ঢাকা, সোমবার 30 April 2018, ১৭ বৈশাখ ১৪২৫, ১৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অগ্রিম আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে কর মওকুফ চায় ডিএসই

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অর্থনীতির স্বার্থে একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার জরুরি। এ লক্ষ্যে চলতি নির্বাচনের বছরে আসন্ন ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে একগুচ্ছ সুপারিশ দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জসহ (সিএসই) শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। প্রস্তাবনায় লভ্যাংশ আয়ের ওপর কোম্পানি থেকে অগ্রিম আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে কর মওকুফ চেয়েছে ডিএসই।
জানা যায়, শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাবনাসহ একগুচ্ছ সুপারিশমালা জমা দিয়েছে এরসাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ডিএসই ও সিএসই ছাড়াও জমা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), দি ইনিস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরাম (ইআরএফ)। এসব প্রস্তাব দ্রুত অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে জমা দেবে প্রতিষ্ঠানগুলো।
এনবিআরকে ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, লভ্যাংশ আয়ের উপর কোম্পানি থেকে অগ্রিম আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে কর মওকুফ করতে হবে। এছাড়া ডি-মিউচ্যুয়ালাইযেশন স্টক এক্সচেঞ্জ পরবর্তী ডিএসইর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বাজেটে শতভাগ কর অবকাশ রাখা, ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জের ব্লকে থাকা ৬০ শতাংশ শেয়ার বিক্রয় বা হস্তান্তরের উপর ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স মওকুফ করা এবং আসছে বাজেটে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুবিধা একান্ত প্রয়োজন বলে লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়।
ডিএসই জানায়, তালিকাভুক্ত ও তালিকার বাইরে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে আয়করের ব্যবধান ১০শতাংশ। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো কর দেয় ২৫ শতাংশ। আর তালিকার বাহিরে থাকা কোম্পানিগুলোর কর দিতে হয় ৩৫ শতাংশ। আসছে বাজেটে তা পরিবর্তন করে ২০ শতাংশ করতে হবে। একইসাথে স্টক ব্রোকার এবং ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেনের ওপর শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কর করা প্রস্তাব করা হয়।
সিএসইর প্রস্তাবে বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের উপর করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা, আইপিওর মাধ্যমে ন্যূনতম ২০ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পরবর্তী ৩ বছর আয়করের উপর ৫০ শতাংশ রেয়াত সুবিধা দেওয়া, মওকুফকৃত মার্জিন ঋণ ও সুদকে কর আওতার বাহিরে রাখা, সফটওয়্যার মেইনটেইনেন্স ফি’র উপর উৎসে কর ৫ শতাংশ করা, এক তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে অন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির অর্জিত লভ্যাংশের ওপর কর বাতিল করার দাবি জানানো হয়।
বিএমবিএ’র প্রস্তাবে বলা হয়, এখন মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে ৩৫ দশমিক ৫শতাংশ হারে কর দিতে হয়। তার পরিবর্তে আগামী তিন বছরে পর্যায়ক্রমে ৩২ দশমিক ৫, ও ৩০ দশমিক ৫ এবং ২৮ দশমিক ৫ শতাংশে কমিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির (ব্যাংক, বিমা, এনবিএফআই, সিগারেট ও মোবাইল কোম্পানি ব্যতিত) কর হার ২৫ শতাংশ। এটিকে আসছে বাজেটের জন্য ২৩ শতাংশ, পরের বাজেটে ২২ শতাংশ ও ২০২০-২০২১ সালের বাজেটে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। এ প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
 ইআরএফের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের লিস্টেড এবং নন লিস্টেড কোম্পানির উপর মনিটরিং বাড়াতে কর হার আরেকটু ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব করা হয়।
এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে লিস্টেড ও নন লিস্টেড কোম্পানির মধ্যে কর্পোরেট আয়ে কর হারের ব্যবধান ২০ শতাংশে বৃদ্ধি করলে এতে অধিক মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি ও স্থানীয় ব্লুচিপ কোম্পানি এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তকরণ সহজ হবে। পাশাপাশি তারা তালিকাভুক্তিতে উৎসাহ পাবে। যা সরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ