ঢাকা, সোমবার 30 April 2018, ১৭ বৈশাখ ১৪২৫, ১৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উন্নয়নের আসল রূপ

আশিকুল হামিদ : উন্নয়নের মহাজোয়ারে ভেসে চলা এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে, যেগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মুখে অনেক কথাই শোনা যাচ্ছে। তাদের আালোচনায় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল এবং চার-ছয় লেনের সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের মতো কর্মকান্ড আসছে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে। এসব কর্মকান্ডের পেছনে আসল যে উদ্দেশ্য রয়েছে সে সম্পর্কে বুঝতে সবচেয়ে মুর্খ এবং বোকা মানুষেরও অসুবিধা হচ্ছে না। মানুষ ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সেখানেও হাজার হাজার কোটি টাকার হিসাবই রয়েছে। এত বিপুল অর্থ ঠিক কোন গোষ্ঠীর পকেটে যাচ্ছে এবং ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ‘সুসম্পর্ক’ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষেই কাজ বা কন্ট্রাক্ট পাওয়াসহ এসব প্রকল্পের ধারে-কাছে যাওয়া সম্ভব কি না- এসব বিষয় নিয়েও জল্পনা-কল্পনা যথেষ্টই করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ধারণা, ঘুষ ও কমিশনসহ ব্যয় করা হাজার হাজার কোটি টাকার বড় অংশই বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কথাটা এমনকি ‘অথর্ব’ এবং ‘রাবিশ’ হিসেবে বর্ণিত অর্থমন্ত্রী মিস্টার মুহিতকেও মাঝে-মধ্যে স্বীকার করতে হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত এসেই থেমে পড়েন অর্থমন্ত্রী। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই তাকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। সে ক্ষমতাও আসলে তার নেই। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদসহ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা নিয়মিতভাবে বলেছেন এবং এখনো বলে চলেছেন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি সত্যি উদ্দেশ্য হলে সরকারের উচিত ছিল শিল্প-কারখানা স্থাপনের মতো প্রকল্পে বিনিয়োগ করা, যাতে মানুষের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। যাতে পণ্যের চাহিদা পূরণের জন্য আমদানি করতে না হয় বরং রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ানো সম্ভব হয়। কৃষিখাতের ব্যাপারেও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা। চাষাবাদের মওসুমে ঋণ এবং সার-বীজ দেয়া থেকে শুরু করে ফলনের পর লাভজনক দামে পণ্য কিনে নেয়ার মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসব কথার কোনো একটিও কিন্তু মুহিত সাহেবদের কানে ঢোকেনি। সরকার যখন হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল এবং চার-ছয় লেনের সড়ক বানানোর নামে জাতির ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা চাপাতে এবং বিদেশে অর্থ পাচাকারীদের সাহায্য করতে ঘেমে নেয়ে উঠছে, কৃষকরা তখন টমেটো ও আলুর মতো নিজেদের কষ্টের ফসল রাস্তায় ও ডোবায় ফেলে দিয়ে চোখের পানি ঝরাচ্ছে। এ ধরনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ যখন প্রতি কেজি টমেটো ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দরে কিনে খাচ্ছে, চাষিরা তখন তিন-চার টাকায়ও বিক্রি করতে পারছে না। ফলে লোকসানই কেবল গুনতে হচ্ছে না, হতাশাও গ্রাস করছে তাদের। এরই প্রতিক্রিয়ায় চাষিরা শত শত মণ টমেটো আশপাশের ডোবায় এবং রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছে। অনেকে আবার টমেটো ক্ষেতেই পচিয়ে ফেলার পদক্ষেপ নিয়েছে।
জাতীয় অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এমন খবরগুলোকে নিশ্চয়ই ‘উন্নয়ন’ বলার উপায় নেই! বাস্তবে চাষাবাদের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষকরা। বলা বাহুল্য, কেবলই ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল এবং চার-ছয় লেনের সড়কের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার ‘শ্রাদ্ধ’ করার পাশাপাশি সরকার কৃষকদের যদি সামান্য সাহায্যও করতো, তাহলেও এমন ভয়ংকর অবস্থার সুষ্টি হতে পারতো না। এজন্যই প্রশ্ন উঠেছে, কথিত উন্নয়ন আসলে কাদের জন্য করা হচ্ছে?
প্রসঙ্গক্রমে দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়েও আলোচনা কম হচ্ছ না। কারণ, সরকারের ভুল ও সুচিন্তিত ক্ষতিকর নীতি এবং দলীয় বিবেচনার কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত অনেক অগেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটেছে যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে নীতিতে সংশোধন করার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা না নেয়া হলে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ব্যাংকিং খাতই শুধু ধ্বংস হয়ে যাবে না, জাতীয় অর্থনীতিও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দেয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে অনেক তথ্যেরই উল্লেখ করেছেন তথ্যাভিজ্ঞরা। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সংশোধনমূলক কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সরকার বরং এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের ব্যাপারেই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে, যেসবের পরিণতিতে ব্যাংকিং খাতের সর্বনাশই ত্বরান্বিত হয়েছে। এখনো হচ্ছে।
ঘটনাপ্রবাহে আবারও প্রাধান্যে এসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। গত ১৭ এপ্রিল ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আরাস্তু খান হঠাৎ পদত্যাগ করেছেন। আগের বছর, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটানোর সময় সরকারের এই সাবেক সচিবকে চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল। একই দিন তার সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন সরকারের আরেক সাবেক সচিব এবং ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামও। এই উল্লেখ্য, এই দু’জনেরও আগে ইসলামী ব্যাংকের পাঁচজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্তি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজমুল হাসান।
দেশের সবচেয়ে সফল ও লাভজনক ইসলামী ব্যাংককেন্দ্রিক ঘটনাগুলো যেদিন সারাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছিল, সেদিন- ১৭ এপ্রিলই বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সামষ্টিক অর্থনীতি বিষয়ে তার মূল্যায়নে বলেছে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণ ‘এতিম ও বিকলাঙ্গ’ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যাংকিং খাতের রক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করে সিপিডি বলেছে, এই ব্যাংকই ‘এতিম ও বিকলাঙ্গ শিশুর’ ওপর নানাভাবে অত্যাচার করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবকিছু জানা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের বছর বলে এ বছর আরো অনেক টাকাই পাচার হয়ে যেতে পারে বলে অশংকা প্রকাশ করেছে সিপিডি।
বিষয়টিকে দেশের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে উল্লেখ করে সিপিডি অযাচিত ও ক্ষতিকর হস্তক্ষেপ না করা এবং মূলত গ্রাহকের সঞ্চয়ের অর্থে গড়ে ওঠা মূলধন অন্য ব্যাংকগুলোকে না দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে। সিপিডি বলেছে, জনগণের করের টাকা থেকে ব্যাংকগুলোকে ভর্তুকি দেয়ার চলমান কর্মকান্ডও বন্ধ করা দরকার। না হলে সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যাংকিং খাতেরই সর্বনাশ ঘটবে। সেই সাথে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হবে জাতীয় অর্থনীতিও।
সহজবোধ্য কারণে সিপিডি অবশ্য বলেনি, বাস্তবে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়ে ও সহযোগিতায় ঋণখেলাপিসহ অসৎ ব্যবসায়ীরা নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিলে অনেকাংশে সফল হয়েছেন। এর ফলেই একদিকে ইসলামী ব্যাংকসহ ইসলামী ধারার দুটি বড় ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে পরিবর্তন ঘটেছে, অন্যদিকে আতংকিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ আমানতকারীরা। তারা এমনকি ব্যাংকগুলো থেকে তাদের সঞ্চয়ের অর্থ উঠিয়ে নিতেও শুরু করেছেন। অথচ ইসলামী ধারার এ দুটি ব্যাংকই বহু বছর ধরে দেশের জনগণের মধ্যে সঞ্চয়ের ব্যাপারে আগ্রহ তৈরি করেছিল। সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতির বিকাশেও ব্যাংক দুটির ছিল বিপুল অবদান। অন্যদিকে মূলত ইসলাম বিরোধী উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে সুচিন্তিত আক্রমণের শিকার হওয়ার পর দুটি ব্যাংকই মুখ থুবড়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, ২৫ এপ্রিলের প্রধান রিপোর্টে প্রথম আলো জানিয়েছে, মালিকানা বদল, অব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে মাত্র ১৫ মাসের মধ্যেই চরম সংকটে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক।
ইসলামী ধারার প্রধান দুটি ব্যাংককে বিপন্ন করার পাশাপাশি সরকারের অন্য কিছু অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের পরিণতিতেও দেশের ব্যাংকিং খাতে বিপর্যয় ঘটেছে। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে প্রাধান্যে এসেছে নতুন কয়েকটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও সরকার একের পর বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে রাজনৈতিক বিবেচনা। কিন্তু দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের পরিসর অত্যন্ত সীমিত হওয়ার কারণে এসব ব্যাংক মোটেও সাফল্যের মুখ দেখতে পারেনি। ফারমার্স ব্যাংকের মতো কোনো কোনো ব্যাংক বরং প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই লোকসান গোনার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে উঠেছে।
ব্যাংকারসহ অর্থনীতিবদরা সঠিকভাবেই বলেছেন, গলদ ছিল আসলে এসব ব্যাংককে অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্তের মধ্যে। কারণ, অত্যন্ত সীমিত অর্থনীতির বাংলাদেশে এত বেশিসংখ্যক ব্যাংকের লাভজনক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল না, এখনো নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকার একের পর বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছিল। দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা পৌঁছেছিল ৫৭টিতে। এসবের বাইরেও তৎপরতা চালাচ্ছে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত, দুটি বিশেষায়িত এবং নয়টি বিদেশি ব্যাংকসহ আরো বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অথচ বাংলাদেশের মতো ক্ষুদে অর্থনীতির একটি দেশে এত বেশি সংখ্যক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাভজনক হওয়া এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বাস্তবেও সেটাই ঘটেছে। এসব ব্যাংককে নিশ্চিত ধ্বংসের মুখ থেকে রক্ষার জন্যই সরকার জনগণের করের টাকার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের মতো লাভজনক প্রতিষ্ঠানের মূলধনে হাত দিয়েছে।
বলা হচ্ছে, বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সত্যি উদ্দেশ্য হলে সরকারের উচিত বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেয়া এবং বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ সম্ভাবনাময় সকল ব্যাংকের ব্যাপারে নীতি-কৌশল ও কর্মকান্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো। না হলে এবং ঋণ ও বাণিজ্যের নামে লুণ্ঠনের বাধাহীন কারবারকে চলতে দেয়া হলে একদিকে কোনো ব্যাংকের পক্ষেই বিপর্যয় কাটানো এবং লাভজনক হয়ে ওঠা সম্ভব হবে না, অন্যদিকে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে দেশের ব্যাংকিং খাত।
একই কথা বলা যায় খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গেও। ২২ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তরের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মাত্র নয়টি কোম্পানির কাছেই বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ ২২ হাজার কোটি টাকা। একই দিনের দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্টে জানা গেছে, সোনালী, অগ্রণী, জনতা এবং রূপালীÑ এই চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক মাত্র ২০ জন শীর্ষ ঋণ খেলাপির হাতে ‘জিম্মি’ হয়ে পড়েছে। তাদের নেয়া ঋণের পরিমাণ ২৮ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। প্রতিটি রিপোর্টেই বলা হয়েছে, আইন ও নিয়ম না মেনে বিশেষ করে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেয়ার ফলেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ এভাবে বেড়ে গেছে। সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্কেও পাশাপাশি অন্য একটি কারণেরও উল্লেখ করেছেন সকলে। সে কারণটি হলো, ঋণের অর্থ নির্ধারিত সময়ে ফেরৎ না দিলে যেহেতু কোনো শাস্তিমূলক র্বরবস্থা নেয়া হয় না সে কারণেও ঋণের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। এ ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি ৫৭টি ব্যাংকের প্রতিটিই কমবেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে।
আশংকার অন্য এক কারণ হলো, অর্থের পরিমাণের সঙ্গে ঋণ খেলাপি ব্যক্তিদের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেড় লাখের বেশি ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছেন। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নানা ধরনের যুক্তি দেখালেও গলদ রয়েছে আসলে তাদের উদ্দেশের মধ্যে। বড় কথা, খেলাপি ঋণের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরাসরি জড়িত রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এই নেতারা প্রভাব খাটিয়ে ঋণের ব্যবস্থা যেমন করেন তেমনি আবার বাঁচিয়ে দেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কবল থেকেও। ফলে ঋণের অর্থ না দিয়েও পার পেয়ে যান খেলাপিরা। মূলত সে কারণেই বেড়ে চলেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। এভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে ব্যাংকিং ইতিহাসে এক ‘বিরল ও অস্বাভাবিক বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, অবস্থায় পরিবর্তন না ঘটানো হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিই মুখ থুবড়ে পড়বে। প্রসঙ্গক্রমে শেয়ারবাজারের লক্ষ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা থেকে ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসবের অনেক ঘটনারও উল্লেখ করা হচ্ছে। কারণ, প্রতিটি কেলেংকারিতে ক্ষমতাসীনদের রথি-মহারথিরাই জড়িত রয়েছেন।
বলা দরকার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের সততা ও সদিচ্ছার অভাবই পরিস্থিতিকে এতটা ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। কারণ, অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীনরা শুধু ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসবেই মেতে থাকেননি, বছরের পর বছর ধরে ঢালাওভাবে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখার মতো কিছু পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এর ফলেই স্থবির হয়ে পড়েছে জাতীয় অর্থনীতি। কিন্তু এত কিছুর পরও জনগণকে উন্নয়নের কথাই শুধু শুনতে হচ্ছে। শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে তাদের। বলা দরকার, এমন অবস্থা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত আশংকাজনক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ