়। তাই তারা স্বভাবতই বিরক্ত হয়ে যায়। রোগী বা তার সঙ্গে যারা থাকে তারাও বিরক্ত করে।
৪ জন রোগীর জন্য একজন ডাক্তারের নিয়ম থাকলেও তা নেই। যেহেতু তারা ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তার সেহেতু তারা নিজেদের কেউকেটা মনে করে। রোগীদের সাথে অত্যন্ত নি¤œমানের ব্যবহার করে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয় রাত্রিবেলা। নাইট ডিউটিতে কাউকে পাওয়া যায় না। ইনকেস কোন রোগীর দশা কেরোসিন হয়ে যায় তখন উপায় বলতে খোদা ছাড়া আর কেউই নেই। তবে ২/১ জন নিবেদিত প্রাণ আছে। তবে তা টিম টিম বাতির মতই। এরজন্য সবাই পারতপক্ষে ঢাকা বা যে কোন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে অনীহা প্রকাশ করে। ভর্তি দুইভাবে করা যায়। ইমার্জেন্সি থেকে বা আরপি, বা আর এস মারফত। এর জন্য অনেক তালবাহানা আছে। সিট সমস্যা মেইন সমস্যা। তবে অন্য উপায় থাকলে ভর্তি হওয়া কোন ব্যাপারই নয় (বুঝহে সুজন) ভর্তি হওয়ার পর ঝামেলা শুরু। বেড নেই, সিট নেই, বারান্দাই গতি। বিছানা যদি না থাকে তবে ফ্লোরেই নিখাদ বাস। সবাই পা দিয়া মাড়াইয়া যাবে। রোগী এবং তার সঙ্গের লোকজন ভ্যাব্যাচ্যাকা খেয়ে যায়।
এ কোথায় এলাম। কেন যে খোদা আমাদের প্রচুর টাকা দিলেন না অথবা ক্ষমতা দিলেন না। তাহলে তো আমরা মাউন্ট এলিজাবেথ না হোক অন্তত ইন্ডিয়ার রুবি হাসপাতালে যাইতে পারিতাম। কিন্তু খোদাতো সবাইকে দেন না। কেননা এ অভিজ্ঞতা আমার নিজেরই কয়েকবার হয়েছে। আমি নিজে ডাক্তারি পড়তাম আর আমার পিতা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। এবং তিনি যথার্থই সৎ ছিলেন। তাকে নিয়ে আমি তিনদিন বারান্দায় ছিলাম। কত পরিচিত ডাক্তার অথচ কেউ সাহায্য করেনি। হায় অভাগা দেশ এতবড় নামজাদা হাসপাতাল গর্ব কত। ব্রিটিশদের তৈরি এবং সমর্থনপুষ্ট। অথচ কি হাল এর। হায় সেলুকাস সকালে দেখলাম কি সুন্দর অথচ রাত্রে আমার সৈনিকদের ডায়রিয়া। এই হল সেই দেশ। আলেকজান্ডার পলায়ন করলেন। চেঙ্গিস খান এড়াইয়া গেলেন অতএব আমি অবাক হলাম না। বাস্তবতা বড় কঠিন যারা কল্পনায় ভর দিয়ে চলেন তারা ভড়কাইয়া যাবেন এখানে ঢুকলে। তারপরের অভিজ্ঞতা বড়ই মর্মান্তিক। বাথরুমের পানি এবং বিষ্ঠায় সয়লাব। পায়খানার দরজা ভাঙ্গা। বিবকক নেই পানি পড়তেছে। ফিলট্রাপ ফাটা। উপর দিয়ে পায়খানার পানি নিচের তলায় বাথরুমে পড়ে। মেথর ওয়ার্ড বয় খুঁজে পাবেন না। ইনাদের ভ্যাট না দিলে উনারা আপনার সার্ভিস লাইন কেটে দেবে। একটা হযবরল পরিস্থিতি বিরাজ করছে ঢাকা মেডিকেলে। ভিতরে না ঢুকলে এ অভিজ্ঞতা কারো হয় না। ওয়ার্ড মাস্টার একজন আছেন তিনি এসব দেখেও না দেখার ভান করেন। কেননা তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির ইউনিয়ন তাকে গতিচ্যুত করবেন। অথবা মার দিবে। সরকারী কর্মচারী বিধিমালায় আছে কেউই একজায়গায় তিন বছরের অধিককালে থাকতে পারে না। তাকে অন্য জায়গায় বদলি হতে হয়। কিন্তু এখানে এমন অনেক কর্মচারী/ ডাক্তার আছেন যারা চাকরি নিয়ে এখান থেকেই অবসর নিয়েছেন।
এরপর আসি খাদ্যের মান নিয়ে। সাধারণ ওয়ার্ডে যা দেয়া হয় তার মান খুব নিচু। একমাত্র পেইং বেড আর কেবিনে ভাল ভাল খাবার দেয়া হয়। তাও অপ্রতুল। কেননা তারা পয়সা দেয়। রোগীর জন্য তার আত্মীয়-স্বজনরা নিজেরাই খাবার বহন করে। তাছাড়া আছে চুরি-চামারি, টেন্ডারবাজি, টেন্ডার কাজধারী কন্ট্রাকটর আর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্র নেতা-নেত্রীদের চাঁদাবাজি। অতএব যা হবার তাই হয়। এ নিয়ে রোগী এবং তার আত্মীয়-স্বজনদের অভিযোগ এন্তার। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী যতই বড়াই করুক না কেন। তারাই আবার বিদেশে চলে যান চিকিৎসা করতে। কেন? এবার আসি ওষুধ যেটা না দিলে রোগীর রোগ ভাল হবে না। এমনিতেই আন হাইজিনিক এবং অসহযোগের ফলে রোগীর রোগ আরো বাড়ে। সঙ্গে যারা থাকে তাদেরও। তার উপর সরকারি যাই হোক প্রথমোক্ত প্রিন্সিপ্যালের পর পরের কয়জনও ছিল ব্রিটিশ। তারপর পাকিস্তানীরা, তারপর বাঙালিরা এই কলেজের পরিচালনার ভার হাতে নেন। সরকারী মেডিকেলের মধ্যে এই মেডিকেল শ্রেষ্ঠ। কেননা এখানে সেরা বাছাই হয় এবং পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা শাস্ত্রের পুরা বিভাগই আছে বলতে গেলে। যদিও এখনও রয়াল মেডিকেলের মত হতে পারেনি।
আগেই বলিয়াছি নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল, অতএব অন্ধের লাঠি অভাগার শেষ আশ্রয় এট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যদিও বাংলাদেশের লোকের ধারণা এখন বহাল আছে এই যে, যদি কারো মরতে বা চিরদিন অথর্ব হয়ে থাকতে ইচ্ছে হয় তবে তারা যেন বাংলাদেশের সরকারী বা বেসরকারী হাসপাতালে গমন করে। শুধু সে না সঙ্গে সঙ্গে অন্যেরাও অথর্ব পঙ্গু হয়ে যাবে। বর্তমানে স্বাস্থ্য সেবা অনেকটা বাণিজ্যিক হয়ে গেছে। সবাই বাণিজ্য অর্থাৎ টাকা কামাই করতে ভালবাসেন। নইলে এত ক্লিনিক এবং হাসপাতাল তৈরি হবে কেন। যাই হোক আমাদের দৃষ্টি এখন ঢাকা মেডিকেলের দিকে। সেরা ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণা এ কলেজে। তারা যখন গ্রের এনাটমির বড় বইটা হাতে বা কাঁধে নিয়ে যায় তখন তা দেখার মত। ৫/৬ বছর অনেক পড়াশোনা, অনেক অধ্যবসায়। এর পর একজন ডাক্তার বের হয়। সরকারী হিসাব মতে প্রত্যেকের পিছনে ৪/৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়। কিন্তু আমার জানামতে ছাত্রেরা নিজেরাই খরচ করে। সরকার খরচ করে অন্যভাবে। খাতগুলো দেখাই। (১) রোগীর পিছে যা খরচ হয় যেমন- খাবার, ঔষধ ইত্যাদি। (২) শিক্ষকদের বেতনাদি (৩) ল্যাবরেটরি খরচ (৪) তৃতীয় শ্রেণী, চতুর্থ শ্রেণীর বেতনাদি (৫) হাসপাতাল ও কলেজের মেইনটেন্যান্স (৬) বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস খরচ (৭) মুদ্দ ফরাসদের খরচ ইত্যাদি। এইসব খরচের বহর সবই ধরা হয় এক একটি ছাত্রদের উপর অথচ প্রতিটি ছাত্রের বাবার পয়সা ব্যয় করে অথবা টিউশনি করে বইপত্র নিজের পয়সায় কেনা লাগে, লাইব্রেরীতে পাওয়া যায় না। তাহলে কি বুঝলাম, সরকারী হিসাব আর গৌরিসেন এর হিসাব এক। এর জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের অসন্তোষ আছে।
যাক এখন আসি এই কলেজের বা হাসপাতালের বিভাগ ও তার কার্যক্রম সম্বন্ধে। বর্তমান যুগ আধুনিকতার যুগ। আধুনিকতার চূড়ান্ত পর্যায়ে এখন বিজ্ঞান। সাবমেরিন ক্যাবল আর সুন্দর সুন্দর টেকনোলজির যুগ। অতএব চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সেইসব সিস্টেমের পাল্লায় পড়ে গেছে। যদিও এই গরীব দেশ, যার আয়ের প্রধান উৎস এখনও বৈদেশিক সাহায্য। তারা এটা গ্রহণ করতে পারেনি, যাও পেরেছে তা সাগরের বুকে শিশির বিন্দুর সম। সময় কথা বলে। তেমনি আজ চিকিৎসা বিজ্ঞান এক মহাক্রান্তি লগ্নে দ্বারপ্রান্তে। অতএব ঢাকা মেডিকেলে সব ধরনের চিকিৎসা চলে। ৪০টির মত ডিপার্টমেন্ট আছেন। তাও আবার সব বহুল আলোচিত। এখানে আছে এমন সব ডিপার্টমেন্ট যা পিজি হাসপাতালেও নেই। ৪০ জনের মত পূর্ণ অধ্যাপক আছেন। যারা স্ব-স্ব ক্ষেত্র দীপ্তমান। সহযোগী অধ্যাপক আছেন ৫৭ জন, সহকারী অধ্যাপকও আছেন ৫৭ জন, প্রভাষক আছেন ৬০ জন, কিউরেটর ২ জন, লাইব্রেরীয়ান ১ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৫৪ জন, ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ১৬৩ জন। ১০ বছর আগেও যা কল্পনা করা যেত না। টিচিং স্টাফ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত জ্বলজ্বল। কেননা এটা সেরা ওযুধাগারের ওষুধের নি¤œমান, সরবরাহের কারচুপি, চৌর্যবৃত্তি। বাইরের ওষুধের দোকানে বিক্রি করা সব মিলিয়ে একটা তুঘলকি কারবার। যাও দেয়া হয় তাও যদি বলি আপনারা মনে করবেন আমি মিথ্যা বলছি। আমার নিজের অভিজ্ঞতা এই রকম প্যারাসিটামল ও টেট্রাসাইক্লিন ছাড়া অন্য কোন ওষুধ ভা-ারে নেই। সব বাজার থেকে কিনতে হয়। ওষুধ যে কোথায় যায় তা গৌরিসেনও জানে না। পৃথিবীর কোন দেশে কোন মেডিকেলের আশেপাশে ওষুধের দোকান থাকে না। এই দেশে আছে। শুধু তাই নয়, কোন হাসপাতালের চতুর্পাশে এত দোকানপাটের প্রাচুর্যতা দেখা যাবে না। ফল, মূল, রুটি, বিস্কুট, চা, পান, সিগারেট থেকে শুরু করে নানাবিধ পণ্যের সম্ভার সব হাসপাতালে দেখা যায়। তবে ঢাকা মেডিকেলে এর সংখ্যাটা একটু বেশি। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এগুলো চালায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা স্বাস্থ্য বিভাগের বাপেরও সাধ্য নেই এদের কিছু বলে।
অতএব যা হবার তাই হয়। যে দেশের হাসপাতালের চতুর্পাশে চা, পান, ফল-মূলের দোকানে ভরপুর সেদেশের হাসপাতাল যে নিজেই অসুস্থ তা আর বেলার অপেক্ষা রাখে না। অতএব হাসপাতাল পঙ্গু না হাসপাতাল পঙ্গু না হাসপাতাল সেটাই এখন জনগণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরে হাসপাতালের ভেতরে বাইরে এত দালাল যা কল্পনারও বাইরে। আমার নিজেরি অভিজ্ঞতা আছে আমার পিতার কাঁথাটার পাল্টানো লাগবে আমি গেলাম। হাসপাতালেরই কর্মচারী সে আমার সাথে দালালি করল। কিছু বললাম না কারণ আমারই প্রয়োজন। বুঝুন এবার স্বাস্থ্য সেবার ধরন-ধারণ কোথায় আছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর স্বাস্থ্য সচিব যতই বকর বকর করুন না কেন সবাই তা জানে। এই হাসপাতালের ল্যাবরেটরি, এক্সরে ডিপার্টমেন্ট ও পরীক্ষাগারের সুনাম আগে ছিল। বর্তমানে কিছুই নেই। এ সম্বন্ধে লিখতে গেলে সাতকাহন হয়ে যাবে।
এত লিখার ইচ্ছা আমার নেই কেননা সবাই জানেন অবুঝ শিশুকে বুঝ দেয়া যায় কিন্তু কম্পিউটারকে বুঝ দেবেন কি করে। সে সব সময় এক্সেস ডিনাইড সিগনাল দেবেই দিবে। অতএব এ ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে বাঁচানোর দায়-দায়িত্ব নিতে হবে এ সরকারকেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ