ঢাকা, সোমবার 30 April 2018, ১৭ বৈশাখ ১৪২৫, ১৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুই কোরিয়ার সংলাপের অন্তরালে যত ঐতিহাসিক প্রথা ও কটাক্ষ দেখল বিশ্ব

আগামী মাসেই পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া

২৯ এপ্রিল, বিবিসি : কোরীয় উপদ্বীপের যুদ্ধের ৬৫ বছর পর এই প্রথম আয়োজিত দুই কোরিয়ার প্রেসিডেন্টদের মিটিংয়ের মাঝেও চোখের আড়ালে হয়েছে অনেক আনুষ্ঠানিকতা। মেঝের কার্পেট বা চেয়ার, পাইন গাছ বা পাইন গাছের মাটি সবই ছিল অর্থপূর্ণ ও ঐতিহ্য অনুসারে।দক্ষিণ কোরিয়া এ সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্বে ছিল। তারা অত্যন্ত সুন্দর ও পরিপাটি করে দুই কোরিয়ার ঐতিহ্য সামনে রেখে সব আয়োজন করেছিল।

স্থান নির্বাচন: এ সম্মেলনটি পানমুনজম গ্রামে আয়োজন করা হয় যা বেসামরিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এর আগে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সকল বৈঠক পানমুনজম গ্রামেই আয়োজন করা হত।

পোষাক: মিলিত হওয়ার স্থান থেকে মিটিং রুমে যাওয়ার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা বাহিনী সামরিক পোষাকের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী পোষাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে।

ফুল: স্থানটিকে সাজানোর জন্য ঐতিহ্যবাহী সাদা চীনামাটির পাত্রে স্থানীয় ফুল সাজানো হয় শান্তির প্রতীক হিসেবে।

মিটিং রুম: ডিম্বাকার টেবিলটি ২০১৮ মিমি আয়তনের ছিল যা ২০১৮ সালের সম্মেলন বোঝায়। চেয়ারগুলো প্রথাগতভাবে তৈরী ছিল এবং চেয়ারে জাপানকে কটাক্ষ করে বিশেষ গর্তও আকা ছিল। চেয়ারের উপরের দিকের মাঝখানে জাপানের সাথে বিরোধপূর্ণ দ্বীপের মানচিত্র আঁকা ছিল। দেয়ালের মানচিত্রও বিশেষ ভাবে আঁকা ছিল যেখানে ডকডো দ্বীপকে নিহ্নিত করা ছিল যা দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ন্ত্রণ করলেও জাপান নিজেদের বলে দাবী করে। উল্লেখ্য, দুই কোরিয়াই জাপান বিরোধী। ঘরটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যেন তা দুই কোরিয়ার ঐতিহ্যকে উপস্থাপন করে। নিচের নীল কার্পেট কোরীয় উপদ্বীপের পাহাড়ের প্রতিচ্ছবি।দেয়ালে উত্তর কোরিয়ার বিখ্যাত কুমগ্যাং পাহাড়ের ছবি আকা ছিল। উত্তর কোরিয়ার এক অফিসার বলেন এটা এমন পাহাড় যেখানে সকল কোরিয়ান একবার হলেও যেতে চায়।

পাইন গাছ: গাছটির জন্ম ১৯৫৩ সালে যা কোরিয়ার যুদ্ধবিরতির চুক্তি নির্দেশ করে। এই গাছের জন্য মাটি আনা হয় উত্তর কোরিয়ার বিখ্যাত পাহাড় পাইকটু থেকে এবং যে পানি দেয়া হয় তা সমান পরিমানে আনা হয় দুই কোরিয়ার নদী থেকে। দুই নেতা এ গাছ রোপনকে ‘শান্তি ও উন্নতি রোপন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

খাবার: রাতের খাবারেও ছিল ঐতিহ্যের চিহ্ন। খাবারগুলো আনা হয় দুই নেতার স্থানীয় শহর থেকে এবং বেসামরিক এলাকা থেকে উৎপাদিত সব্জি পরিবেশন করা হয়। উত্তর কোরিয়ার নেতা তার পছন্দের ঠান্ডা নুডলস নিয়ে যায় যা বেশ কৌতুকের জন্ম দেয়, সুইজারল্যান্ডের আলু ভাজা আনা হয় কারন কিমের ছোট বেলা সুইজারল্যেন্ডে কাটে।

ঐতিহ্যবাহী বিবিম্বাব ভাত পরিবেশন করা হয়। খাবার শেষে যে মিষ্টি পরিবেশন করা হয় আবারো তার উপর জাপানের সাথে বিরোধপূর্ণ দ্বীপের ছবি আঙ্কিত করা হয়।এর কোন কিছুই জাপানের চোখ এড়ায় নি। জাপান এব কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

মে-তেই বন্ধ হচ্ছে উ. কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র : উত্তর কোরিয়া মে মাসের মধ্যে তাদের পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইয়ুন ইয়াং চ্যান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পুঙ্গি রি কেন্দ্রের কার্যক্রম সবার সামনেই বন্ধ হবে। তা পর্যবেক্ষণ করতে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার পানমুনজমের শীর্ষ সম্মেলনে দুই কোরিয়ার নেতারা কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতেই কিম এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক পরীক্ষাগার হিসেবে পরিচিত পুঙ্গি রি কেন্দ্রটি দেশটির উত্তর-পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত।২০০৬ সালের পর গত এক যুগে এ কেন্দ্র থেকেই অন্তত ছয়টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ংইয়ং।পুঙ্গি রির কাছে মন্তাপ পাহাড়ের নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে এসব পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো হতো বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।গত বছরের সেপ্টেম্বরে হওয়া সর্বশেষ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষার পর কেন্দ্রটির আশপাশে বেশ কয়েকটি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়।পুঙ্গি রিসংশ্লিষ্ট পাহাড়ের অভ্যন্তরের কিছু অংশ ধসে পড়েছে বলে ভূতত্ত্ববিদরা তখন থেকেই আশঙ্কা করছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ