ঢাকা, শুক্রবার 4 May 2018, ২১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এসএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে তবে পরীক্ষা বাতিল হবে না ---শিক্ষামন্ত্রী 

 

স্টাফ রিপোর্টার: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এসএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তবে পরীক্ষা বাতিল করা হবে না। এদিকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এমসিকিউ থাকছে না বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ একথা জানান। একই সঙ্গে লিখিতভাবেও প্রতিবেদনের তথ্য সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০ লাখ ছেলেমেয়েকে আবার পরীক্ষা নিয়ে বিড়ম্বনায় ফেলতে চাই না।

সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় ১৭টি বিষয়ের মধ্যে ১২টি বিষয়ে শুধু এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী প্রশ্ন) অংশের ‘খ’ সেট প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। তবে সৃজনশীল অংশের প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়েছে। তবে কমিটি ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর ভোগান্তির কথা চিন্তা করে পুনরায় পরীক্ষা না নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ক্লোজ গ্রুপে এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এই গ্রুপের মাধ্যমে বড় জোর চার থেকে পাঁচ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তে প্রশ্ন পেয়ে থাকতে পারে। এই জন্য কমিটি ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর ভোগান্তির কথা চিন্তা করে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা না নেওয়ার সুপারিশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্মুক্তভাবে কোনো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। ক্লোজ গ্রুপের মাধ্যমে নগণ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে বা কাছাকাছি সময়ে প্রশ্ন পেয়েছে। এই ধরনের ক্লোজ গ্রুপের একেকটিতে ১০ থেকে ১০০ জনের মতো সদস্য রয়েছে। তবে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয়। ফলে ১৫-২০ মিনিটি আগে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এতে সামগ্রিকভাবে খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশে মোট চার সেট প্রশ্ন থাকে। এমসিকিউ অংশের মোট নম্বর ৩০।

গত ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষায় এবার একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি গত মার্চ মাসেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। গতকাল শিক্ষামন্ত্রী তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।

এদিকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায়ও এমসিকিউ আর থাকছে না। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই দুই পরীক্ষার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভা শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এ কথা জানান। 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, পুলিশ, র‌্যাব, এনএসআই, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকতা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। 

মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, জেএসসি ও জেডিসিতে এমসিকিউ আর থাকছে না। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনে আমরা এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতে অন্যান্য পরীক্ষায়ও বড় ধরনের পররিবর্ত আনা হবে। এবার জেএসসি ও জেডিসিতে নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্ন তুলে দিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন দেয়া হবে। প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেবে।

তিনি বলেন, চলমান পদ্ধতিতে পাবলিক পরীক্ষা হলে প্রশ্নফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে আমরা পাবলিক পরীক্ষাগুলোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার আলোকে চলতি বছর শুরু হতে যাওয়া জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় পরিবর্তন আনা হবে।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এ বছর থেকেই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়ও এমসিকিউ থাকছে না বলে জানিয়েছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ