ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উলিপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল বিক্রীতে অনিয়ম তদন্তে গড়িমসি ॥ ডিলারকে রক্ষা করার অভিযোগ

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা: উলিপুরে ডিলারের বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর দশ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় তদন্ত করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় বেঁধে দিয়ে কমিটি গঠন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে ঘটনার এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা গ্রহনে গড়িমসি করায় সুবিধাভোগিরা এপ্রিল মাসের চাল পাননি। চাল বঞ্চিতদের অভিযোগ, দূর্নীতিবাজ ডিলারকে রক্ষা করার জন্য সময়ক্ষেপন করেছন কর্তৃপক্ষ । এ নিয়ে সুবিধাভোগিদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। 
জানা গেছে, মার্চ মাসের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন দলের ডিলার আব্বাস আলী ৫’শ ৫৯ জন সুবিধাভোগির বিপরীতে ১৬ মেঃ টন সাতশত সত্তুর কেজি চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করে নিয়ে যান। এরপর ৩০ কেজির স্থলে ২৮ কেজি করে বস্তায় ভর্তি করে তার নিজস্ব সেলাই মেশিন দিয়ে বস্তার মুখ বন্ধ করেন।
এসব চাল তালিকা ভূক্ত সুবিধাভোগিদের মাঝে প্রতি বস্তা ৩শ টাকার পরিবর্তে ৩শ ২০ টাকা নিয়ে কিনতে বাধ্য করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ঘটনা তদন্ত করে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ১৪ মার্চ উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ফজলুল হক’কে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে সময়মত রিপোর্ট দাখিল করেন। উপজেলা খাদ্য বিভাগ রিপোর্টের আলোকে উক্ত ডিলারকে কৈফিয়ত তলব করে জবাব দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে ডিলার আব্বাস আলীর জবাবের প্রেক্ষিতে খাদ্য বিভাগ পুনরায় তদন্ত শুরু করেন। অজ্ঞাত কারনে ঘটনার এক মাস অতিবাহিত হলেও তদন্ত রিপোর্টের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহনে গড়িমসি করায় সুবিধাভোগিদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। উপজেলার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ১৩টি ইউনিয়নের ৪৮জন ডিলারের মধ্যে ৪৭জন ডিলার এপ্রিল মাসের চাল উত্তোলন পূর্বক বিতরন শেষ করলেও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নম্বর ইউনিটের সুবিধাভোগিরা এপ্রিল মাসের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল এখন পর্যন্ত পাননি। অভিযোগ উঠেছে, আব্বাস আলী ক্ষমতাসীন দলের ডিলার হওয়ায় তাকে রক্ষার জন্য খাদ্য বিভাগ লুকোচুরি খেলছে। সুবিধাভোগী কার্ডধারী আব্দুর রহিম(৪২), টোফেন আলী (৫৫), ইনারুল ইসলাম (৩৫), আব্দুল জলিল (৪০), সাইদুল ইসলাম (৩৪), ইউনুস আলী (৪০), মেকরুল ইসলাম (৪৪), শামছুল ইসলাম (৫০) সহ অনেকে এপ্রিল মাসের চাল দাবী করে বলেন, চাল না পাওয়ায় তারা কষ্টে আছেন, বাজারে চালের দাম বেশি। গ্রামে কামলা কিষানের কাজ নাই, কাজ না থাকায় হাতে টাকা নাই। বাড়িতে খাবার নাই। আমরা অভাগী আমরা চাল চাই।
বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও ডিলার আব্বাস আলী জানান, চাল কম দেয়ার বিষয়টি সত্য নয়। ২০ টাকা করে বেশি নেয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খালেদুল ইসলাম জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ওই ডিলারকে কৈফিয়ত তলব করা হয়। এবং তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তবে তিনি বলেন, সুবিধাভোগিরা এপ্রিল মাসের চাল পাবেন। ডিলার প্রকৃতপক্ষে দোষি হলে বিকল্প ব্যবস্থায় চাল সরবরাহ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ