ঢাকা, রোববার 29 April 2018, ১৬ বৈশাখ ১৪২৫, ১২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিরাজদিখানে ৬৫ বছরের বৃদ্ধার মাথা ফাটালো যুবলীগ নেতা

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মমনা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে বেদরক মারধর করে মাথা ফাটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে কোলা ইউনিয়নের যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ নোভেল হাওলাদার ও তার বড় ভাই রুবেল এর বিরুদ্ধে। যুবলীগ নেতা ও তার ভাইয়ের মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধা ও তার মেয়ে রাবেয়া বেগম (৪৬)কে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মমনা বেগম ও তার মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক মনে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলা গ্রামের মোবারক চেয়ারম্যানের বাড়ীর পাশের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, প্রায় ১৭ মাস পূর্বে যুবলীগ নেতা নোভেল হাওলাদারের বড় ভাই বৃদ্ধা মমনা বেগমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার হিসেবে নেয়। উক্ত টাকা মমনা বেগম চাইতে গেলে মমনা বেগম সহ তার মেয়েকে রাস্তায় ফেলে বেদরক মারধর করে যুবলীগ নেতা মোঃ নোভেল হাওলাদার ও তার বড় ভাই রুবেল।

কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগে সাধারণ সম্পাদক মোঃ নোভেল হাওলাদার এর কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি তাদেরকে মারিনি। আমার বড় ভাই হালকা মেরেছে। তবে যা হয়েছে এ বিষয়ে আমি সমাধানের চেষ্টা করবো। সিরাদিখান উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম লিটু জানান, এবিষয়ে অনেকেই ফোন করে আমাকে জানিয়েছে। কোলা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নোভেল দুই মহিলার মাথা ফাটিয়েছে। তবে কতটুকু সত্য তা এখনো আমি জানতে পারিনি। তবে যুবলীগের কোন কর্মী যদি কোন অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার প্রমান পাওয়া গেলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোলা ইউনিয়ন ৪, ৫, ৬নং সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রওশনারা বেগম জানান, আহত অবস্থায় রাস্তা থেকে আমি তাদের দুইজনকে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করি। ঐখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার রেফার্ড করেছে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে। তিনি আরো জানান, মানুষ মানুষকে এভাবে মারে না। ওরা গরিব ও অসহায় বলেই তাদেরকে এই ভাবে মেরেছে। কিন্তু গরিবরাতো সঠিক বিচার পায়না। তবে আমি প্রশাসন এবং সমাজের কাছে আশাবাদি যেন তারা ন্যায় এবং সুষ্ঠ বিচার পায়।  সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মমনা বেগম বলতে থাকেন, ওই কিয়ের আওয়ামীলীগ নেতারে বাবা, আমার পাওনা টেকা চাইতে গেছি দেইখা রাস্তার বিতরেই আমারে জুতা লইয়া আইছে বারিতে দিতে। পরে আবার আমারে কয় তরে জাইত্তা দরমু। অর বড় ভাই আইয়া রড দিয়া আমারে আর আমার মাইয়ার মাথা বাইরাইয়া ফাটাইয়া দিছে। আমাগো কেউ নাই দেইখা ওরা আমাগো এমনে মারলো। আল্লাহ যে অগো বিচার করে। আমি থানায় গেছিলাম কেস করতে ডারদা স্যার কয় আগে হাসপাতালে যান। পরে কেস করতে আইয়েন। এব্যপারে সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল কালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ