ঢাকা, বৃহস্পতিবার 3 May 2018, ২০ বৈশাখ ১৪২৫, ১৬ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বার্সেলোনার আরেক তারকা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা পতন

নাজমুল ইসলাম জুয়েল : বয়স হলে একজন খেলোয়াড় অবসর নেবেন এটাই স্বাভাবিক। সেই অবসরটা যদি যথাসময়ে হয় তবুও বিদায় নিতে কষ্ট হয়। সেই কষ্টটা এবার পেয়েছেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ঘোষণাটা দিতেই হবে, জানাই ছিল। তারপরও আবেগ সামলাতে পারলেন না তিনি। ২২ বছরের সম্পর্কচ্ছেদ বলে কথা! বিদায় বলার সময় পারেননি অশ্রু সংবরণ করতে। চোখের পানিতেই বার্সেলোনাকে বিদায় জানিয়েছেন ইনিয়েস্তা। ন্যু ক্যাম্পর সাথে ২২ বছরের সম্পর্কের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েই দিলেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। এখন আাগমী মৌসুমের জন্য তার বিকল্পও খোজা শুরু হয়ে গেছে। ক্লাব ক্যারিয়ারের শুরুটাই তো এখান থেকে। ১৬ মৌসুমে কাতালানদের হয়ে ৬৬৯ ম্যাচে মাঠে নামার সাক্ষীও তিনি। বার্সার হয়ে ৩১টি ও বিশ্বকাপসহ জাতীয় দলের জার্সিতে জিতেছেন ৩টি শিরোপা। ন্যু ক্যাম্পকে তো নিজের ঘরই বানিয়ে ফেলেছিলেন স্প্যানিশ তারকা। কিন্তু ঘর ছাড়বেন কিভাবে! কষ্ট যে একেবারেই কম হবে না সেটা তার চোখের পানিই বলে দিয়েছে। বাকিটা শুধু মুখেই বলেছেন, ‘একটা সময় বিদায় বলতেই হতো, মনে হয় এটাই তার সেরা সময়। আমার জন্য দিনটা খুবই কঠিন। বার্সা আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে। এই ক্লাবের কাছে আমি ঋণী।’ ২০০২ থেকে বার্সার মূল দলে খেলা এই স্প্যানিশ তারকা মিডফিল্ডার এবার চীনের একটি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে ইনিয়েস্তা জানিয়েছেন, ‘আর যাই হোক, আমি ইউরোপে খেলছি না। আমি বার্সেলোনার মুখোমুখি কখনোই হতে চাই না।’ লা লিগা পর্ব দিয়েই ক্লাবের হয়ে ইতি টানার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবার দিয়েই দিলেন বার্সা লিজেন্ড। সম্প্রতি কোপা দেল রের ফাইনালে সেভিয়াকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ৩০তম শিরোপা জিতল কাতালানরা। সেই ম্যাচেও নিজে একটি গোল করেছিলেন ইনিয়েস্তা। স্প্যানিশ এই তারকার বিদায়ের আগে পাঁচটি ম্যাচ খেলবে বার্সা।
দিপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে ৪-২ গোলে জিতে লা লিগায় এবারের শিরোপা নিজেদের করে নেয় বার্সা। সেই সঙ্গে আরেকটি শিরোপা যোগ হয় স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের ঝুলিতে। স্পেনের হয়ে ১২৫ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন এই তারকা। জাতীয় দলের হয়ে জিতেছেন ২০১০ সালের বিশ্বকাপ শিরোপা, ফাইনালে গোলও করেছেন। উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ২০০৮ ও ২০১২ সালের শিরোপা জয়েও কৃতিত্ব রেখেছেন। ৩৩ বছর বয়সী মাঝ মাঠের এই খেলোয়াড়কে দেখা যেতে পারে রাশিয়া বিশ্বকাপেও। ইনিয়েস্তার বিদায়ে সবার মুখেই শোনা যাচ্ছে স্তুতি বাক্য। সেই সঙ্গে প্রশ্নও উঠেছে, ক্ষণজন্মা এই স্প্যানিশ ফুটবলারকে যথার্থ সম্মান ফুটবল বিশ্ব দিয়েছে কি না। বিতর্ক উঠেছে ব্যালন ডি’অর নিয়েও। সময়ের সেরা মিডফিল্ডার ব্যালন ডি’অর পাননি, এটা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক ও জাতীয় দলের সতীর্থ সার্জিও রামোসও প্রশ্ন তুলেছেন ইনিয়েস্তার ব্যালন ডি’অর না পাওয়া নিয়ে। বিতর্ক উসকে দিয়েছে ফ্রান্স ফুটবল পত্রিকাই। ব্যালন ডি’অর পুরস্কারটি দেওয়া হয় এ পত্রিকার পক্ষ থেকে। তারাই কদিন আগে ঘটা করে ক্ষমা চেয়েছে ইনিয়েস্তার কাছে। এই মিডফিল্ডারের চীনে যাওয়ার গুঞ্জন শুনেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কারণ সে ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সেরার পুরস্কারে আর কখনোই বিবেচ্য হবেন না ইনিয়েস্তা। এভাবে ক্ষমা প্রার্থনা যেন বিতর্কটা উসকে দিয়েছে আরও। রামোসের ভাষায়, ইনিয়েস্তার নাম যদি আন্দ্রেস না হয়ে আন্দ্রেসিনহো হতো, তবে তার ভাগে দুটি ব্যালন ডি’অর থাকত। ব্রাজিলিয়ান কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে তারকা খ্যাতি বেশি জোটে। আর বিশ্বসেরার পুরস্কারের ক্ষেত্রে সেই তারকা খ্যাতির মতোই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় এই ওই অঞ্চলের খেলোয়াড়দের। এর আগে ২০১৫ সালে পেপ গার্দিওলাও প্রায় এমন কথা বলেছিলেন। স্প্যানিশ তারকা পেদ্রোর চেলসিতে মাত্র ২৭ মিলিয়ন ইউরোতে যোগ দিয়েছিলেন। গার্দিওলা এত কম অঙ্ক দেখে বলেছিলেন, ‘পেদ্রো যদি ব্রাজিলিয়ান হতো তবে ওকে পেদ্রোইনহো ডাকা হতো। তখন আর ওকে কেনার মতো টাকা থাকত না কারও!’ ইনিয়েস্তা বার্সেলোনা ছাড়ছেন। এটা সবাই জানত। বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ের ঘোষণাটা দেওয়ার।
আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিদায়ের সেই ঘোষণাটা দিয়েই দিলেন তিনি। বার্সেলোনায় এই মৌসুমই তার শেষ। এরপরই মনোযোগ দেবেন নতুন চ্যালেঞ্জে। ইনিয়েস্তার সেই নতুন চ্যালেঞ্জের নাম সবারই জানা। বার্সেলোনা ছেড়ে তিনি পাড়ি জমাতে যাচ্ছেন চীনের সুপার লিগের দল চংকিং ড্যাংদাই লিফানে। চীনা ক্লাবটির সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তি সেরে ফেলেছেন বলেই খবর। চংকিংয়ের জার্সি হাতে নিয়ে ছবিও তুলেছেন ইনিয়েস্তা। ক্যারিয়ারের পুরোটাই কাটিয়ে দিলেন ন্যু-ক্যাম্পে। স্টেডিয়ামটির প্রতিটা ঘাস-ধুলিকণার সঙ্গেও গড়ে উঠেছিল অন্যরকম ভালোবাসা, ভালো লাগার বন্ধন। ৩৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডারকে বিদায় ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনটা করলেন সেই ন্যু-ক্যাম্পই। শুধু ক্লাব, খেলোয়াড়, কর্মকর্তাদেরই নয়, ইনিয়েস্তা যেন আগাম বিদায় নিলেন ন্যু-ক্যাম্পের প্রতিটা ঘাস, ধুলিকনার কাছ থেকেও। এমনিতে সংবাদ সম্মেলন মানেই সাংবাদিকদের গিজগিজে ভিড়। ন্যু-ক্যাম্পের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সেই ভিড় তো ছিলই। তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের চেয়েও খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, দর্শকদের ভিড় ছির বেশি। ইনিয়েস্তার মতো একজন জীবন্ত কিংবদন্তি তার স্বপ্নের ঠিকানা ছাড়ার ঘোষণা দেবেন, তার স্বাক্ষী হতে হবে না! দীর্ঘ ২২ বছরের হৃদয়ের বন্ধন ছিন্ন করার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন, ইনিয়েস্তার চোখে এমনিতেই টলমল করছিল। সাংবাদিক, দর্শক, সতীর্থ খেলোয়াড়, কর্মকর্তাদের উপচেপড়া ভিড় ইনিয়েস্তার চোখে চিকচিক করা সেই পানি চোয়াল বেয়ে গড়িল নামাল। আবেগের কাছে হার মেনে সংবাদ সম্মেলনে কেঁদেই বিশ্ব ফুটবলের এই মহীরূহ! সেভিয়ার বিপক্ষে কোপা ডেল রের ফাইনাল খেলে উঠে যাওয়ার সময়ও কেঁদে ফেলেন ইনিয়েস্তা। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার আবেগে থরথর করে কাঁদলেন এদিনও। সেই ১৯৯৬ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে আলবাকেতে ছেড়ে বার্সেলোনার যুব একাডেমী ‘লা মাসিয়া’য় যোগ দেন ইনিয়েস্তা। সেই থেকেই ন্যু-ক্যাম্পই ছিল তার আপন ঘর। ক্লাব বার্সেলোনাই ছিল তার ‘জীবন’। যুব একাডেমী লা মাসিয়া থেকে বি দল হয়ে বার্সেলোনার মূল দলে অভিয়েক ২০০২ সালে। মূল দলেও তাই কাটিয়ে দিয়েছেন দীর্ঘ ১৬টি বছর। এই ১৬ বছরে ক্লাব বার্সেলোনাকে সর্বস্ব ঢেলে দিয়েছেন। খেলেছেন ৬৬৯টি ম্যাচ। জিতেছেন ৩১টি শিরোপা। ক্লাব বার্সেলোনাকে গেথে নিয়েছিলেন হৃদয়ের সঙ্গে। সেই ক্লাব ছাড়ছেন, ইনিয়েস্তার চোখে জল তো গড়াবেই! তবে আবেগ চোখে পানি নামালেও ইনিয়েস্তার মুখের ভাষাটা এলোমেলো করে দিতে পারেননি। বারবার চোখ মুছতে মুছতেই মনের কথাগুলো বললেন খুব গুছিয়ে, শান্ত-বিনয়ীভাবে। ক্যারিয়ারজুড়েই ছোটছোট পাসে ফুটবল প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের মনে কাঁপন ধরিয়েছেন। ব্যালন ডি’অরকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গত ১০ বছরে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার এই ব্যক্তিগত পুরস্কারটি সমানভাবে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন দুজনে। মেসি-রোনালদোর রাজত্বে হানা দিয়ে একবারও এই পুরস্কারটা উঁচিয়ে ধরতে পারেননি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। তবে ক্যারিয়ারে কখনো ব্যালন ডি’অর না জিতেও যেন ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বাদ পেলেন বার্সেলোনার বর্ষিয়ান মিডফিল্ডার। ইনিয়েস্তার হাতে কখনোই ব্যালন ডি’অর তুলে না দিতে পারার কারণে যে তার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল ফ্রান্স ফুটবল! ফ্রান্সের বিশ্বখ্যাত ফুটবল সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবলই দিয়ে থাকে ব্যালন ডি’অর। সেই প্রতিষ্ঠানটিই পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়াটা ইনিয়েস্তার জন্য ব্যালন ডি’অর জয়ের মতোই গৌরবের! ফ্রান্স ফুটবল-এর সম্পাদক প্যাসকল ফেরে সম্পাদকীয়তে ফ্রেঞ্চ ভাষায় লিখেছেন ‘পেরদন আন্দ্রেস।’ যার আভিধানিক বাংলা অর্থ, ‘আমাদের ক্ষমা করো আন্দ্রেস।’ প্যাসকলের এই ক্ষমা চাওয়ার পেছনে অন্য একটা কারণও আছে। মেসি-রোনালদোর সঙ্গে পেরে উঠেননি বলেই যে ইনিয়েস্তা ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি, এমনটা মনে করেন না প্যাসকল। ফ্রান্স ফুটবল সম্পাদক বরং মনে করেন, দুবার এই পুরস্কারটা পাওয়ার যোগ্য দাবিদার ছিলেন ইনিয়েস্তা। অন্তত একবার তো এটা তিনি পেতেই পারতেন। সেটা ২০১০ সালে। কিন্তু আয়োজকদের অনিয়ম, পক্ষপাতিত্বের কারণে পুরস্কারটা ইনিয়েস্তার হাতে উঠেননি! তাকে দ্বিতীয় বানিয়ে সেবার পুরস্কারটি জেতে নেন লিওনেল মেসি। প্যাসকল সরাসরি সাল উল্লেখ করেননি। তবে লেখার ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, ২০১০ সালে ব্যালন ডি’অরের সত্যিকার দাবিদার ছিলেন ইনিয়েস্তা। আয়োজকদের পক্ষপাতিত্বে সেটা উঠে মেসির হাতে! প্যাসকল ব্যালন ডি’অর দেয়ার পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন বাহারি এক উপমায়। লিখেছেন ‘গণতান্ত্রিক অনিয়মের’ কথা। মানে আয়োজকদের ‘গণতান্ত্রিক অনিয়মের’ কারণেই ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি ইনিয়েস্তা। আর সে জন্যই তিনি ক্ষমা চেয়েছেন ইনিয়েস্তার কাছে। আয়োজকদের অনিয়মের দায়টা ফ্রান্স ফুটবলের কাঁধেও বর্তায়। কারণ, ব্যক্তিগত এই পুরস্কারটি দিয়ে থাকে তারাই। কিন্তু এর মধ্যেও একটু ফারাক আছে। ২০১০ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলের পুরস্কার দুটি মিলে একক পুরস্কার করা হয়। যে পুরস্কারটি যৌথভাবে আয়োজন করে ফ্রান্স ফুটবল ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা মিলে। পুরস্কারটির নামও বদলে হয়ে যায় ফিফা ব্যালন ডি’অর। কিন্তু ফিফা মানেই তো অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্বের আখড়া। সেই ১৯৫৬ সালে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের প্রবর্তন করে ফ্রান্স ফুটবল। সেই থেকে প্রতি বছরই পুরস্কারটি দিয়ে আসছিল তারা।
কিন্তু ১৯৫৬ থেকে ২০০৯, দীর্ঘ এই সময়ে কখনোই এই পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন উঠেনি। বরং স্বচ্ছতার জন্য সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। ব্যালন ডি’অরের মর্যাদাও তাই আলাদা। কিন্তু ফিফার সঙ্গে একিভূত হওয়ার পর প্রথম বছরেই ফিফা ব্যালন ডি’অরের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অস্বচ্ছতার প্রশ্ন ওঠে। বাণিজ্যের স্বার্থে প্রভাব খাটিয়ে ফিফা পুরস্কার প্রদানেও পক্ষপাতিত্বের পথে হাঁটে। ঢুকিয়ে ফেলে রাজনীতি। বিষয়টি নিয়ে বনিবনা না হওয়াতেই ২০১৬ সালে আবার পুরস্কারটি আলাদা করে ফেলা হয়। গত দুই বছর ধরে ফ্রান্স ফুটবল আবার এককভাবে পুরস্কারটি দিচ্ছে।
শর্ট প্রোফাইল অব আন্দ্রে ইনিয়েস্তা
নাম : আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা লুজান
জন্ম তারিখ : ১১-৫-১৯৮৪
জন্ম স্থান : স্পেন
ক্লাব : বার্সেলোনা (২০০২-১৮)
ম্যাচ ও গোল : সাড়ে ৬শ’র বেশি ম্যাচে অর্ধশতাধিক গোল
জাতীয় দল : স্পেন (২০০৬ থেকে)
ম্যাচ ও গোল : ১২৫ ম্যাচে ১৩ গোল
শিরোপা : ২০১০ বিশ্বকাপ, ২০০৮ ও ২০১২ ইউয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউরো), ৮ লা লিগা, ৬ কোপা দেল রে, ৭ স্প্যানিশ সুপার কাপ, ৪ ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, ৩ ইউয়েফা সুপার কাপ, ৩ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ