ঢাকা, রোববার 29 April 2018, ১৬ বৈশাখ ১৪২৫, ১২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আইপিওর প্রতিবেদন ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে না দেওয়ার অনুরোধ বিএসইসির

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন বলেছেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনৈতিক পন্থায় কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে মিথ্যা ঘোষণা (ডিসক্লোজ)) দিয়ে না আনার অনুরোধ জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে ম্যার্চেন্ট ব্যাংকারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নতুন অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএমবিএ’র সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান উল্লাহ, ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও পরিচালক শাকিল রিজভী, ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুস্তাক আহমেদ সাদেক, সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী প্রমুখ।
খায়রুল বলেন, ইস্যু ম্যানেজমেন্ট, আন্ডাররাইটিং এবং পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংকের কয়েকটি বিশেষ ভূমিকা আছে। অন্যান্য দেশে এগুলোকে (মার্চেন্ট ব্যাংক) ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং বলা হয়। তারা যদি অনৈতিক পন্থায় উদ্যোক্তাদের সহায়তা করেন এবং ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে মিথ্যা ডিসক্লোজার (ঘোষণা) দিয়ে আইপিও আনার চেষ্টা করেন, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুনাম ক্ষুণœ হবে। ব্রোকার-ডিলারসহ যারা বিডিং করছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিনিয়োগকারীরা। যারা এই ইনফরমেশনের ওপর ভিত্তি করে বাজারে এসেছেন, এই একটা নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্টের ওপর ভরসা রেখেছেন তারা প্রতারিত হবেন। তাই মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা ইনফরমেশনগুলো যথাযথভাবে দেবেন।
মার্চেন্ট ব্যাংকাররা বিনিয়োগকারীকে অ্যাডভাইজ করবে, কোথায় বিনিয়োগ করতে হবে, কীভাবে বিনিয়োগ করতে হবে সেই ফোকাসটি বিনিয়োগকারী ও পলেসি মেকারদের কাছে পৌঁছে দেবে। যখন দেখা যাবে তথ্যনির্ভর, জ্ঞাননির্ভর, গবেষণানির্ভর বিনিয়োগ হচ্ছে- তখন বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়বে।
তিনি বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকের ভূমিকা যদি অত্যন্ত সুদৃঢ় না থাকে এবং যথাযথ না থাকে তাহলে মার্কেটের স্থিতিশীলতা আমরা কিছুতেই নিশ্চিত করতে পারবো না। বিনিয়োগকারীর সুরক্ষার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় ভূমিকা রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকের। কারণ উদ্যোক্তার সঙ্গে, স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে, রেগুলেটরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কজটি এই মার্চেন্ট ব্যাংক করে।
খাইরুল হোসেন বলেন, পুঁজিবাজার আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই পুঁজিবাজারের মাধ্যমে একদিকে যেমন দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন হবে, বিভিন্ন ধরনের শিল্প, অবকাঠামো এবং সেবাখাতকে আমরা এগিয়ে নিতে পারবো। তেমনি পুঁজিবাজার আগামীতে দেশের জিডিপিতে ক্রমবর্ধমানহারে অবদান রেখে কর্মসংস্থানে বিরাট ভূমিকা রাখবে।
দেশের পুঁজিবাজার এখনো দুর্বল অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে খায়রুল বলেন, যদি আমরা পুঁজিবাজার শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে পারি, যদি এখানে শৃঙ্খলা ফিরে আসে, যদি বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা মনে করেন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আমরা যা দেখি, সেটাই প্রকৃত উন্নয়ন, তাহলে পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট অনেক বেড়ে যাবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারীর বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে পেয়েছেন। যদি সমস্ত প্রক্রিয়া সুন্দরভাবে এগিয়ে যায় তাহলে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বেড়ে যাবে।
বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার অন্যতম উপায় হলো নতুন নতুন প্রডাক্ট আনা। আজকে যদি আমরা বন্ড মার্কেট অনেক শক্তিশালী করতে পারি এবং ইটিএফ ও ডেরিভেটিভ মার্কেট শুরু করতে পারি এবং সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রডাক্ট সম্পর্কে ও প্রডাক্টের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে পারি, তাহলে আগামীদিনে পুঁজিবাজার দ্রুতগতিতে বিকশিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ