ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পড়াশোনা : লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং

মোহাম্মদ ওমর ফারুক : চামড়াশিল্পের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সহায়তা করে ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইনস্টিটিউট। এই ইনস্টিটিউটে ভর্তি-ইচ্ছুকদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে আবেদন করতে হয়। মূলত ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রতি শিক্ষাবর্ষে তিনটি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। বিষয়গুলো হলো- লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে মোট ১২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পান।
এ ছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আসন সংখ্যা ৬০টি। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যকে সংশ্লেষণ উত্পাদন ও পরিশুদ্ধ করণকে বোঝায়। যার মাধ্যমে পরবর্তীতে বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস যেমন ফুটওয়্যার, ব্যাগ, খেলার সামগ্রী, জুতা, মানিব্যাগ, জ্যাকেটসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল পণ্য তৈরি করা হয়। ম্যানুফ্যাকচারিং, ফুটওয়্যার, লেদার প্রোডাক্টস এই ৩টি শাখা হচ্ছে- লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান শাখা।
লেদার সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে মূলত পড়ানো হয় কাঁচা চামড়া থেকে লেদার তৈরির কলাকৌশল, বিভিন্ন ব্যবহার উপযোগী লেদার উত্পাদন এবং বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্যের ডিজাইন ও নির্মাণকৌশল। এর পাশাপাশি চার বছরের কোর্সে অন্তর্ভুক্ত থাকে বিভিন্ন ভৌত ও ফলিত বিজ্ঞান কোর্স। সঙ্গে মৌলিক প্রকৌশলের বিভিন্ন কোর্স যেমনÍ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার অ্যান্ড ফান্ডামেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইলেট) এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ানো হয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে লেদারের পাশাপাশি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং,পলিমার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজাইনিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স ইত্যাদি বিষয়ে একজন লেদার ইঞ্জিনিয়ারের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার সূচনা: পূর্ব পাকিস্তানর জনগণকে চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পে কারিগরিভাবে দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৪৭ সালে ‘ইস্ট বেঙ্গল ট্যানিং ইনস্টিটিউট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালে এই প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৫২ সালে ‘ইস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি’ নামে এর নতুন নাম দেয়া হয়। স্বাধীনতার পর এটি ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
ডিরেকটরেট অব টেকনিক্যাল এডুকেশনের (ডিটিই) তত্ত্বাবধানে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত এখানে ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট কোর্স এবং কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। অর্থনীতিতে চামড়া শিল্পের অবদানের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৯-১৯৮০ সালে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্টিটিউট কলেজ হিসেবে নিয়ে উন্নত সিলেবাসের মাধ্যমে লেদার টেকনোলজিতে বিএসসি প্রোগ্রাম চালু করা হয়।  পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ১৯৯৯-২০০০ সেশনে বিএসসি ইন লেদার টেকনোলজির পাশাপাশি আরো ২টি বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি চালু করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবগঠিত ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের অধীনে ডিগ্রির নাম পরিবর্তন করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ কলেজ অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ করা হয়। লেদার প্রকৌশল শিক্ষাকে আরো যুগোপযোগী করতে ২০১১ সালের ২০ জুন এই প্রতিষ্ঠানটিকে পরিপূর্ণভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এর নামকরণ করা হয় ‘ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’। বাংলাদেশে এই প্রথম এ বিষয়ে মাস্টার্সও করা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ