ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে চাপ দেবে আমেরিকা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে  মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শেখ হাসিনাকে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প বলছেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টির তৈরির জন্য আমেরিকা মিয়ানমারের প্রতি চাপ অব্যাহত রাখবে।’

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই চিঠি হস্তান্তর করেন।

বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন নেই যে, এই সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ী মিয়ানমারকে অবশ্যই জবাবদিহিতা করতে হবে।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে উদার মানবিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া একটি বিরাট বোঝা, তবে বিশ্ববাসী জানে বাংলাদেশের পদক্ষেপে হাজার হাজার জীবন রক্ষা পেয়েছে।

 

রোহিঙ্গা শরণার্থী

ট্রাম্প চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনার পদক্ষেপে বাংলাদেশের জনগণের চরিত্র ও দৃঢ়তা প্রতিফলিত হয়েছে, এটি তারা অর্জন করেছে ১৯৭১-এর কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি আশা করি বাংলাদেশ এই নেতৃত্ব অব্যাহত রাখবে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের প্রাক্কালে ভূমিকা পালন করবে যা গোটা বিশ্ব থেকে বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে।’

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পত্র দেয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানান।

 শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়ায় স্থানীয় জনগণের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানকার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউএসএইড বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের সহায়তার জন্য কর্মসূচি নিয়ে থাকে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সমস্যা লাঘবে ইউএন সিস্টেমের অধীনে ইউএসএইড কাজ করে যাচ্ছে। ইউএসএইড প্রেসিডেন্ট মার্ক গ্রিন, কার্টার সেন্টারের সিইও ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ম্যারি অ্যান পিটার্স বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে খুব শিগগির বাংলাদেশ সফর করবেন বলে বার্নিকাট প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ