ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বোরো ধান কাটা শুরু ॥ ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতি

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় আগাম জাতের ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবল থেকে ক্ষেতের পাকা ধান রক্ষার জন্য কৃষকেরা এখন ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় অনেকটা খুশি হয়েছেন কৃষকরা।
সাঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০ ইউনিয়নে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। তারমধ্যে বি.আর-২৮ জাত ৬ হাজার ৪শ’ ২৫ হেক্টর, বি.আর-২৯ জাত ৪ হাজার হেক্টর এবং বাকী অন্যান্য সকল জাতের ধান আবাদ করেছে কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঘাটা উপজেলার সর্বত্রই ইরি বোরো আবাদের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। আগাম জাতের বি.আর-২৮ জাতের ধান মাঠে পাকা শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ আতংকে কৃষকরা কিছুটা আগে ভাগেই ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। পাশাপাশি  ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গাছপালা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা হতে টানা ঘন্টাব্যাপী শিলা বৃষ্টি ও ঝড় হাওয়ায় উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পাকা ও আধাপাকা ইরি বোর ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলা বৃষ্টি হওয়ায় পাকা ধান ঝড়ে পড়ে এবং ধানের ডাল নুয়ে পড়ায় কৃষকরা মাথায় হাত দিয়ে বসেছে। নিচু এলাকার অধিকাংশ ধানক্ষেত আংশিক ডুবে গেছে। এদিকে ঝড় হাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। একাধিক নির্ভযোগ্য সুত্রে জানা গেছে উপজেলায় কমপক্ষে ৫০টি কাঁচা ঘরবাড়ি ও ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তবে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার তথ্য পাওয়া যায়নি। কঞ্চিবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার জানান, কাল বৈশাখী ঝড়ে তার  ইউনিয়নের কুমারের ভিটার শতবর্ষি একটি বটগাছ উপড়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার রাশেদুল ইসলাম জানান, কালবৈশাখী ঝড় হাওয়ায় ফসলের তেমন ক্ষতিসাধন হয়নি। তবে শিলা বৃষ্টির কারণে ধানের সামান্য ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ