ঢাকা, সোমবার 30 April 2018, ১৭ বৈশাখ ১৪২৫, ১৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রয়োজন শুদ্ধ চৈতন্য

বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক কর্মকা্ড এবং প্রযুক্তির উল্লম্ফনে বেশ অস্থির সময় কাটছে মানুষের। শুধু গতি নয়, অতি গতির কারণে জীবন ও জগৎ নিয়ে ভাবা তো দূরের কথা, মানুষ তো এখন নিজের কাছেই নিজে অপরিচিত। এমন শূন্যতার মধ্যে মানুষ শান্তি খুঁজে পাবে কেমন করে? এমন দার্শনিক ভাবনাকে কেউ কেউ হেঁয়ালি মনে করে অবজ্ঞা করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দার্শনিক ভাবনাকে অবহেলা করতে করতে আমরা শুধু ব্যক্তি মানুষকে নয়, আমাদের সমাজ এবং বিশ্ব ব্যবস্থাকেও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছি। সম্বিত ফিরে পেলে তো আমরা ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠতাম, কর্মসূচি নির্ধারণ করতাম এবং মানব জাতিকে বাঁচাবার জন্য নেমে পড়তাম নতুন এক অভিযাত্রায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, তেমন চৈতন্য আমাদের মধ্যে এখনও সৃষ্টি হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর বড় বড় শহরগুলোতে গাড়ি হামলার ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। হঠাৎ একটি গাড়ি সড়কে কিংবা ফুটপাতে একের পর এক মানুষ হত্যা করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউই রেহাই পাচ্ছে না। রাগ ও ক্ষোভ থেকে, বিদ্বেষ থেকে এবং বিভ্রান্তি ও প্রতিশোধস্পহা থেকে এসব ঘটনা ঘটছে বলে আমরা গণমাধ্যমের খবর থেকে জানতে পারি। অনেক সময় এইসব খবরে আমরা স্বার্থান্বেষী মহলের চিহ্নিতকরণ প্রবণতাও লক্ষ্য করে থাকি। এ জন্যই বলা হয়ে থাকে, সংবাদ সবসময় সত্যের সন্ধান দেয় না, দার্শনিক বিশ্লেষণ তো দূরের কথা। কানাডার টরন্টোতে গত ২৩ এপ্রিল সোমবার গাড়ি হামলার এক ঘটনা ঘটে। হামলায় হতাহতদের বেশিরভাগই নারী। প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ থেকে পুলিশ ধারণা করছে, নারীবিদ্বেষ থেকে ওই হামলা চালানো হয়েছে। সন্দেহভাজন হামলাকারীর নাম অ্যালেক মিনাসিয়ান (২৫)। গত ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে মিনাসিয়ানকে টরন্টোর আদালতে হাজির করা হয়। তার মধ্যে কোন ভাবাবেগ দেখা যায়নি। আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হয়। তার বিরুদ্ধে ১০টি হত্যা ও ১৩টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই হামলায় ১০ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন।
প্রশ্ন জেগেছে, কেন এই গাড়ি হামলা? ঘটনার প্রধান তদন্তকারী গ্রাহাম গিবসন বলেন, হামলার শিকার বেশিরভাগই নারী। ভরদুপুরে টরন্টোর ব্যস্ত রাস্তায় পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার কিছু সময় আগে মিনাসিয়ান ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে দুর্বোধ্য ভাষায় একটি বার্তা আছে। মিনাসিয়ান তার ফেসবুক পোস্টে এলিয়ট রজার (২২) নামের এক ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন। আর লিখেছেন, ‘ইনসেল বিদ্রোহ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমরা সব চ্যানওস্টেসিসকে উৎখাত করবো।’ আর এগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়েই কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার দশা হয়েছে। মিনাসিয়ান যার প্রশংসা করেছেন সেই এলিয়ট রজার ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইসলাভিসতায় গুলী চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন। তিনি ছিলেন ভীষণ রকমের নারীবিদ্বেষী। হতাশ ঐ ব্যক্তি নিজের নিঃসঙ্গতার জন্য সব নারীকে শাস্তি দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। এলিয়ট রজার একজন স্বঘোষিত ‘ইনসেল’ ছিলেন। ইনসেলরা বিশ্বব্যাপী পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী এবং নারীবিদ্বেষী। হতাশা থেকে যে নারীবিদ্বেষ, তা কি জীবনদর্শন তথা জীবনদৃষ্টির সাথে জড়িত নয়? তাই মানব জাতিকে বিপর্যয় থেকে বাঁচতে এখন প্রয়োজন সঠিক জীবনদর্শন তথা শুদ্ধ চৈতন্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ