ঢাকা, রোববার 29 April 2018, ১৬ বৈশাখ ১৪২৫, ১২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে’

স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত ফাইল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পড়ে আছে। তিনি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে চিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। এই বিষয়টা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বারবার বলছি। আমরা উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যন্ত পাঠিয়েছিলাম। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি বুঝেছেন যে, উনার (খালেদা জিয়া) বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে এবং একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন। এজন্য তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সঙ্গে সঙ্গেই কারা মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজনস) ডেকে নিয়ে এসেছিলেন। এ সময় তিনি তাকে বলেছিলেন- চিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার করুন। আমরা শুনেছি তিনি (আইজি প্রিজনস) পরে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে যেন চিকিৎসা দেয়া হয় এমন সুপারিশ করেছেন। সেই ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে পড়ে আছে। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রতিনিয়ত বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে’ বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আগে তিনি (খালেদা জিয়া) সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। কিন্তু এখন তার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার কারণে তিনি আর নামতে পারছেন না। তিনি বলেন, আমরা বারবার বলছি- বেগম জিয়ার অন্তত চিকিৎসাটা যেন করানো হয়। কিন্তু কতটা ভয়ঙ্কর হলে জেলখানায় তার চিকিৎসাটা পর্যন্ত করা হচ্ছে না। বেগম জিয়ার চিকিৎসা না করানোর পেছনে একটা নীলনকশা রয়েছে। চিকিৎসার অভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বাস্থ্যের আরো অবনতি হলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দলের মহাসচিব।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, চেয়ারপার্সনের চিকিৎসার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। তিনি আইজি প্রিজনসকে ডেকে এনে চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো অগ্রগতি  নেই। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার যে উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়েছে সে উদ্দেশ্য শেষ হয়নি। তারা চান বেগম জিয়ার আরো ক্ষতি। সেজন্যই তাকে চিকিৎসা দিচ্ছে না। তার চিকিৎসায় একদিন বিলম্ব হলেও তিনি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন, পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার ঘাড়ের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে নার্ভগুলো ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। এতে তিনি বাম হাতে প্রচণ্ড ব্যথা পাচ্ছেন বলে শুনছি। এছাড়া বাম হাতে শক্তি কমে যাচ্ছে। ফলে ওই হাত দিয়ে তিনি কিছুই ধরে রাখতে পারছেন না। কারাগারের ওরকম পরিবেশে রাখার কারণে খালেদা জিয়ার কোমরের স্পাইনাল কর্ড নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোমরের হাড় ক্ষয়ে যাচ্ছে। এতে তার পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. আবদুল কুদ্দুস বলেন, ২০১৫ ও ২০১৭ বেগম জিয়ার চোখের অপারেশন করা হয়েছে, তার চোখের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। যদি চোখের সুচিকিৎসা না করা হয় তাহলে তার চোখের কর্নিয়া স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ