ঢাকা, রোববার 29 April 2018, ১৬ বৈশাখ ১৪২৫, ১২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান খালেদা জিয়ার

গতকাল শনিবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নেতা-কর্মীদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল শনিবার বিকালে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন সড়কে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা জানান। তিনি বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। দেশবাসী যেন তার সুস্থতার জন্য দোয়া করেন এবং অবিলম্বে এ যে একটা দুঃসময় চলছে জাতির জন্যে, দেশের জন্যে, এই দুঃসময়ের যেন অবসান ঘটে। নেতা-কর্মীদের তিনি (খালেদা জিয়া) সাহসের সঙ্গে আন্দোলন করে যেতে বলেছেন গণতন্ত্রের মুক্তির জন্যে।
এর আগে গতকাল বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান প্রধান ফটক দিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন। সাক্ষাৎ শেষে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন বিকাল ৫টা ৫ মিনিট।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে (শনিবার) আমরা তাকে যা দেখেছি তাতে আমরাও অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছি যে তার শরীর আসলেও খারাপ ও স্বাস্থ্য খারাপ। তিনি যে বর্ণনা দিয়েছেন তার বাম হাত আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা স্টিফ হচ্ছে। ওজনও বেড়ে গেছে বাম হাতের। বাম পা থেকে শুরু করে গোটা বাম দিকে পেছনে পর্যন্ত সেই ব্যথা বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, বেগম জিয়ার জন্য সাধারণভাবে হাঁটা-চলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। আর্থাটাইটিসের যে সমস্যাটা, সেই সমস্যাটা হচ্ছে যে, সেটা আস্তে আস্তে নিউরো প্রবলেম্বের সৃষ্টি হয়। আমরা দুপুরে বলেছি, ডাক্তার সাহেবরা বলেছেন যে এটা স্টিভ হয়ে যায়। এতে প্যারালাইসিসের দিকে চলে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, তার ডান চোখটা লাল হয়ে আছে। এটা বেড়ে গেলে তার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা এখনো বলছি সরকারের আর বিলম্ব না করে অবিলম্বে তিনি যে ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন সেই হাসপাতালে রেখে তাকে বিশেষভাবে চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। এটা সরকারের দায়িত্ব। এর কোনো রকম ব্যত্যয় ঘটে বা তার কোনো রকম শারীরিক ক্ষতি সাধিত হয় তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, কারাগারে মেডিকেল বোর্ডের ডাক্তাররা দেশনেত্রীকে যেসব ওষুধপত্র দিয়েছেন সেগুলো কোনো কাজ করছে না। ওইগুলো তার রোগের বা যন্ত্রণা যে লাঘব করা- সেটা কাজ করছে না। যেটা তার প্রয়োজন পরিবেশটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এই পরিবেশে সুস্থ লোক কোনোদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে কিন্তু অসুস্থ লোক সুস্থ হতে পারে না। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন যে হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন, সেখানে রেখে তাকে বিশেষভাবে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করুন। এটা সরকারের দায়িত্ব।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পুরোপুরি স্বাস্থ্যের কথাই জিজ্ঞাসা করেছি। স্বাস্থ্যের কথাই তিনি বলেছেন। তিনি ঠিকমতো খেতে পারছেন কি না, তার পরিবেশটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন, এসব নিয়েই কথা হয়েছে। এই পরিবেশে অসুস্থ লোক সুস্থ হতে পারে না।
গত ১৯ এপ্রিল এই তিন নেতা সাক্ষাতের জন্য অনুমতি নিয়ে আসলেও অসুস্থতার কারণে সাক্ষাৎ পাননি মির্জা ফখরুলসহ এই তিন  নেতা। সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল একাই মির্জা ফখরুল কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। এর পরদিনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তাকে এক্সরে পরীক্ষার জন্য নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজার রায়ের পর থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ওই কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনিই এখন একমাত্র বন্দী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ