ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রচণ্ড খরতাপেও হাসি মুখে ছুটছেন প্রার্থীরা

খুলনা অফিস : ‘ভোট চাই ভোটারের, দোয়া চাই সকলের’ এ স্লোগানটিই এখন কানে বাজছে সকলের। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী এবং তাদের প্রতীকের নাম উল্লেখ করে নানা ধরনের স্লোগান। অনেক প্রার্থীর ও প্রতীকের পক্ষে বাঁধা হয়েছে গানও। আর দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোটারের সঙ্গে মোলাকাত এবং কুশল বিনিময় তো আছেই। সবমিলে বৈশাখের খরতাপ ও তীব্র গরম উপেক্ষা করে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ছুটছেন।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা একদিকে চষে বেড়াচ্ছেন পাড়া-মহল্লা, অন্যদিকে তাদের প্রচারণায় শহরজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে অসংখ্য মাইক। ফলে এ শহরের বাসিন্দাসহ শহরে পা রাখা যে কোনো আগন্তুক বুঝতে পারছেন খুলনা মহানগরীতে এখন চলছে নির্বাচনী উৎসব।
নগরীর অলিগলিতে প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের ভোট প্রার্থনার মাইকিং। পাশাপাশি প্রার্থীরা লিফলেট হাতে ছুটে বেড়াচ্ছেন বাজার থেকে বাসার দোরদোড়া পর্যন্ত। আর ছাপাখানাগুলোতে চলছে প্রার্থীদের পোস্টার ছাপানোর শত ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে খুলনা সিটি নির্বাচন।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন দুই কাউন্সিলর প্রার্থী : উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন কেসিসি নির্বাচনের দুই কাউন্সিলর প্রার্থী। নির্বাচনের আপীল বোর্ড তাদের দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। একজন ৩১নং সাধারণ ওয়ার্ডের মো. আসলাম হোসেন, অপর জন সংরক্ষিত ১০নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মিসেস রোকেয়া ফারুক। প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে তারা দু’জনই বর্তমানে প্রচারণা শুরু করেছেন। 
ইতোমধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে তাদেরকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩১নং সাধারণ ওয়ার্ডের মো. আসলাম হোসেন পেয়েছেন ‘করাত’ প্রতীক। এছাড়া সংরক্ষিত ১০নং ওয়ার্ডের মিসেস রোকেয়া ফারুক পেয়েছেন ‘হেলিকপ্টার’ প্রতীক।
রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, সাধারণ ৩১নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. আসলাম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর তিনি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপীল করলে সেখানে বাতিল হয়। পরে তিনি উচ্চ আদালতে রীট করে প্রার্থীতা ফিরে পেলে তাকে করাত প্রতীক দেয়া হয়।
অন্যদিকে সংরক্ষিত ১০নং ওয়ার্ডের প্রার্থী রোকেয়া ফারুকের মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তা’ বাতিলের দাবি জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপীল করেন একই ওয়ার্ডের অপর দু’প্রার্থী যথাক্রমে হাসিনা আকরাম ও হোসনেয়ারা বেগম চাঁদনী। রোকেয়া ফারুকের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপী ও শিক্ষা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ দিয়ে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতে রোকেয়া ফারুক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করে মনোনয়নের বৈধতা পান। গতকাল তাকে হেলিকপ্টার প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেসিসি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ টি এম শামীম মাহমুদ।
বিদ্রোহী ছয় কাউন্সিলর প্রার্থীকে বিএনপির হুঁশিয়ারি : কেসিসি নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ছয় বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও ঘোষণা করা হয়েছে। খুলনা মহানগর বিএনপির সহদফতর সম্পাদক সামছুজ্জামান চঞ্চল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও যারা নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি তাদের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব প্রার্থীর পক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা-কর্মী কাজ করছেন তাদেরকেও এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওই প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।
দলীয় প্রার্থীতার বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা হলেন- ১০ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ খায়রুজ্জামান খোকা, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ মনিরুজ্জামান মনির, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে খায়রুল বাশার ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাহমুদ আলম বাবু মোড়ল এবং সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মনোয়ারা সুলতানা কাকলী, সংরক্ষিত ১০ নম্বর ওয়ার্ডে হাসিনা আকরাম ও হোসনে আর চাঁদনী।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে আ’লীগ নেত্রী রোকেয়া বহিষ্কার : দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠন পরিপন্থী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় সংরক্ষিত আসন ৮ (২১, ২২, ২৩) রোকেয়া রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বহিষ্কার করেন। সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম সাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে যে, উল্লিখিত বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত ৮নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। উল্লিখিত প্রার্থীকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ফলে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। উল্লিখিত ব্যক্তিদের সাথে দলের সকল নেতাকর্মীকে যোগাযোগ না করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি।
উল্লেখ্য, এ দু’জনের প্রার্থীতা ফিরে পাওয়া পর বর্তমানে কেসিসি নির্বাচনে ৫ জন মেয়র, ১৪৮ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৩৯ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন। আগামী ১৫ মে সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত কেসিসির ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ