ঢাকা, শনিবার 28 April 2018, ১৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফেনীতে শিশু শ্রমিকের উপর নিষ্ঠুরতা !

ফেনী সংবাদদাতা: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার পরিষদ সংলগ্ন করিম মটরসে রফিকুল ইসলাম (১০) নামে এক শিশু শ্রমিককে সোমবার দুপুরে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়েছে দোকান মালিক। এ ঘটনায় দোকান মালিক করিমুল হককে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। আটক ওয়ার্কসপ মালিক করিমুল হক উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। নির্যাতনের একপর্যায়ে  করিম শিশুটিকে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। কাজে ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে শিশুটির উপর এমন নির্যাতন চালানো হয় বলে তার পরিবার জানায়। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানা হেফাজতে রাখে। রফিকুল ইসলাম উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের রবিউল হকের ছেলে। শিশু নির্যাতন এবং ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, লেখাপড়া না করায় গত ছয়মাস আগে শিশুটিকে তার মা-বাবা উপজেলা পরিষদের সামনের করিম মটরসে গাড়ী মেরামতের কাজ শেখার জন্য দিয়ে যায়। শিশুটি মাঝে মাঝে করিম মটরসের মালিক করিমুল হকের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়ে সবার সঙ্গে দেখা করে আসে। কিন্ত শিশু রফিক গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে গিয়ে রোববার পর্যন্ত ওয়ার্কসপে না আসায় তার বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার সকালে মা আজমীরা বেগম রফিককে ওয়ার্কসপে দিয়ে চলে যান। দুপুর ১২টার দিকে মালিকের আদেশ পালন না করায় শিশু রফিককে মালিক করিমুল হক বেদম পিটিয়ে ওয়ার্কসপের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। এসময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হারুনুর রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধা অবস্থা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার ও দোকান মালিক করিমুল হককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
শিশুর বাবা রবিউল হক জানান, তার ছেলেকে ওয়ার্কসপে কাজ শিখতে দিয়েছেন। কিন্তু মালিক তাকে এমনভাবে নির্যাতন করবেন তা তিনি কল্পনাও করেননি। তিনি এর সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে একটি মহল বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে তাকে হুমকি দিয়েছেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ