বুধবার ১৬ জুন ২০১০
Online Edition

জেলখানা থেকে লেখক হয়ে ফেরা

নয়াদিল্লী থেকে বাসস : নগেন্দ্র সিং পারিহারকে যখন ২০০১ সালে গ্রেফতার করা হয় তখন তার বয়স ছিল ২৮ বছর। তখন তার স্বপ্ন ছিল তিনি কবি হবেন এবং একদিন সুনাম কুড়াবেন। জেলখানায় গেলেও তিনি স্বপ্ন পূরণের পথে থেমে থাকেননি। গত মাসে তিনি যখন মধ্যপ্রদেশের রাওয়া কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তখন ৭টি উপন্যাস, কয়েক ডজন ছোট গল্প, একটি নাটক ও শতাধিক কবিতার পান্ডুলিপিতে তার ট্রাংক বোঝাই ছিল। সবগুলো লেখা তিনি বই হিসাবে প্রকাশের আশা করছেন। ৯ বছরের কারা জীবনে তিনি শুধু লেখালেখিই নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন না। এ সময় তিনি লেখাপড়াও করেন এবং রাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিন্দি ও ইংরেজি সাহিত্য এবং সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি প্রয়ান সঙ্গীত সমিতি থেকে সঙ্গীতের ওপর ডিপ্লোমা করেন। এ সময় তিনি কম্পিউটার বিষয়েও ডিপ্লোমা করেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় পারিহারের এ কাহিনী ছাপা হয়। পত্রিকাটিতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পারিহার বলেন, আমি লিখিত শব্দের শক্তিতে পূর্ণরূপে বিশ্বাসী। জেলখানায় আমার প্রথম লিখিত কবিতার নাম গুমনাম নেহি মরুঙ্গা (আমি নামহীনভাবে মরবো না)। তারা আমার দেহকে বন্দি করে রাখতে পারে কিন্তু আমাকে নয়। মধ্য প্রদেশের শাহদলের একজন অধিবাসী জানান, ১৯০১ সালের ২০ এপ্রিল তার স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পারিহারের শ্বশুর-শাশুড়ি তার বিরুদ্ধে খুন ও নির্যাতনের মামলা করে। এ মামলায় মা-বাবাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। ২০০২ সালের আগস্টে শাহদলের একটি আদালত তাকে কারাদন্ড দেয়। তার বাবা-মা জামিনে মুক্তি পায়। কিন্তু পারিহার জেলখানায়ই রয়ে যান। গত মাসে জববলপুরের হাইকোর্ট পারিহার ও তার মা-বাবাকে খুনের অভিযোগ থেকে রেহাই দেয়। কারাগারে পারিহার একজন অস্বাভাবিক পৃষ্ঠপোষক পেয়ে যান। তিনি হচ্ছেন সিনিয়র জেলর সুরেন্দ্র সিং। পারিহারের মুক্তিতে তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, অবশেষে পারিহার মুক্তি পেয়েছেন। তিনি নির্দোষ। তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। তাকে হত্যা করা হয়নি। সুরেন্দ সিং বলেন, আমার ২৭ বছরের চাকরি জীবনে এমন একজন কারাবন্দিকে দেখিনি। তিনি প্রচুর পড়েন এবং সব সময়ই কিছু না কিছু লেখেন। সুরেন্দ্র সিং এমনকি কয়েকটি বইয়ের পান্ডুলিপি পর্যন্ত প্রকাশকদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু খুনের মামলায় সাজা হওয়ার কারণে কেউ তার লেখা ছাপতে চায়নি। এখন পারিহার মুক্ত। তিনি নতুন করে প্রকাশক খোঁজার পরিকল্পনা করছেন। জেলখানায় পারিহার শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ৬শয়ের বেশি লোককে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। তারা জেলখানায় আসার সময় রেজিস্ট্রার খাতায় আঙ্গুলের ছাপ দিতো আর যাওয়ার সময় নিজ নাম স্বাক্ষর করে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ