ঢাকা, রোববার 29 April 2018, ১৬ বৈশাখ ১৪২৫, ১২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আর যুদ্ধ নয়

বহুদিন পর মানুষ একটি কাক্সিক্ষত চিত্র দেখতে পেল। দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের দিকে হেঁটে এগিয়ে গেলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। মুখে হাসি। দাঁড়ালেন দুই দেশকে ভাগ করা সামরিক সীমান্তরেখার উত্তর কোরিয়া অংশে। অন্য পাড়ে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন। সীমান্তরেখার দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে হাত মেলালেন তারা। মুন উষ্ণ অভ্যর্থনায় স্বাগত জানালেন কিমকে। কিম সীমান্তরেখা পাড়ি দিয়ে পা রাখলেন দক্ষিণের মাটিতে। আর এর মধ্যদিয়ে রচিত হলো নতুন এক ইতিহাস। উল্লেখ্য যে, কোরীয় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ৬৫ বছরের মধ্যে ২৭ এপ্রিল শুক্রবার প্রথমবারের মতো উত্তরের কোন নেতার পা পড়লো দক্ষিণে। সিউল থেকে রয়টার্স ও এএফপির বর্ণনায় এমন চিত্রই উপহার পেলাম আমরা।
১৯৫০ সালে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে কোরীয় উপদ্বীপে। তিন বছর যুদ্ধের পর ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়। সেই থেকে দেশ দুটি যুদ্ধ বিরতিতেই ছিল, তবে আনুষ্ঠানিক কোন শান্তিচুক্তি হয়নি। বরং বৈরিতা ক্রমেই বেড়েছে। মাঝেমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। দক্ষিণ কোরিয়াকে সুরক্ষা দিতে এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অঞ্চলে মোতায়েন রেখেছে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম। আন্তর্জাতিক পরিম-লে নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে একঘরে হয়ে পড়ে উত্তর কোরিয়া। নিজেদের সুরক্ষার অজুহাতে তখন দেশটি পারমাণবিক কর্মসূচি শক্তিশালী করে। বিশেষত ২০১১ সালে কিম জং-উন কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর কোরিয়ার শাসক হওয়ার পর পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদার করেন। বিশ্বনেতারা যত বেশি কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাতে থাকেন, কিম ততবেশি  আগ্রাসী হয়ে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে থাকেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যে, যে কোন সময় বড় যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। তবে আশার কথা হলো, সব বৈরিতা আর যুদ্ধ পরিস্থিতিকে অতীতের বিষয় করে গত ২৭ এপ্রিল দুই দেশ ঘোষণা করলোÑ আর যুদ্ধ নয়, বরং কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে দুই দেশ একজোট হয়ে কাজ করবে।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ ঘোষণায় বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ খুশি হয়েছে। কারণ মানুষতো শান্তি চায়। বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোও শান্তির কথা বলে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় মোড়লীপনাও করে। তবে শান্তি আর প্রতিষ্ঠা পায় না। এর বড় প্রমাণ সিরিয়া। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ ঘোষণায় আনন্দ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনও। আমরা জানি, এই ত্রয়ীরাষ্ট্র নিঃস্বার্থভাবে শান্তির পক্ষে অবস্থান নিলে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির সুবাতাস বইতে থাকবে। এমনটি হলে বর্তমান অশান্ত বিশ্বের বাতাবরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ