বুধবার ১৬ জুন ২০১০
Online Edition

ফুলগাজী-কুতুবদিয়া ও কালাইয়ে সড়ক-সেতুর উন্নয়ন নেই\ যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি

পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতা : ফুলগাজীর মুন্সীরহাট সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ইট, সুরকি ও পিচ উঠে গিয়ে সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে। এ কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, ফেনী-বিলোনিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলগাজী উপজেলার পুরাতন মুন্সীরহাট সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে বেশি গাড়ি চলাচল করায় এসব গাড়ি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মুন্সীরহাট বাজারেই রয়েছে আলী আজ্জম হাইস্কুল এন্ড কলেজ, মুন্সীরহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা, মুন্সীরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান। দুই শতাধিক দোকানপাটও রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ এ সড়ক দিয়েই চলাচল করে। অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। একটুখানি বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে থাকে সড়কটি। বর্ষা মওসুমে সড়কটিতে চলাচল করার অযোগ্য হয়ে পড়ে। সিএনজিচালক ওয়াহিদ জানান, সামান্য বৃষ্টি হলে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে মুন্সীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার মহিউদ্দিন জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী ও ছাত্রছাত্রীরা এ সড়ক মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। কুতুবদিয়া কুতুবদিয়ায় বর্ষার শুরুতেই অভ্যন্তরীণ ৫টি রুটে যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচলে প্রায় ৪০ কি.মি. সড়কের মধ্যে ৩০ কি.মি. রোডই বন্ধ রয়েছে। উপজেলা সদর বড়ঘোপ টু আলী আকবর ডেইল তাবালের চর, কলেজ রোড, দরবার রোড, ধুরুং বাজার থেকে উত্তর ধুরুং আকবর বলীঘাটসহ প্রায় ৩০ কি.মি রুটে গাড়ি চলছে না। আবহাওয়া ভাল থাকলে উপজেলা সদর থেকে ধুরুং বাজার, উত্তর ধুরুং, লেমশীখালী, আলী আকবর ডেইল, তাবালের চর পর্যন্ত প্রায় সবগুলো গাড়ি যাতায়াত করে থাকে। সড়কগুলোর বেহালদশার কারণে বৃষ্টি হলেই বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন। শুধু ধুরুং বাজার পর্যন্ত ৭ কি.মি. যাতায়াত করে তখন। গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে ব্রিক্সসলিন সড়কের খানা-খন্দকগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রিকশা চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। আলী আকবর ডেইল থেকে ঘাটকুইল্যার পাড়া নামক স্থানে ২ কি.মি জুড়ে কাঁচা রাস্তা থাকায় বন্দ রয়েছে যান চলাচল। এছাড়া কলেজ রোড হয়ে লেমশীখালী রুটে গত এক বছর যাবৎ সড়ক ভাঙা থাকায় যাত্রীবাহী জীপ চলাচল করছে না বলে লাইন্সম্যান মোঃ শাহজাহান জানান। উপজেলায় বর্তমানে ৪৮টি যাত্রীবাহী জীপ চলাচল করছে। বৃষ্টিপাতের কারণে গাড়িগুলো শুধু ৭ কি.মি রুটে যাতায়াত করছে কয়েকটি গাড়ি। বাকি গাড়িগুলো বন্ধ। এ কারণে অনেক চালক, হেলপার বেকার হয়ে পড়েছে বলে কুতুবদিয়া গাড়ি শ্রমিক সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম জানান। অপরদিকে আজম রোডে বড়ঘোপ থেকে ঘিলাছড়ি পর্যন্ত ২ কি.মি জুড়ে শতাধিক ছোট-বড় গর্ত থাকায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলছে গাড়ি। যাত্রীরা আশংকায় থাকে দুর্ঘটনার। প্রায়ই সেখানে ঘটছে দুর্ঘটনা। গত শুক্রবারে এক শিশু গাডি দুর্ঘটনায় মারা যায়। খানা-খন্দকে ভরা সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের। সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টিতে আরো বড় হচ্ছে গর্তগুলো। সংস্কার না থাকায় চলছে না যাত্রীবাহী গাড়ি। প্রবল বর্ষণ ও শিশু ডায়রিয়া, নিউমোনিয়ার প্রকোপের মওসুমে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা যাত্রীরা পায়ে হেঁটে কিংবা রিকশায় ৩ গুন ভাড়া দিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাসালে যেতে হচ্ছে। এতে জনসাধারণের ভোগান্তি ছাড়াও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে কয়েক গুন। এমতাবস্থায় যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে জরুরিভাবে বেহালদশার সড়কগুলো সংস্কার হবে এ প্রত্যাশা দ্বীপবাসীর। কালাই (জয়পুরহাট) কালাই উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র কালাই বাসস্ট্যান্ডটি একটি তেমাথায় অবস্থিত। মোকামতলা-জয়পুরহাট সিএন্ডবি রাস্তার সঙ্গে কালাই-ক্ষেতলাল রাস্তার মিলনস্থলে এই বাসস্ট্যান্ড অবস্থান করছে। এই স্থানটি যাত্রা শুরু হয় বাসস্ট্যান্ড দিয়ে। এরপর যোগ হয় রিকশা-ভ্যান স্ট্যান্ড সেই সঙ্গে সংযুক্ত হয় বেবিটেক্সি স্ট্যান্ড, সাম্প্রতিককালে যোগ দেয় ভটভটি (যান্ত্রিক তিন চাকা)। এই মিলে চারটি স্ট্যান্ড একই স্থানে অবস্থিত হওয়ায় সবসময় যানজট লেগেই থাকে। দু' একদিন পর পর মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। কালাই সদরে ১০/১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরুর সময় ও ছুটি হওয়ার সময় প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া সপ্তাহে দু'দিন শনিবার ও বুধবার কালাই হাটের দিন হওয়াতে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হলে দীর্ঘসময় ধরে রাস্তা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করা হলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি উপজেলা আইনশৃক্মখলার সভায় উক্ত বাসস্ট্যান্ডের ব্যাপারে আলোচিত হলেও কোনরূপ কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ বাসস্ট্যান্ডে স্পিডব্রেকারসহ ট্রাফিক নিয়োগ জনস্বার্থের জন্য জরুরি বলে সচেতন মহল দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ