ঢাকা, রোববার 29 April 2018, ১৬ বৈশাখ ১৪২৫, ১২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ও কর্মস্থলে গিয়ে গণসংযোগ

গাজীপুর থেকে মো. রেজাউল বারী বাবুল : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি) নির্বাচন প্রচারের সময়সীমা ক্রমেই শেষ হয়ে আসছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রার্থীদের ব্যস্ততা, বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। তাই নির্বাচনী আমেজ ও উত্তাপ গাজীপুর সিটি এলাকাসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের পিছু নিয়ে হন্যে হয়ে ছুটছেন। ভোটারদের খোঁজে যাচ্ছেন বাড়ি, দোকানপাট, মার্কেট, মিল-কারখানা ও অফিস আদালতে। তারা নানা কৌশলে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভোট ও সমর্থন আদায়ের জন্য গণসংযোগ করছেন। এ নির্বাচনে প্রার্থীরা পথসভা-সমাবেশ করার চেয়ে ভোটারদের বাড়ি ও কর্মস্থলে গিয়ে গণসংযোগ করাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরীক দলগুলোর কেন্দ্রীয় বহু নেতা নিজ জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রতিদিন গাজীপুরে ছুটে আসছেন। তারা কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে দলবেধে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে গণসংযোগ ও উঠোন বৈঠক করছেন। সেই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনী কার্যক্রমের খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং নানা পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। তবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের এ নির্বাচনে সবার দৃষ্টিই এখন প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত দু’মেয়র প্রার্থীর দিকে। আগামী ১৫মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর এ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত দ্বিতীয় মেয়র হিসেবে কে বিজয়ের হাসি হাসবেন, তা দেখার জন্য সবাই আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। আর এজন্যই উভয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনরাত গণসংযোগ আর ভোটারদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করে পুরো নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকে ভোটারকে না পেয়ে মোবাইলে এসএমএস করে বা ই-মেইল করে ভোট ও দোয়া চাচ্ছেন।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকারের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মো. মাজহারুল আলম জানান, সকাল ১০টায় দত্তপাড়া হাউজ বিল্ডিং, বনমালা রেলগেট ও তিন্তাগেট এলাকায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালান বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলনসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
প্রচারণাকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বির পক্ষ থেকে আমাকে ও আমার কর্মী সমর্থকদের প্রচারণায় বাঁধা দেয়া হচ্ছে। আমি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ চাই।
অপরদিকে শনিবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিমপুরের হাতিমারা এলাকায় সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে নির্বাচনী গনসংযোগ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অভিনয় শিল্পী ও বিএনপি নেতা বাবুল হোসেন, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. শওকত হোসেন সরকার প্রমুখ। এছাড়া টঙ্গীতে প্রচারণার কাজে ছিলেন সাবেক এমপি খায়রুল কবির খোকনসহ সঙ্গীরা।
একইদিন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মো. আমান উল্লাহ আমান গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, লক্ষীপুরা, পূর্ব চান্দনা এলাকায় প্রচার কাজ করেন। তাঁর সাথে ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি আহম্মেদ আলী রুশদীসহ স্থানীয় নেতা-কর্মী।
এয়াড়া একইদিন দুপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও পেশাজীবী নেতা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার গাজীপুর সিটির কাশিমপুর, ভবানীপুর এলাকায় প্রচার কাজ করেন। তাঁর সাথে ছিলেন জিয়া পরিষদ নেতা আসাদুজ্জামান সোহেল, মাফিকুর রহমান সেলিম প্রমুখ।
মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত  নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন।
অপরদিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নির্বাচনী যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকের নূরবাগ এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে এ সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ। এতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক। সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আফম বাহা উদ্দিন নাসিম, ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধূরী নওফেল, ড. মৃণাল কান্তি দাস এমপি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, আফজাল হোসেন, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওয়ার্ড ও মহল্লা ভিত্তিক গঠিত ১১৬টি টিমের প্রতিনিধিরাও এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে যে সব সমস্যাবলী চিহ্নিত করা হয়েছে সভায় সেগুলো উপস্থাপন ও সমাধানের উপায় নির্ধারণ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ এসব নির্বাচনী পরিচালনা টিমের সমন্বয়কারীর দায়িত্বে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থীর মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলম জানান, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম সকালে ছয়দানা এলাকায় নিজ বাসার সম্মেলন কক্ষে মহানগর প্রাইভেট মাদ্রাসা সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। এরআগে তিনি বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরে তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকের নুরবাগ এলাকায় গাজীপুর সিটি নির্বাচন উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় যোগ দেন। ওই সভাশেষে তিনি গাজীপুর সিটির ৪৩নং ওয়ার্ডের টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরীতে গণসংযোগ শুরু করেন। গনসংযোগকালে তিনি স্থানীয় ফকির মার্কেট সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি ৪৪নং ও ৪৭নং ওয়ার্ডের পাগাড় পাঠানপাড়া, ঝিনু মার্কেট, টিএন্ডটি বাজার, কেটু মোড়, গোপালপুর, শিলমুন, মরকুন পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও টঙ্গী থানা আ. লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইলিয়াস আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও শহীদ আহসান উল্লাহ মাাষ্টারের ছোট ভাই মতিউর রহমান মতি প্রমুখ নেতৃবৃন্দসহ সকল অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ গণসংযোগে যোগ দেন।  
মহানগরের কোথাও বিশেষ অভিযান চালাতে হলে
রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে পুলিশ সুপার কথা বলে নেবেন
নির্বাচনকালীন সময়ে যদি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোথাও বিশেষ অভিযান চালাতে হয় তাহলে রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে গাজীপুর পুলিশ সুপার কথা বলে নেবেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। নির্বাচনকালীন ছাড়া পুলিশ সুপার মহোদয় তার দায়িত্ব নরমালভাবে যেভাবে করেন সেভাবেই করবেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন ম-ল। তিনি শনিবার দুপুরে গাজীপুর শহরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে তার অস্থায়ী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
 রিটার্নিং অফিসার বলেন, নির্বাচনের ওপর যাতে কোনো প্রকার প্রভাব না পড়ে সে ধরনের কার্যকলাপ বা বিশেষ কার্যকলাপ যাতে না করে সে ব্যাপারেও কথা বলা হয়েছে। এর আগেও আমাদের এ বিষয়ে কথা হয়েছে পূনরায় বলব। নির্বাচনের পরিবেশ যাতে সুষ্ঠু থাকে, সুন্দর থাকে কোনো রকমের প্রভাব যাতে না পড়ে সে ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
শুক্রবার জামায়াতের গাজীপুর মহানগর আমীরসহ ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনার ব্যাপারে নিজের তরফ থেকে তদন্ত করার চেষ্টা করছি, প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে কি না বা নির্বাচনের ওপর হস্তক্ষেপ করছে কিনা। আরেকটি বিষয় হল বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমাদেরকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ধরণের কার্যকলাপ যেন না করা হয়। এসব বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি। এখানে নির্বাচনের ওপর সেভাবে কোনো প্রভাব পড়ে তাহলে নির্বাচন কমিশনকে জানাবো।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছ থেকে এবং সহকারী রিটানিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আচরন বিধি সংক্রান্ত বিষয়ে রিপোর্ট পাচ্ছি। কিন্তু পুলিশ সুপারকে লিখব তারা যেন প্রতিদিনের নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যকলাপের ব্যাপারে আমাদেরকে অবহিত করে। ইতোমধ্যে টঙ্গী ও জয়দেবপুর থানার ওসিকে বলা হয়েছে। তারা যেন টাইম টু টাইম কোনো রিপোর্ট নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে আমাদের অবহিত করে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে গাজীপুর মহানগরের স্বপ্নচূড়া রিসোর্ট থেকে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর এস এম সানাউল্লাহসহ ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক এসএম সানাউল্লাহ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে মেয়র পদে প্রার্থী হন। পরে ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে এবং জামায়াতের হাই কমান্ডের নির্দেশে গত ২৩ এপ্রিল তিনি বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন দিয়ে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে প্রচারনায় নামেন।
এব্যাপারে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এম নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর এস এম সানাউল্লাহ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। তিনি তার সমর্থিত লোকজন নিয়ে ২০ দলীয় জোট প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানোর ঘোষনা দেয়ায় সরকারের পছন্দ হয়নি, তাদের হিংসা হচ্ছে। এ কারণেই সরকার বিএনপি কর্মীদের মনে আতঙ্ক ছড়াতে ওই ৪৫জনকে গ্রেফতার করেছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ ওইদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের বিষয়ে বলেন, নাশকতা পরিকল্পনার জন্য জামায়াত শিবিরের ওই ৪৫ নেতা-কর্মী সেখানে সমবেত হয়েছিল। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৫টি পেট্রোলবোমা, চারটি ককটেল, বেশ কিছু জেহাদী  বই নানা সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

গাজীপুর মহানগর জামায়াত সেক্রেটারির বিবৃতি
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খায়রুল হাসান মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এসএম সানাউল্লাহ সহ ৪৫ নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়ে বলেন-
ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও মিথ্যামামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে এস এম সানাউল্লাসহ সবাইকে মুক্তি দিতে হবে-
 শুক্রবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনোর ৪১ নং ওয়ার্ডের ডেমরপাড়া এলাকায় ২০ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী সভা থেকে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ সহ ৪৫ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের সাথে পেট্রোল বোমা, ককটেল পাওয়া যায় এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে একসাথে হয় পুলিশ প্রশাসনের এমন বক্তব্য নির্লজ্জ মিথ্যাচার এবং সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও সাজানো ঘটনামাত্র। ইতোপূর্বে অনেক নিরাপরাধ লোকদের গ্রেফতার করে। এমন নাটক সাজানো হয়েছিল। সচেতন দেশবাসী সরকারের এমন নাটক কোনভাবেই বিশ্বাস করে না বরং হাস্যস্পদ মনে করে। আইন শৃংখলায় নিয়োজিত পুলিশবাহিনীর লোকদের এমন ফলস্ প্রেকটিস একটি জাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াবে। তিনি অবিলম্বে ভিত্তিহীন সাজানো মিথ্যামামলা প্রত্যাহার করে মহানগর জামায়াতের আমীর জননেতা অধ্যক্ষ এসএম সানাউল্লাহসহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতা- কর্মীদের নি:শর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। এবং এমন নির্জলা মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ